স্কুলশিক্ষিকাকে হাতুড়ি দিয়ে হত্যার নেপথ্যে কে?

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition
  • বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে ২৫ বছর আগে
  • পরিবারের সাথে যোগাযোগ ছিল না ফিরোজার

রাজধানীর পল্লবীতে ফিরোজা খানম ওরফে জোছনা (৬৮) নামের এক বৃদ্ধা স্কুল শিক্ষিকাকে হাতুড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। কী কারণে হত্যা করা হয়েছে- এ বিষয়টি নিয়ে গভীর তদন্তে নেমেছে থানা পুলিশ। ২৫ বছর আগে বিবাহবিচ্ছেদ হলেও তার কোনো শত্রু ছিলো কি না তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। টিউশনি শেষ করে প্রায়ই রাত ১০টার পরে বাসায় ফিরতেন ফিরোজা। তবে দীর্ঘ সময় আত্মীয়স্বজন ও পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলেন তিনি।

এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পল্লবী থানায় মামলা হলেও দুই দিনেও কাউকে শনাক্ত করতে পারেননি তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মো: মোস্তাক সরকার বলেন, ধারণা করা হচ্ছে- মাথায় হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে তাকে হত্যা করা হয়েছে। তাৎক্ষণিক হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। হত্যাকারীকে শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে।

জানা গেছে, ফিরোজা স্থানীয় হলি ক্রিসেন্ট আইডিয়াল স্কুল নামের একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ছিলেন। তিনি মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের ‘ডি’ ব্লকের ৮ নম্বর সড়কের ২৯ নম্বর ছয়তলা ভবনের দোতলার একটি কক্ষে একাই ভাড়া থাকতেন। প্রায় ২৫ বছর আগে বিয়ের কিছুদিন পরই স্বামীর সাথে তার বিচ্ছেদ হয়। এরপর থেকে একাই থাকতেন ফিরোজা। তিন কক্ষের ওই ফ্ল্যাটের একটিতে থাকতেন তিনি। পাশের কক্ষে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজু মুন্সি নামের এক ব্যক্তি ভাড়া থাকেন। অন্য কক্ষটি ফাঁকা, সেটি ভাড়া দেয়ার জন্য ভবনের ফটকে ‘টু-লেট’ টানানো রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আল-আমিন বলেন, ঘটনাস্থল থেকে একটি হাতুড়িসহ রক্তমাখা ওড়না পাওয়া গেছে। ফিরোজার মাথার বাঁ দিকে ও মাঝখানে থেঁতলানো জখম ছিল। এ ছাড়া তার থুতনির ওপরেও আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। কিন্তু কে বা কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে সে বিষয়টি তদন্ত করতে মাঠে কাজ করছে পুলিশ। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে সন্দেহভাজন বেশ কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে এ হত্যাকাণ্ডের সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুতই গ্রেফতার করা হবে।

ওই ভবনের নিরাপত্তাকর্মী আবদুল মান্নান জানান, ফিরোজা কিন্ডারগার্টেনে শিক্ষকতার পাশাপাশি বিভিন্ন বাসায় টিউশনি করতেন। প্রতিদিন সকালে বাসা থেকে বের হতেন তিনি। মাঝেমধ্যে দুপুরে ফিরলেও বেশির ভাগ সময় রাত ১০টার দিকে বাসায় ফিরতেন। গত বৃহস্পতিবার সকালেও তিনি বাসা থেকে বের হয়ে রাত ১০টায় ফেরেন। তবে শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টা বেজে গেলেও বাসা থেকে বের না হওয়ায় তার খোঁজ নিতে দোতলায় যান ওই নিরাপত্তাকর্মী।

ফ্লাটের দরজা খোলা দেখে নিরাপত্তাকর্মী নিচে এসে স্থানীয় বাসিন্দা মহিউদ্দিনকে বিষয়টি জানান। পরে তারা ঘরে গিয়ে ফিরোজাকে রক্তাক্ত অবস্থায় বিছানায় পড়ে থাকতে দেখেন। খবর পেয়ে পল্লবী থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ক্রাইম সিন ইউনিট ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করে। নিহত শিক্ষিকার গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের মুন্সিপাড়া থানার কৃষ্ণপুরে। তার ভাই ফিরোজ আলম বলেন, ফিরোজার সাথে পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের কোনো যোগাযোগ ছিলো না। তবে জানতেন তিনি একটি স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবে চাকরি করেন। নিজের খরচ নিজেই বহন করতেন। তার কোনো শত্রু ছিলো কি না বা কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে জানতে চাইলে কিছুই বলেননি ভাই ফিরোজ। সবকিছু থানা-পুলিশ দেখবে বলে জানান তিনি।