সাতক্ষীরা প্রতিনিধি
সুন্দরবনে তিন মাসের নিষেধাজ্ঞা চলাকালে অবৈধভাবে মধু আহরণের অভিযোগে ১১ মৌয়ালকে আটক করেছে বন বিভাগ। এ সময় তাদের কাছ থেকে প্রায় এক হাজার কেজি মধু ও দু’টি নৌকা জব্দ করা হয়। গত শুক্রবার সকালে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের টেংরাখালী বন টহল ফাঁড়ির সদস্যরা গহীন সুন্দরবনের পিনমারি খাল এলাকা থেকে তাদের আটক করে। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করে আদালতে পাঠানো হয়।
আটক ব্যক্তিরা হলেন- আমজাত হোসেন (৬৪), কামরুল শেখ (৪৫), আল-আমিন (৪০), আছান হাবিব (৩৫), রাব্বানী (৩৫), হায়াত আলী গাজী (৫৫), মোবারক শেখ (৩২), বাবলু রহমান (৩০), মনিরুল খাঁ (৩৮), আবিয়ার মালী (৪৫) ও কবিরুল ইসলাম (৪৫)। আটক ব্যক্তিরা সবাই সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের সোরা গ্রামের বাসিন্দা।
পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক (এসিএফ) মশিউর রহমান বলেন, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সুন্দরবনে প্রবেশ করে মধু সংগ্রহ শেষে ফেরার পথে টেংরাখালী টহল ফাঁড়ির সদস্যরা তাদেরকে আটক করে। এ সময় তাদের কাছ থেকে এক হাজার কেজি মধু ও দু’টি নৌকা জব্দ করা হয়। পরে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
তবে আটক হওয়া মৌয়ালদের অভিযোগ, বন বিভাগের দালাল জালাল মোল্লার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে তারা সুন্দরবনে প্রবেশ করেছিলেন। গত ১ জুন থেকে সুন্দরবনে সব ধরনের প্রবেশ নিষিদ্ধ থাকলেও ওই চুক্তির ভিত্তিতেই তারা মধু সংগ্রহের জন্য বনে যান। শুক্রবার (১২ জুন) ফেরার পথে বনবিভাগের সদস্যরা তাদের আটক করে।
এ বিষয়ে এসিএফ মশিউর রহমান বলেন, এমন অভিযোগ তিনি প্রথমবারের মতো শুনছেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত জালাল মোল্লা চুক্তির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, গত ১৫ মে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে বৈধভাবে তিনটি নৌকার পাস করিয়ে মৌয়ালদের সুন্দরবনে পাঠানো হয়েছিল। পরে দু’টি নৌকা বনদস্যুদের কবলে পড়ায় তারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ফিরে আসতে পারেননি।



