নানা রঙের রঙ্গন ফুল

Printed Edition
নানা রঙের রঙ্গন ফুল
নানা রঙের রঙ্গন ফুল

মো: আবদুস সালিম

গোলাপি, লাল, কমলা, কমলা-লাল, হলুদ, হলদে-গোলাপি, হলদে সাদা, সাদা। বলা হচ্ছে রঙ্গন ফুলের বৈচিত্র্যময় ও মনমাতানো নানা রঙের কথা। একই নামের ফুলের এত ধরনের রঙ রীতিমতো বিস্ময়কর! তবে এ ফুলে নেই সুঘ্রাণ। তারপরও প্রকৃতি ও মানুষের মনে এর কদরে যেন কমতি নেই। ফুল ফোটে থোকায় থাকায়। এক একটি থোকায় ফুল থাকে ১৫-২০টির মতো। কিছু থোকায় আরো বেশি ফুল দেখা যায়। লাল থোকার মধ্যে সোনালি বা ঘিয়ে দু-একটি ফুল দেখা যায় মাঝেমধ্যে। ফুলের পাপড়ি চারটি। জাতভেদে পাপড়ির সামনের অংশ চোখা ও ভোঁতা হয়। সামান্য দূর থেকে তা দেখতে তারার মতো লাগে। থোকার ফুলগুলো একসাথে না ফোটে কয়েকটি করে ফোটে। এগুলো অল্প সময়ে নেতিয়ে যায় না। সারা বছর কমবেশি এ ফুল ফুটলেও জুন থেকে আগস্টে বেশি দেখা যায়।

গাছের পাতা বেশ ঝোপালো হয়। ৪-৫ ইঞ্চি লম্বা পাতা। পরিণত পাতা চকচকে, মসৃণ ও গাঢ় সবুজ হলেও কচি পাতা কিন্তু বাদামি রঙের। এ গাছের ইংরেজি নাম ইক্সোরা (Ixora)। জাঙ্গল জেরানিয়ামও (Jungle geraniumIxora coccinea) বলা হয়। বৈজ্ঞানিক নাম ইক্সোরা কোসিনি (ওীড়ৎধ পড়পপরহবধ)। এ গাছ ১০-১২ ফুটের মতো লম্বা বা উঁচু হয়। তবে গাছ দ্রুত বাড়ে না। কাঁটা নেই গাছে। তবে ফল হয়। ফল বা পরিপক্ব ডাল থেকে চারা তৈরি হয়। কলমের মাধ্যমেও চারা তৈরি করা যায়। নিজে নিজে জন্মে না গাছ। গাছ কষ্টসহিষ্ণু। বেশি যত্নও লাগে না। মাঝেমধ্যে গোবর, পচা পাতা প্রয়োগ করলে গাছের শক্তি বাড়ে। দো-আঁশ বা বেলে দো-আঁশ মাটি হলে ভালো হয়। এ গাছ জলাবদ্ধতা সহ্য করতে পারে না। পরিমিত রোদ গাছ ও ফুলের জন্য ভালো। ঘন চিরসবুজ গুল্মজাতীয় গাছ রঙ্গন। আদি নিবাস দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া। পৃথিবীতে এ গাছের বহু প্রজাতি রয়েছে। বাংলাদেশে রয়েছে প্রায় ১৭-১৮ প্রজাতি । তবে নানা কারণে কমে যাচ্ছে রঙ্গন গাছ।