জামায়াত নয়, ধর্ম নিয়ে ব্যবসা করে বিএনপি : পরওয়ার

রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠায় স্বাধীন সচিবালয়ের অপমৃত্যু : ডা: শফিক

Printed Edition
বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত
বায়তুল মোকাররম মসজিদের দক্ষিণ গেটে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরীর সমাবেশে বক্তব্য রাখেন মিয়া গোলাম পরওয়ার : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিচারের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশভাবে প্রতিষ্ঠা করতে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু ঘটানো হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীন বিচার বিভাগীয় সচিবালয়ের অপমৃত্যু আর তা ঘটানো হয়েছে কেবল গতকালই। বার্তা স্পষ্ট, বিচারের ওপর রাজনৈতিক প্রভাব ও কর্তৃত্ব নিরঙ্কুশভাবে প্রতিষ্ঠা করা। অথচ এই সরকারই বিচার বিভাগকে পূর্ণ স্বাধীনতা ও শক্তিশালী করার প্রত্যয় ঘোষণা করেছিল।

গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকের এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই অপসংস্কৃতিকে ঘৃণা করি। এর পরিবর্তন একদিন এই বাংলার মাটিতেই হবে, ইনশাআল্লাহ।

মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের প্রতিবাদ : বিএনপি মহাসচিব ও এলজিআরডিমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে জামায়াতে ইসলামীকে জড়িয়ে উসকানিমূলক, অসত্য ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দিয়েছেন অভিযোগ করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ার এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে যে গৎবাঁধা মিথ্যাচার ও বিষোদ্গার করেছেন, তা অত্যন্ত দুঃখজনক, অনভিপ্রেত ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব এবং সস্তা জনপ্রিয়তা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মতো একটি সুশৃঙ্খল ও গণমুখী ইসলামী দলের বিরুদ্ধে ন্যক্কারজনকভাবে কুৎসা রটানোর পথ বেছে নিয়েছেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার আরো বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেছেন ‘আমরা নাকি ধর্মের নামে রাজনীতি করি বা মিথ্যা বলি।’ অথচ দেশবাসী ভালো করেই জানেন, জামায়াতে ইসলামী একটি নিয়মতান্ত্রিক, আদর্শিক ও প্রকাশ্য ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক দল। আমরা ধর্ম নিয়ে কখনো কোনো ধরনের হীন ব্যবসা বা চাতুরীর আশ্রয় নেই না। বরং ধর্ম নিয়ে প্রকৃত ব্যবসা ও ভণ্ডামি করে বিএনপি নিজেই। সারা বছর তাদের বড় বড় নেতাদের নামাজের কোনো খবর থাকে না, অথচ নির্বাচন ঘনিয়ে আসলেই তাদের গায়ে পাজামা-পাঞ্জাবি ও মাথায় টুপি চড়ে, হাতে তসবিহ দেখা যায় এবং আতর মেখে মসজিদে ঢুকতে দেখা যায়। জনগণের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করে ক্ষমতায় যাওয়ার এই সস্তা ও ভণ্ডামিপূর্ণ রাজনীতি বিএনপির জন্যই বেশি প্রযোজ্য, জামায়াতের নয়।

তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অমূলক দাবি করেছেন ‘এ দেশের মানুষ জামায়াতকে কোনো দিন ক্ষমতায় বসাবে না।’ উনাকে স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, জামায়াতে ইসলামী এ দেশের কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেয়া একটি দল। অতীতে একাধিকবার সংসদ নির্বাচনে দেশপ্রেমিক জনতা জামায়াতকে ভোট দিয়ে সংসদে পাঠিয়েছে এবং আমাদের মন্ত্রীরা সততা ও দক্ষতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনার নজির স্থাপন করেছেন। জনগণের এই রায়কে যারা অস্বীকার করে, তারা আসলে গণতন্ত্রেই বিশ্বাস করে না।

গোলাম পরওয়ার বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ের সভায় দেশবাসীকে বিভ্রান্ত করার হীনউদ্দেশ্যে যে সস্তা নাটক তিনি মঞ্চস্থ করার অপচেষ্টা করেছেন, তা তার মতো একজন সিনিয়র রাজনীতিকের কাছে কখনো কাম্য নয়। অপপ্রচার চালিয়ে মিথ্যাকে সত্যে পরিণত করা যায় না।

জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে জামায়াতকে জড়িয়ে তিনি যে পুরনো ও অসত্য বয়ান দিয়েছেন, তা রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ছাড়া আর কিছুই নয়। জামায়াতে ইসলামী সব সময় দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বাধীনতার পক্ষে অতন্দ্র প্রহরীর মতো ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও পালন করবে ইনশাআল্লাহ।

