মিডল ইস্ট মনিটর
ইরানে নতুন করে হামলা শুরুর পরিকল্পনা করছে ইসরাইল। দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তাবিষয়ক নীতিনির্ধারকদের এই সিদ্ধান্তের কথা যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো এক বার্তায় জানানো হয়েছে। ইসরাইলি পাবলিক ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (আইপিবিসি) সূত্রে এই তথ্য জানা গেছে।
আইপিবিসির রিপোর্টে বলা হয়েছে, ইরানের সাথে আলোচনা বা সমঝোতাকে কেবল ‘সময়ের অপচয়’ বলে মনে করছে ইসরাইল। পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনাকে কাজে লাগিয়ে তারা ইরানের মূল ভূখণ্ডে আবারো সামরিক অভিযান চালাতে আগ্রহী। জানা গেছে, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকর্তারা ইরানে হামলার জন্য লক্ষ্যবস্তুর একটি নতুন তালিকা তৈরি করেছেন। গত এপ্রিল মাসে তৈরি করা এই তালিকায় ইরানের বেশির ভাগ অপরিশোধিত তেল শোধনাগার ও সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রকে পাঠানো বার্তার মাধ্যমে ইসরাইল এটি স্পষ্ট করেছে যে, তারা যেকোনো উপায়ে ইরানের ওপর আবার আক্রমণ শুরুর পথ খুঁজছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল। ইরানও তাৎক্ষণিকভাবে পাল্টা জবাব দেয়। ইসরাইল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে মার্কিন স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিতে তেহরানের হামলার ফলে গোটা মধ্যপ্রাচ্য অগ্নিগর্ভে পরিণত হয়। একই সাথে বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয় ইরানের আইআরজিসি, যার ফলে বিশ্ববাজারে চরম জ্বালানি সঙ্কট দেখা দেয়। ৩৯ দিন ধরে এই হামলা-পাল্টাহামলা চলতে থাকে।
এই পরিস্থিতিতে গত ৮ এপ্রিল সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ১১ এপ্রিল শান্তি আলোচনা শুরু হলেও তা ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একতরফাভাবে তা বাড়ানোর ঘোষণা দেন। বর্তমানে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের সাথে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র।



