হরমুজে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের সাথে আলোচনায় ইউরোপের দেশগুলো

Printed Edition

রয়টার্স

হরমুজ প্রণালী দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)-এর নৌবাহিনীর সাথে আলোচনা শুরু করেছে ইউরোপীয় দেশগুলো। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক খবরে এ কথা জানানো হয়েছে।

খবরে বলা হয়, তেহরানের তত্ত্বাবধানে একটি ট্রানজিট ব্যবস্থার আওতায় পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের জাহাজ হরমুজ ও লারাক দ্বীপের দক্ষিণ রুট দিয়ে এই প্রণালী পার হওয়ার পর ইউরোপীয় দেশগুলো এই আলোচনায় অংশ নিলো। অন্য দিকে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্র নীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সচল রাখা এবং ইরানের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে এই প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য একটি ‘পেশাদার পদ্ধতি’ চালুর প্রস্তুতি নিয়েছে তেহরান।

আজিজি জানান, এই প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ এবং ‘ইরানের সাথে সহযোগিতাকারী’ পক্ষগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। এ ক্ষেত্রে বিশেষায়িত সামুদ্রিক পরিষেবার জন্য তেহরান নির্দিষ্ট ফি বা শুল্ক আদায় করবে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ‘ফ্রিডম প্রজেক্ট’ বা পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ অভিযানের সাথে জড়িত কোনো অপারেটরের জন্য এই রুট বন্ধই থাকবে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার জবাবে গত দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে এই গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথ দিয়ে মার্কিন ও ইসরাইলের জাহাজ চলাচলের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে ইরান।

বিশ্বজুড়ে সমুদ্রপথে হওয়া মোট তেল বাণিজ্যের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়। পরবর্তী সময়ে ওয়াশিংটনও ইরানি বন্দর থেকে ছেড়ে যাওয়া জাহাজের ওপর একই ধরনের বিধিনিষেধ আরোপ করে। ওয়াশিংটন যতক্ষণ না হরমুজে তাদের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার করছে এবং ইরানের অবরুদ্ধ তহবিল ও নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি উন্মুক্ত করার মার্কিন দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে তেহরান। তবে সাম্প্রতিক সময়ে পারমাণবিক আলোচনার মূল বিষয়, ইরানের ইউরেনিয়াম মজুদের বিষয়টি আপাতত স্থগিত রেখে, দুই পক্ষই এই নৌপথ সচল করা এবং মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহারের আলোচনাকে অগ্রাধিকার দিতে সম্মত হয়েছে।