রুহুল আমিন সৌরভ কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ)
ঝিনাইদহের ১২৬ নম্বর গিলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষেই স্থাপন করা হয়েছে তামাকপাতা প্রক্রিয়াজাতকরণ বাইন সেন্টার। তামাকের উৎকট গন্ধ আর বিষাক্ত ধোঁয়ায় বিষিয়ে উঠছে শিক্ষার পরিবেশ। নিয়মিত তামাক শুকানোর ফলে চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে বিদ্যালয়ের ২১৬ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকবৃন্দ।
সরেজমিন দেখা যায়, ঝিনাইদহ সার্কিট হাউজ রোডে অবস্থিত বিদ্যালয়টির সীমানাপ্রাচীর ঘেঁষেই গড়ে উঠেছে একটি গ্রুপের তামাক বাইন সেন্টারটি। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তামাক কিনে এখানে আনা হয়। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দীর্ঘদিন ধরে এখানে তামাক প্রক্রিয়াজাত করা হচ্ছে। যেখানে শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করা কথা সেখানে এখন তামাকের তীব্র গন্ধে শিক্ষার্থীরা নিস্তেজ হয়ে পড়ছে। চুল্লি থেকে নির্গত ধোঁয়া সরাসরি শ্রেণিকক্ষে প্রবেশ করায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, তামাকপাতার সংস্পর্শ তাৎক্ষণিকভাবে প্রভাব না ফেললেও শরীরের ভেতরে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি করে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা: মিথিলা ইসলাম বলেন, তামাকপাতার নিকোটিন ত্বকের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে গ্রিন টোব্যাকো সিকনেস তৈরি করতে পারে। এতে বমি, মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি দীর্ঘ মেয়াদে শারীরিক ও মানসিক বিকাশ ব্যাহত করতে পারে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হাসানুজ্জামান সোহাগ জানান, তামাকের মৌসুমে তীব্র গন্ধে স্কুলে অবস্থান করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা শ্বাসকষ্ট ও মাথাব্যথার অভিযোগ করে। অভিভাবকরা বারংবার প্রতিবাদ জানালেও কোনো প্রতিকার মিলছে না। স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যও এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করেছেন।
তামাক সেন্টারের সহকারী ম্যানেজার কনক চন্দ্র সরকার দাবি করেন, এখন পর্যন্ত তারা কোনো অভিযোগ পাননি। প্রতিষ্ঠানটি নিয়ম মেনে চলছে দাবি করলেও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় বৈধ কাগজপত্র তিনি দেখাতে পারেননি। পরিবেশ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক মুস্তাসির রহমান জানান, আবুল খায়ের গ্রুপের প্রতিষ্ঠানটিকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হবে এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। ঝিনাইদহ সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার তারেক হাসান বলেন, শিশুদের জন্য ক্ষতিকর যেকোনো কার্যক্রম আইনত নিষিদ্ধ। তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের আলোকে এ বিষয়ে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।