জাতীয় ক্রিকেট দলকে অভিনন্দন : জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান এমপি এক বিবৃতিতে বলেন, পাকিস্তানের বিপক্ষে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজে দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে ২-০ ব্যবধানে ঐতিহাসিক বিজয়লাভ করায় বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের খেলোয়াড়, কোচ ও ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) সংশ্লিষ্ট সবাইকে আমি, আমার দল এবং দেশবাসীর পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি। তিনি আরো বলেন, মিরপুরের পর সিলেটেও আমাদের ক্রিকেট দল যে অসাধারণ ও দুর্ভেদ্য কৃতিত্ব দেখিয়েছে, তা সমগ্র জাতিকে এক অনন্য গৌরব এনে দিয়েছে। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্টে পাকিস্তানকে ৭৮ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে এই ঐতিহাসিক সিরিজ জয় আমাদের ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অর্জন। বিশেষ করে পাকিস্তানের বিপক্ষে টানা চার টেস্ট ম্যাচ জয়ের এই রেকর্ড টাইগারদের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও সামর্থ্যেরই প্রমাণ বহন করে। তিনি বলেন, খেলার ৫ম দিনে পাকিস্তানের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে বাংলাদেশের সাহসী ও মেধাবী ক্রিকেটাররা অসাধারণ দক্ষতা, আত্মবিশ্বাস ও দলগত ঐক্যের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। প্রতিপক্ষের কঠিন প্রতিরোধ ভেঙে আমাদের ক্রিকেটাররা যে লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ৭৮ রানের এই গৌরবময় বিজয় এবং অনবদ্য কৃতিত্ব দেশবাসীকে আনন্দিত ও গর্বিত করেছে। বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, খেলাধুলার এ ধরনের সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচকভাবে অনুপ্রাণিত করবে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের মর্যাদা আরো সুদৃঢ় করবে। আমরা আশা প্রকাশ করছি, বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল ভবিষ্যতেও তাদের সাফল্যের এ ধারা অব্যাহত রেখে দেশের জন্য আরো গৌরব ও সুনাম বয়ে আনবে। তিনি বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং কর্মকর্তাদের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন।

রামিসা হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি: জামায়াতের আমির ডা: শফিকুর রহমান গতকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, প্রিয় সোনামণি রামিসা, তোমার কাছে মানবতা লজ্জিত। তুমি নিষ্পাপ ছিলে। তুমি এখনো বৃন্ত থেকে পুরোপুরি ফোটনি। তুমি ছিলে তোমার মা-বাবা ও বোনের চোখজুড়ানো হৃদয়ের আবেগ ও ভালোবাসামাখা ভবিষ্যতের এক অপূরণীয় স্বপ্ন। তুমি চলে গেছ, তোমার চলে যাওয়াটা হায়েনার লালসার কাছে হার মানেনি। ওই হায়েনাটাই চিরদিন লানতের পাত্র হয়ে থাকবে। আমরা এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার এবং এই নরপশু হত্যাকারীর শাস্তি অতি দ্রুত দেখতে চাই। আল্লাহ তায়ালা রামিসাকে জান্নাতের পাখি হিসেবে কবুল করুন। তার পিতা-মাতা, বোন এবং আপনজনকে ধৈর্য ধরার তাওফিক দিন। আমিন।

‘ধর্ষণ ও নৃশংস হত্যার জন্য প্রকাশ্যে দণ্ড কার্যকর করতে হবে’

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, শুধু গ্রেফতার করে মানুষকে সামাল দিলে হবে না। এমন বিচার করতে হবে যাতে প্রতিটি শিশুর বাবার হৃদয় প্রশান্ত হয়। আইন সংশোধন করে ধর্ষণ ও এই ধরনের নৃশংস হত্যার জন্য প্রকাশ্য জনসমক্ষে দণ্ড কার্যকর করতে হবে। এ ছাড়া মানুষের অন্তরে আল্লাহর ভয় ও পরকালের ভয় সৃষ্টির জন্য নৈতিক ও ইসলামী শিক্ষা প্রয়োজন।

নৈতিকতা তৈরি না হলে এভাবেই শিশুরা ধর্ষিত ও নিহত হবে। শুধু আইন বা পুলিশ দিয়ে মানুষের জীবন রক্ষা হয় না।

গতকাল বুধবার বিকেলে বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেটে সংগঠনটির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে শিশু রামিশাকে নৃশংসভাবে হত্যা, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসসহ সারা দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির প্রতিবাদে ও চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল-পূর্ব সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিক্ষোভ মিছিলটি বায়তুল মোকাররম দক্ষিণ গেট থেকে শুরু করে পল্টন হয়ে বিজয় নগর পানি টাংকি মোড় গিয়ে শেষ হয়।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার বা প্রশাসনের দায়িত্বে যারা আছেন তারা হয়তো বলবেন- সব সমাজেই কিছু অপরাধপ্রবণতা থাকে। আমরা বলতে চাই, মানব সমাজ ১০০ ভাগ অপরাধমুক্ত হয় না এটা ঠিক, কিন্তু সেই অপরাধ এত নিষ্ঠুর হতে পারে না যে দিনের বেলা কলিজার টুকরা মেয়ের গলায় ছুরি চালিয়ে মাথা আলাদা করে দেয়া হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন- জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য মোবারক হোসেন, ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিন, মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল, মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি জেনারেল ডক্টর শফিকুল ইসলাম মাসুদ, মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. আবদুল মান্নার, ড. মোবারক হোসেন, ইয়াসিন আরাফাতসহ মহানগর দক্ষিণের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।