এ প্রশ্নটি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য হলেও এখন দু’ বেলা ভাত অনেকেই খেতে চায় না। কেউ কেউ রাতের বেলা রুটি, নান বা তন্দুরির ওপর নির্ভর হচ্ছেন। অবশ্য তা ঘরে বানানো নয়, প্রায়ই তা রেস্তরাঁর খাবার হয়ে থাকে। কথা হচ্ছে ভাত না রুটি- কোনটি শরীরের জন্য সেরা, এ নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পছন্দ নয়, গুরুত্ব দেয়া উচিত পুষ্টিগুণ আর শরীরের প্রয়োজনেই।
অনেকেই মনে করেন রুটিতে ভাতের চেয়ে কার্বোহাইড্রেট কম থাকে, যা সবসময় ঠিক নয়। দুটো খাবারেই শর্করা থাকলেও এর প্রক্রিয়াজাতকরণের ধরনে রয়েছে পার্থক্য। সাদা ভাতের চেয়ে পালিশ ছাড়া চাল এবং ময়দার চেয়ে মোটা আটার রুটি অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।
চিকিৎসকদের মতে, অতি-পরিশোধিত ধবধবে সাদা আটা বা চাল শরীরে চিনির মতো কাজ করে। অতিরিক্ত পালিশ করা চাল বা প্যাকেটজাত মিহি ময়দাকে ‘সাদা বিষ’ হিসেবে চিহ্নিত করছেন বিশেষজ্ঞরা। খাবারের রঙ যত বেশি সাদা হবে, বুঝতে হবে তাতে পুষ্টির পরিমাণ ততটাই কমেছে।
রুটিতে ভাতের তুলনায় ফাইবারের পরিমাণ সাধারণত কিছুটা বেশি থাকে। বেশি ফাইবার থাকার কারণে রুটি খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে। ওজন কমাতে বা যারা ডায়েট করছেন, তাদের জন্য রুটি তাই ভালো বিকল্প হয়ে উঠতে পারে।
আপনি যদি ভাতের ভক্ত হন, তবে তা খাওয়ার ধরনে কিছুটা বদল আনতে হবে। ভাতের সাথে প্রচুর পরিমাণে সবজি, ডাল বা দই মিশিয়ে খেলে এর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স ঠিক থাকে। এভাবে খেলে ভাত থেকে তৈরি হওয়া শর্করা রক্তে ধীরে ধীরে মিশে শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখে।
যাদের সারা দিন বসে কাজ করতে হয়, তাদের জন্য কম ক্যালোরির রুটি বেশ কার্যকর।অন্যদিকে, যারা প্রচণ্ড পরিশ্রমের কাজ করেন, তাদের তাৎক্ষণিক শক্তির জন্য ভাত বেশি জরুরি। নিজের দৈনন্দিন কাজের ধরন বুঝে তবেই থালায় ভাত বা রুটি বেছে নেয়া বুদ্ধিমানের কাজ।
শুনতে অবাক লাগলেও গবেষণায় দেখা গিয়েছে, ফ্রিজে রাখা ভাত ফাইবার হিসেবে দারুণ কাজ করে। ভাত ঠাণ্ডা হলে তার স্টার্চ ‘রেসিস্ট্যান্স স্টার্চে’ রূপান্তরিত হয়, যা রক্তে চিনি নিয়ন্ত্রণ করে। তবে এ ভাত পুনরায় গরম করার ক্ষেত্রে সঠিক সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। ইন্টারনেট।



