জুলাই শহীদ হাবিবের পরিবারের অসহায়ত্ব জমি নিয়ে হয়রানির অভিযোগ

Printed Edition

মাকসুদুর রহমান পারভেজ লালমোহন (ভোলা)

কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহত ভোলার লালমোহনের বাসিন্দা হাবিব মিয়ার পরিবারের সদস্যরা আর্থিক অনিশ্চয়তা ও জমি নিবন্ধন নিয়ে হয়রানির অভিযোগ তুলেছেন। তাদের দাবি, সরকারি অনুদানের অর্থ দিয়ে জমি কেনার জন্য অগ্রিম টাকা পরিশোধ করলেও প্রায় এক বছরেও জমির রেজিস্ট্রি সম্পন্ন হয়নি।

হাবিবের স্ত্রী আয়েশা বেগম জানান, স্বামীর মৃত্যুর পর চার সন্তানকে নিয়ে তিনি ঢাকায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। নিজ এলাকায় বসবাসের উদ্দেশ্যে চরফ্যাশন উপজেলার জিন্নাগড় মৌজায় ১৬ শতাংশ জমি কেনার জন্য ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট একটি বায়না চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ১৫ লাখ টাকা পরিশোধ করেন। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বিক্রেতা জমির দলিল রেজিস্ট্রি করে দিচ্ছেন না। বারবার নতুন তারিখ দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

আয়েশা বেগম বলেন, ‘ঢাকা থেকে বারবার চরফ্যাশনে যেতে অনেক অর্থ ব্যয় হয়েছে। জমির দলিল না পাওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে। প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত দলিল বুঝে পেতে চাই।’

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মাকসুদুর রহমান বলেন, নির্ধারিত পরবর্তী তারিখে জমির দলিল সম্পাদন করে দেয়া হবে।

জানা যায়, লালমোহন উপজেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের চরমোল্লাজী গ্রামের বাসিন্দা হাবিব মিয়া রাজধানীর শনির আখড়ায় পরিবার নিয়ে ভাড়া বাসায় থাকতেন। পেশায় তিনি সিএনজিচালক ছিলেন। স্ত্রী, তিন মেয়ে ও এক ছেলের ভরণপোষণ এবং সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ তার আয়ের ওপরই নির্ভরশীল ছিল।

পরিবারের দাবি, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই জীবিকার তাগিদে সিএনজি নিয়ে বের হওয়ার পর রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন হাবিব। পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়। দুই দিন পর তার লাশ দাফন করা হয়।

বর্তমানে বড় ছেলে রিয়াদের সীমিত আয়ে সংসার চলছে। বড় মেয়ে ফাতেমা কলেজে পড়াশোনা করছেন, আর দুই ছোট সন্তান এখনো বিদ্যালয়গামী। পরিবারের সদস্যরা জানান, সরকারি সহায়তার অর্থই এখন তাদের প্রধান অবলম্বন। পাশাপাশি জমিসংক্রান্ত জটিলতার দ্রুত সমাধান এবং জুলাই শহীদ পরিবারের প্রতি সরকারের অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেছেন তারা।