এম মাঈন উদ্দিন মিরসরাই (চট্টগ্রাম)
চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার অন্যতম আকর্ষণীয় প্রাকৃতিক পর্যটনকেন্দ্র রূপসী ঝরনার রূপ দেখতে ভিড় করছেন শত শত ভ্রমণপিপাসু মানুষ। যাতায়াত ব্যবস্থা তুলনামূলক সহজ হওয়ায় অন্যান্য ঝরনার চেয়ে এখানে প্রকৃতিপ্রেমীদের ঢল বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। সবুজ পাহাড় আর ঝরনার কলকল ধ্বনিতে মুখরিত এই স্থানটি এখন যেন এক প্রাণবন্ত মিলনমেলা।
পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথ পেরিয়ে প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের টানে ছুটে আসছেন পর্যটকেরা। ঝরনার শীতল পানিতে জলকেলি, বন্ধুদের সাথে আড্ডা আর ছবি তুলে স্মৃতিবন্দী করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা। পরিবার-পরিজন নিয়ে অনেকেই কাটাচ্ছেন আনন্দঘন মুহূর্ত। রূপসী ঝরনার প্রথম দেখায় যে কেউ মুগ্ধ হতে বাধ্য। মেঘের মতো উড়ে আসা শুভ্র পানি আর তার শীতল পরশ মুহূর্তে পর্যটকদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়। কর্মব্যস্ত জীবনের একঘেয়েমি দূর করে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কিছুটা স্বস্তি খুঁজতেই ভ্রমণপিপাসুরা এখানে ছুটে আসেন।
ঢাকা থেকে আসা পর্যটক ইকবাল কবির মোহন বলেন, মিরসরাইয়ের অনেকগুলো ঝরনায় যাওয়া হলেও রূপসী ঝরনায় প্রথমবার এলাম। রেললাইন পার হয়ে মূল ঝরনা পর্যন্ত আসার দুপাশের সবুজ পাহাড়ের গাছগাছালি আমাকে মুগ্ধ করেছে। রাঙ্গামাটি থেকে ছুটিতে বাড়িতে আসা আব্দুস সালাম বলেন, বন্ধুদের নিয়ে ঝরনায় বেড়াতে এসেছি। ঝরনার পানিতে গোসল করা অন্যরকম এক প্রশান্তি। পর্যটকদের এই বিপুল আগমনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাড়তি প্রাণচাঞ্চল্য দেখা গেছে।
রূপসী ঝরনার ইজারাদার এস এম হারুন জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক থেকে দূরত্ব কম এবং যাতায়াত পথ সহজ হওয়ায় এখানে বেশি পর্যটক আসেন। পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য গাইড সাথে রাখার পরামর্শ দেয়া হচ্ছে। এ ছাড়া দুর্ঘটনাপ্রবণ এলাকাগুলোতে সচেতনতামূলক ব্যানার ও ফেস্টুন টাঙানো হয়েছে।
যেভাবে যাবেন : দেশের যেকোনো স্থান থেকে বাসযোগে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ‘বড়দারোগাহাট’ বাজারে নামতে হবে। এরপর বাজারের উত্তর পাশের ব্রিকফিল্ড সড়ক দিয়ে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় পাহাড়ের পাদদেশ পর্যন্ত যাওয়া যাবে। সেখান থেকে পায়ে হেঁটে মূল ঝরনায় পৌঁছানো যায়। এ ছাড়া মহাসড়কের ব্রিকফিল্ড সড়কের মাথায় বাস থেকে নেমে অটোরিকশা ছাড়াও আধা কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে ঝরনার ট্রেইলে প্রবেশ করতে পারবেন।



