ইয়ামিন সরকার নবাবগঞ্জ (দিনাজপুর)
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) গভীর নলকূপ পরিচালনা ও পাম্প অপারেটর নিয়োগে ব্যাপক অনিয়ম ও অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলমের বিরুদ্ধে নিয়মবহির্ভূতভাবে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পছন্দের প্রার্থীকে নিয়োগ দেয়ার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় ভুক্তভোগী ও কৃষকেরা।
ভুক্তভোগীদের দাবি- প্রতি বছর পাম্প অপারেটর নিয়োগের জন্য নামমাত্র পরীক্ষা নেয়া হলেও তা মূলত লোক দেখানো। অধিকাংশ ক্ষেত্রে যোগ্য ও পুরনোদের বাদ দিয়ে টাকার বিনিময়ে নতুনদের বহাল করা হয়। আবেদন প্রক্রিয়ায় প্রার্থীদের ২০০ টাকা ব্যাংক ড্রাফট করতে হলেও নতুনদের কোনো সুযোগ দেয়া হয় না। ফলে কৃষকেরা সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছেন।
উপজেলার পূর্ব জয়দেবপুর এলাকার ভুক্তভোগী কামরুজ্জামান বলেন, ২০১৫ সাল থেকে আমি পাম্প অপারেটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছি। গত বছর অফিসের এক কর্মকর্তা আমার কাছে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দেয়ায় হঠাৎ জানানো হয় পরীক্ষা দিয়ে নতুন অপারেটর নেয়া হবে। আমি ও আমার মেয়ে ফরম পূরণ করে পরীক্ষা দিই। কিন্তু বর্তমানে যাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে, তিনি পরীক্ষাতেই উপস্থিত ছিলেন না। টাকার বিনিময়ে এই নিয়োগ দেয়া হয়েছে।
মশিপুর গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য মফিদুল ইসলাম বলেন, কৃষকেরা এখন বরেন্দ্রর কাছে জিম্মি। এমন দুর্নীতি আগে কখনো দেখিনি। এই কর্মকর্তা এখানে থাকলে কৃষকেরা বাঁচবে না। অভিযোগ অস্বীকার করে বর্তমান অপারেটর আব্দুর রহিম বলেন, তিনি নিয়ম মেনেই পরীক্ষায় অংশ নিয়ে নিয়োগ পেয়েছেন।
বিএমডিএর নবাবগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রকৌশলী জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অর্থের বিনিময়ে কোনো অপারেটর নিয়োগ দেয়া হয় না। অভিযোগটি সঠিক নয়। পরীক্ষা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পূর্ব জয়দেবপুরের নিয়োগটি বছর খানেক আগের হওয়ায় এখন সঠিকভাবে মনে নেই। তবে পরীক্ষা নিয়ম অনুযায়ী একসাথেই হওয়ার কথা।



