পাঁচ আর্থিক প্রতিষ্ঠান অবসায়নে বিনিয়োগকারীদের হতাশা

টানা দ্বিতীয় দিন সূচকের উন্নতি

Printed Edition

অর্থনৈতিক প্রতিবেদক

টানা সাত দিনের পতনের পর পুঁজিবাজার সূচকের উন্নতিতে দ্বিতীয় দিন পার করল। গতকাল দেশের দুই পুঁজিবাজারেই সবগুলো সূচকে কমবেশি উন্নতি ঘটে এবং লেনদেনও তুলনামূলক ভালো অবস্থানে থাকে। তবে উভয় বাজারেই লেনদেন হওয়া বেশির ভাগ কোম্পানির শেয়ারদর হ্রাস পায়।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ধারাবাহিক পতন থেকে বেরিয়ে আসায় বিনিয়োগকারীরা কিছুটা স্বস্তি ফিরে পেয়েছেন। তবে প্রায় প্রতিদিনই একটি নির্দিষ্ট সময়ের পর বাজারে সৃষ্ট বিক্রয়চাপ স্বাভাবিক গতি ফিরে পেতে বাধা দিচ্ছে। তাদের একটি অংশের মতে, বছরের এ সময়টি নতুন অর্থবছরের বাজেট প্রণয়নের মৌসুম হওয়ায় বাজারে কিছুটা নেতিবাচক প্রবণতা কাজ করে। পাশাপাশি ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, বীমা ও বহুজাতিক কোম্পানির অর্থবছর সমাপ্তি এবং লভ্যাংশ ঘোষণা ও রেকর্ড তারিখ শেষ হয়ে যাওয়াও বাজারকে কিছুটা শ্লথ করে রেখেছে। তবে বাজেট-পরবর্তী সময়ে বাজার আবার স্বাভাবিক গতি ফিরে পাবে বলে তারা আশাবাদী।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স গতকাল ১৩ দশমিক ৪৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়ে দিন শেষে দাঁড়ায় ৫ হাজার ২৪৩ দশমিক ৪৩ পয়েন্টে, যা সকালে ছিল ৫ হাজার ২২৯ দশমিক ৯৫ পয়েন্ট। দিনের শুরুতে সূচকটি ভালো গতিতে এগোলেও বেলা ১১টায় ৩০ পয়েন্টের বেশি উন্নতির পর বিক্রয়চাপের মুখে পড়ে বাজার। দুপুর সাড়ে ১২টার পর চাপ আরো বাড়লে দিনের অর্জনের অর্ধেকেরও বেশি হারিয়ে ফেলে সূচকটি। বিশেষায়িত সূচক ডিএসই-৩০ ও ডিএসই শরিয়াহ যথাক্রমে ১ দশমিক ৫৩ ও ১ দশমিক ৭৭ পয়েন্ট বৃদ্ধি পায়।

চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) সার্বিক মূল্যসূচক সিএএসপিআই ২ দশমিক ০১ পয়েন্ট উন্নতি ধরে রাখতে সক্ষম হয়। বিশেষায়িত সূচক সিএসই-৩০ ও সিএসসিএক্স যথাক্রমে ১৩ দশমিক ৩৪ ও ১ দশমিক ৯১ পয়েন্ট বাড়ে। লেনদেনের ক্ষেত্রে ডিএসই ৮৫৬ কোটি টাকার লেনদেন নিষ্পত্তি করে, যা আগের দিনের চেয়ে কম হলেও এ সময়ের স্বাভাবিক গড়ের চেয়ে বেশি। সিএসই ৩৪ কোটি টাকার লেনদেন করে, যা আগের দিনের তুলনায় ১৩ কোটি টাকা বেশি।

এ দিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ সিদ্ধান্তে পুঁজিবাজারে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের অনিয়ম, লুটপাট ও অব্যবস্থাপনায় কার্যত অচল হয়ে পড়া পাঁচটি ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফআই) বন্ধ বা অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সভায় মঙ্গলবার (১২ মে) এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রতিষ্ঠানগুলো হলো- এফএএস ফাইন্যান্স, ফারইস্ট ফাইন্যান্স, আভিভা ফাইন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিং। আভিভা ফাইন্যান্স ছাড়া বাকি চারটিই পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোম্পানি। আগামী অর্থবছরের বাজেটে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের পর অবসায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে জানা গেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যানুযায়ী, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর শেষে এফএএস ফাইন্যান্সের খেলাপি ঋণের হার ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ, ফারইস্ট ফাইন্যান্সে ৯৮ দশমিক ৫০ শতাংশ, আভিভা ফাইন্যান্সে ৯৩ দশমিক ৯৩ শতাংশ, পিপলস লিজিংয়ে প্রায় ৯৫ শতাংশ এবং ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়ে ৯৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ।

উল্লেখ্য, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতা, উচ্চ খেলাপি ঋণ এবং মূলধন ঘাটতির কারণে গত বছর ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে ‘অপরিচালনযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করে লাইসেন্স বাতিল ও অবসায়নের উদ্যোগ নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকার ও গভর্নর পরিবর্তনের পর প্রক্রিয়াটি ধীরগতিতে এগোলে নতুন সিদ্ধান্তে ওই ৯টির মধ্যে পাঁচটি চূড়ান্ত তালিকায় রাখা হয়েছে, বাকি চারটি আপাতত বাদ রাখা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধে সরকারের প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৯ হাজার কোটি টাকা। ক্ষুদ্র আমানতকারীদের অর্থ ফেরতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হলেও শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের বিষয়টি আলোচনায় স্থান পায়নি। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের শেয়ারে বিনিয়োগকারীরা এবারও বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন।