নিজস্ব প্রতিবেদক
২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে দেশের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদার ও সশস্ত্রবাহিনীর আধুনিকায়নে প্রতিরক্ষা খাতের জন্য মোট ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। বিদায়ী অর্থবছরের ৪০ হাজার ৬৯৮ কোটি টাকা বাজেটের তুলনায় এই খাতে বরাদ্দ বাড়ানো হয়েছে এক হাজার ৭৮৯ কোটি টাকা। গত বছরের তুলনায় এই বছরে বাড়ছে ৩.৯১ শতাংশ। সরকারের এই বিশাল সামরিক বরাদ্দ দেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপির প্রায় ১.৩ শতাংশের কাছাকাছি।
বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে প্রতিরক্ষা খাতে বরাদ্দের চূড়ান্ত পরিমাণ ছিল ৪০ হাজার ৫০২ কোটি টাকা। দেশের নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে নতুন অর্থবছরে এই খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে প্রস্তাবিত এই বাজেটের বেশির ভাগ টাকাই ব্যয় হবে সামরিক বাহিনীর নিয়মিত পরিচালন খাতে।
বাজেটের পুঙ্খানুপুঙ্খ তথ্য ও খাতভিত্তিক উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, মোট ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা বরাদ্দের মধ্যে ডিফেন্স সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় হিসেবে সবচেয়ে বড় অংশ তথা ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। মূলত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতনভাতা, রেশন এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ বাবদ এই অর্থ ব্যয় হবে। অন্য দিকে সশস্ত্রবাহিনীর কাঠামোগত সংস্কার, আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ক্রয় ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামোগত উন্নয়নের জন্য উন্নয়ন ব্যয় হিসেবে ধরা হয়েছে এক হাজার ৬১১ কোটি টাকা। এর বাইরে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ অন্যান্য প্রশাসনিক ও বেসামরিক সার্ভিসের পরিচালন ব্যয় বাবদ আরো এক হাজার ৯১৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে।
গতকালের প্রস্তাবিত বাজেটের মধ্যে প্রতিরক্ষা সার্ভিস খাতে পরিচালন ব্যয় ৩৮ হাজার ৭২১ কোটি ও উন্নয়ন খাতে মাত্র এক হাজার ৬১১ কোটি টাকা উল্লেখ করা হয়। প্রতিরক্ষার অন্যান্য সার্ভিসের পরিচালন খাতে এক হাজার ৯১৫ কোটি টাকা এবং সশস্ত্রবাহিনী বিভাগের (এএফডি) পরিচালন খাতে ৪৪ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। সবমিলে ৪২ হাজার ২৯১ কোটি টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।
২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতিরক্ষা খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যাবলি, প্রকল্প বা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সেগুলো হচ্ছে- মোংলা কমান্ডার ফ্লোটিলা ওয়েস্টের (কমফ্লোস্ট ওয়েস্ট) অবকাঠামো উন্নয়ন (প্রথম সংশোধিত), ঢাকা সেনানিবাসে ক্যান্সার সেন্টার নির্মাণ (দ্বিতীয় পর্যায়), সাভার আর্মি ইনস্টিটিউট অব ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহ্যাবিলিটেশনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন, ঢাকা সেনানিবাসে নির্দিষ্ট আবাসিক এলাকায় ‘বি’ টাইপ অফিসার্স বাসস্থান নির্মাণ, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ (জলাল) মিলিটারি ফার্ম আধুনিকীকরণ (প্রথম সংশোধিত), চট্টগ্রামে বিএএফ ঘাঁটি জহুরুল হকে বিমানচালনা প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট স্থাপন (দ্বিতীয় সংশোধিত), সামরিক ভূমি ও ক্যান্টনমেন্ট অধিদফতর এবং ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত অফিস কমপ্লেক্স নির্মাণ, বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ঘাঁটি পাহাড়কাঞ্চনপুর এলাকায় অতিরিক্ত সার্ভে স্থাপন (প্রথম সংশোধিত), ঢাকা বিমানবাহিনী ঘাঁটি কুর্মিটোলায় একটি সর্বাধুনিক ‘জেট-এ-১’ ফুয়েল ফিল্টারিং স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভৌত অবকাঠামো নির্মাণ, চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ডকইয়ার্ড টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটের অবকাঠামো উন্নয়ন ও পরিবর্ধন এবং রামু সেনানিবাসে পানির সমস্যা সমাধানের জন্য একটি পানি বিশুদ্ধকরণ প্ল্যান্ট ব্যবস্থাকরণ।



