সৌদি আরবে ওমরায় গিয়ে আটকে পড়েছেন কয়েক হাজার ওমরাহযাত্রী। বিমানের টিকিট না পাওয়ায় নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তারা দেশে ফিরতে পারছেন না। এতে থাকা-খাওয়াসহ নানা জটিলতায় দিন পার করছেন তারা। এসব যাত্রীদের দ্রুত ফিরিয়ে আনতে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার জন্য সরকারের কাছে আবেদন করেও কোনো সুরাহা পায়নি এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাব। আর ধর্মমন্ত্রণালয়ের কাছে এ বিষয়ে কোনো তথ্যই নেই বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।
মাওলানা ওসমান গণি ওমরাহ করতে গত এক মাস সাত দিন আগে সৌদি আরবে যান। কিন্তু যুদ্ধের কারণে ফিরতি টিকিট না পাওয়ায় নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও তিনি এখনো দেশে ফিরতে পারেননি।
একইভাবে অধ্যক্ষ আব্দুল হান্নানও ওমরাহ করতে গিয়ে নির্ধারিত সময় শেষ হয়ে যাওয়ার পরও টিকিট না পাওয়ায় তারা ফেরত আসতে পারছেন না। গতকাল নয়া দিগন্তকে তিনি বলেন, রমজানে ওমরাহ করতে এসেছি। ফিরতি ফ্লাইট ছিল গত ২৩ মার্চ। ওই দিন বিমানবন্দরে যাওয়ার পর জানতে পারি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। সারাদিন আসার পর বিমানবন্দর থেকে আমাদের মক্কার গাড়িতে তুলে দেয়। আমাদের কাছে বাস ভাড়ার টাকাও ছিল না। মানুষের কাছ থেকে ধার করে বাস ভাড়া দিয়েছি। এখন আমার মতো ৫/৬ হাজার বাংলাদেশী সৌদিতে সমস্যায় রয়েছে। অনেকের ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। বাংলাদেশ বিমান ও সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের শিডিউল বিপর্যয় ঘটেছে। ইউএসবাংলাসহ অন্য বিমানেরও একই অবস্থা। দেশে ফিরতে না পারায় এসব ওমরাহযাত্রী থাকা-খাওয়াসহ নানা সমস্যায় ভুগছে। অনেকে দেশে চাকরি-ব্যবসা করেন। এসব নিয়েও চিন্তিত তারা। সরকার যদি আমাদের বিশেষ বিবেচনায় অতিরিক্ত ফ্লাইটের ব্যবস্থা করে তাহলে আমরা ফিলতে পারতাম।
সৌদি থাকা জীবনগ্রুপের পরিচালক মহিউদ্দিন মানিক জানান, তিনি ২২ জন যাত্রীর ফিরতি ফ্লাইটের টিকিট কেটেছেন গতকাল। এজন্য তাকে শুধু ফেরত আসার জন্য প্রতি টিকিটে ১৭ হাজার টাকা বেশি দিতে হয়েছে।
জানা যায়, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধজনিত অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ মার্চ পর্যন্ত ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মোট ৭৯৭টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে ২০ থেকে ৪৬টি ফ্লাইট বাতিল হচ্ছে, যার মধ্যে গতকাল ২৭ মার্চেও ২২টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। প্রধানত কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারগামী ফ্লাইটগুলো বেশি বাতিল হয়েছে বলে জানা যায়। বিশেষ করে কাতার, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েত বিমানসংস্থাগুলোর ফ্লাইট পরিচালনা সম্পূর্ণ বন্ধ রেখেছে। এ কারণে সৌদি যারা সরাসরি বিমানে ওমরাহ করতে গেছেন তাদের কেউ কেউ নির্ধারিত সময়ে ফিরতে পারলেও ফ্লাইট বাতিলের কারণে অনেকে দেশে ফিরতে পারছেন না। এছাড়া যারা ট্রানজিট ভিসায় গেছেন তারা জটিলতায় পড়েছেন বেশি। ফিরতি ফ্লাইটের টিকিটের দাম সাধারণ সময়ে ২৫ থেকে ২৭ হাজার টাকা হলেও এখন ৯০ হাজার থেকে এক লাখ টাকা দিয়ে টিকিট কিনতে হচ্ছে।
আবাবিল হজ গ্রুপের মালিক মাওলানা ইউসুফ নয়া দিগন্তকে জানান, তার শতাধিক ওমরাহযাত্রী সৌদিতে গিয়ে ফিরতি ফ্লাইট না পাওয়ায় আসতে পারছেন না। তারা সেখানে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তিনি সরকারের কাছে অতিরিক্ত ফ্লাইট দিয়ে আটকেপড়া ওমরাহযাত্রীদের ফিরিয়ে আনার দাবি জানান।
বেসরকারি হজ এজেন্সি মালিকদের সংগঠন হাবের মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার নয়া দিগন্তকে বলেন, এ বিষয়ে আমরা গত ৭ মার্চই বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে ওমরাহযাত্রীদের সমস্যার কথা জানিয়ে তাদের ফেরত আনতে অতিরিক্ত ফ্লাইট পরিচালনার আহ্বান জানিয়েছিলাম। কিন্তু সরকার আমাদের আহ্বানে কোনো সাড়া দেয়নি। এ বিষয়ে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। এ কারণে সেখানে বিপুলসংখ্যক ওমরাহযাত্রী বিপদে পড়েছেন বলে আমরা জানতে পারছি। এমনকি বিজনেস ক্লাসেও টিকিট পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি এ বিষয়ে সরকারের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (হজ) আয়াতুল ইসলাম নয়া দিগন্তকে বলেন, প্রথম দিকে আমরা কিছু সমস্যার কথা জেনেছিলাম। কিন্তু এখন সমস্যা হচ্ছে কি না তা আমাদের জানা নেই। আপনি যখন বলেছেন তখন আমরা খবর নিয়ে দেখব কোনো সমস্যা হচ্ছে কি না।



