৬ মেগা প্রকল্পেই ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা

শিক্ষা খাতের এডিপি-২০২৬-২৭

নতুন অর্থবছরের জন্য শিক্ষা খাতের তিনটি বিভাগের পক্ষ থেকে ১১২টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে ত্রিপক্ষীয় সভায়। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের হলো ৮৫টি প্রকল্প। শুধু ছয়টি মেগা প্রকল্পেই পাঁচ বছরে লাগবে এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বড় ব্যয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে (পিইডিপি-৫) ৫১ হাজার ৬৮৯ কোটি ১১ লাখ টাকা, জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

হামিদুল ইসলাম সরকার
Printed Edition

বিএনপি সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রণয়ন করতে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে উন্নয়ন বাজেটের কাজও চলমান। নতুন অর্থবছরের জন্য শিক্ষা খাতের তিনটি বিভাগের পক্ষ থেকে ১১২টি নতুন প্রকল্প প্রস্তাবনা দেয়া হয়েছে ত্রিপক্ষীয় সভায়। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের হলো ৮৫টি প্রকল্প। শুধু ছয়টি মেগা প্রকল্পেই পাঁচ বছরে লাগবে এক লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বড় ব্যয়ের মেগা প্রকল্পগুলোর মধ্যে, পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচিতে (পিইডিপি-৫) ৫১ হাজার ৬৮৯ কোটি ১১ লাখ টাকা, জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যয় হবে ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা এবং মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে খরচ ধরা হয়েছে ১৭ হাজার ৪২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের প্রস্তাবনা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রস্তাবনার তথ্য বলছে, আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ১৬টি প্রকল্প, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৮৫টি প্রকল্প এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ১১টি প্রকল্প রয়েছে। তবে বেশ উল্লেখযোগ্যসংখ্যক প্রকল্প প্রস্তাবনা বাদ দিয়েছে ত্রিপক্ষীয় কমিটির সভায়। এখানে সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সাথে যথাযথ অনুসরণ করে এই প্রকল্প ও এডিপি তৈরির নির্দেশনা দেয়া হয় প্রত্যেক মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের ১১টি প্রকল্পের মধ্যে অন্যতম মেগা প্রকল্প হলো, ৫১ হাজার ৬৮৯ কোটি ১১ লাখ টাকা খরচে পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫)। চলতি ২০২৬ সালের জুলাই থেকে আগামী ২০৩১ সালের জুন মেয়াদে অর্থাৎ পাঁচ বছরে এটি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের সব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আধুনিক প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। বিশেষ করে যেসব শিক্ষক এখনো ইংরেজি বিষয়ের প্রশিক্ষণ পাননি, তাদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৫ এপ্রিল জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে এই নতুন কর্মসূচির ঘোষণা দেন। সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী প্রাথমিক শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর আগের চতুর্থ কর্মসূচি, বর্তমানে পিইডিপি-৪ চলমান রয়েছে। সেটার ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৫ হাজার কোটি টাকা। যার আওতায় প্রায় এক লাখ ৩০ হাজার শিক্ষক ইতোমধ্যে ইংরেজি প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। অবশিষ্ট শিক্ষকদের নতুন পিইডিপি-৫ এর আওতায় প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।

এরপর ২২ হাজার ১৬৪ কোটি ২০ লাখ ৪৭ হাজার টাকা খরচে দেশের জরাজীর্ণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর অবকাঠামো সংস্কার করা হবে। এটিও উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত নতুন প্রকল্প। প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ধরা হয়েছিল। কিন্তু একনেকে অনুমোদন না হওয়ায় পিছিয়ে যাবে। বাস্তবায়নে পাঁচ বছর মেয়াদ ধরা হয়েছে। একইভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন প্রকল্প পাঁচ বছরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। যা বাস্তবায়নে খরচ হবে ১৪ হাজার ৬১ কোটি ১১ লাখ ৭৬ হাজার টাকা। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মিডডে মিল কর্মসূচি প্রকল্পটির জন্য ১১ হাজার ৭৯৭ কোটি ৭৯ লাখ ৭৩ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। তিন বছর মেয়াদে এই প্রকল্পটি নেয়া হয়েছে।

আর মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অধীনে প্রস্তাবিত নতুন প্রকল্পের মধ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে নির্বাচিত বেসরকারি কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন করা হবে। প্রকল্পের মেয়াদ চার বছরের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্পটি এখনো মূল্যায়ন কমিটির সভায় উপস্থাপন করা হয়নি। তবে ২৬ হাজার চার শ’ কোটি টাকা ব্যয়ে একই ধরনের একটি প্রকল্পের প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু তা ত্রিপক্ষীয় সভায় অনুমোদন না পেয়ে বাদ পড়েছে। অন্যদিকে মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে নেয়া ১৭ হাজার ৪২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ব্যয়ে মাদরাসা শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে, যা পাঁচ বছরে বাস্তবায়ন করা হবে।

বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন (আইএমইডি) বিভাগের এডিপি বাস্তবায়নে আট মাসের তথ্য বলছে, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিভাগের ছয় প্রকল্পের জন্য আট হাজার ৫৪ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল সেখানে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খরচ বা বাস্তবায়ন হার মাত্র পৌনে ২১ শতাংশ। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের ৭২ প্রকল্পের জন্য ছয় হাজার ১৯০ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। বাস্তবায়ন হার মাত্র ৪৩.৪৭ শতাংশ। আর কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষা বিভাগের ২৩ প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ তিন হাজার ১৪৭ কোটি টাকা। তবে বাস্তবায়ন হার মাত্র ২৪.৫৯ শতাংশ।