নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশজুড়ে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে আগামী ৫ দিন। তবে উত্তরাঞ্চল ও সিলেটে ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের শঙ্কা রয়েছে। এই কারণে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে ভারী বর্ষণের আশঙ্কা রয়েছে। একই সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদফতর।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় অবস্থানরত লঘুচাপটি পশ্চিম-উত্তরপশ্চিম দিকে অগ্রসর হয়ে রাজস্থান অঞ্চলে অবস্থান করছে। এর বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, উত্তরপ্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল অতিক্রম করে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের ওপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে। এর প্রভাবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টিপাতের অনুকূল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
আজ রোববার রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক স্থানে এবং রাজশাহী, ঢাকা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও খুলনা বিভাগের কিছু কিছু স্থানে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। একই সময়ে উত্তরাঞ্চলের কয়েকটি স্থানে ভারী থেকে অতিভারী বর্ষণের সম্ভাবনাও রয়েছে। ২ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্তও দেশের বেশির ভাগ বিভাগে একই ধরনের আবহাওয়া বিরাজ করতে পারে। রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের বিস্তীর্ণ এলাকায় দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি ও বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। কোথাও কোথাও ভারী বর্ষণ হতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদফতর জানিয়েছে, এ সময় দেশের দিনের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে, তবে রাতের তাপমাত্রায় বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা নেই। তবে পাঁচ দিনের পূর্বাভাসের শেষ দিকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমে আসতে পারে। গত ২৪ ঘণ্টায় খুলনা বিভাগের কয়রায় ৫০ মিলিমিটার সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এ ছাড়া বরিশাল অঞ্চলের রামগতিতে ৪২ মিলিমিটার, সীতাকুণ্ডে ৩৫ মিলিমিটার, নিকলীতে ২৫ মিলিমিটার এবং চাঁদপুরে ২১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৩৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ঢাকা, কিশোরগঞ্জের নিকলিতে এবং মৌলভীবাজারে শ্রীমঙ্গলে। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল সাতক্ষীরায় ২৩.৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস। ভারী বর্ষণের সম্ভাবনা থাকায় নিচু এলাকা, পাহাড়ি অঞ্চল ও জলাবদ্ধতাপ্রবণ এলাকায় বসবাসকারী মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে। বজ্রবৃষ্টির সময় অপ্রয়োজনীয় বাইরে চলাচল এড়িয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান করারও পরামর্শ দেয়া হয়েছে।



