সোহেল রানা ও স্বপ্নার জেল আপিল শুনবেন হাইকোর্ট

Printed Edition
শিশু রামিসা হত্যা
শিশু রামিসা হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক

রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার দায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের পৃথক দু’টি জেল আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করেছেন হাইকোর্ট। আপিল গ্রহণের পাশাপাশি নিম্ন আদালতের দেয়া অর্থদণ্ডাদেশের কার্যকারিতাও স্থগিত করেছেন উচ্চ আদালত। সংশ্লিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া ও পেপারবুক (মামলার বৃত্তান্ত) তৈরি শেষে এই মামলার ডেথ রেফারেন্সের (মৃত্যুদণ্ড নিশ্চিতকরণ) সাথে এই আপিলগুলোর যৌথ শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল রোববার বিচারপতি মোহাম্মদ আলী ও বিচারপতি মো: সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের কার্যতালিকার গ্রহণযোগ্যতা শুনানির অংশে সোহেল রানার আবেদনটি ৩৪ নম্বর এবং স্বপ্না আক্তারের আবেদনটি ৩৫ নম্বর ক্রমিকে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল। তার সাথে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল শরীফ ইউ আহমেদ, মো: মেহেদি হাসান ও মোহাম্মদ ওসমান চৌধুরী। শুনানির সময় দণ্ডিত আসামিদের পক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।

আদেশের পর নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা মো: রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, ‘আদেশটি সংশ্লিষ্ট সেকশনে পাঠানো হবে। এরপরই রামিসা হত্যা মামলার ডেথ রেফারেন্স শুনানির পূর্বপ্রস্তুতি হিসেবে পেপারবুক তৈরির কাজ শুরু হবে।’ প্রত্যাশিত দুই কার্যদিবসের মধ্যে পেপারবুক সম্পন্ন না হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তির জেল আপিল করার জন্য ৭ দিন সময় থাকে। আইনি বাধ্যবাধকতার ওই সময়টুকু আসামিদের দিতে হবে। সংবিধানে দ্রুত বিচার পাওয়ার যে মৌলিক অধিকারের কথা বলা আছে, একজন মানুষের তা পাওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে। আইনের নির্ধারিত সময়সীমা মেনেই আমরা আমাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছি, এখানে তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই।’

কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পাঠানো পৃথক জেল আপিল আবেদনে প্রধান দণ্ডিত সোহেল রানা নিজের অপরাধের কথা প্রকারান্তরে স্বীকার করে আদালতের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। অটোরিকশা গ্যারেজের এই মিস্ত্রি আপিলের যুক্তিতে উল্লেখ করেন, তীব্র আর্থিক অনটন, পারিবারিক অশান্তি এবং অতিরিক্ত মাদকাসক্তির কারণে অবচেতন মনে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটেছিল। নিজের একমাত্র সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং পরিবারের চরম বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি ক্ষমা চান।

অন্য দিকে, তার স্ত্রী মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে আপিল আবেদনে উচ্চ আদালতের কাছে খালাস প্রার্থনা করেছেন। তিনি দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ঘটনার সাথে তিনি কোনোরূপ জড়িত নন এবং তাকে অন্যায়ভাবে জড়ানো হয়েছে।

দণ্ডিতদের এই আবেদনের আইনি দিক ও রাষ্ট্রের অবস্থান ব্যাখ্যা করে অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘প্রধান আসামি আপিলের গ্রাউন্ড বা যুক্তিতে প্রকারান্তরে ঘটনা স্বীকার করে পারিবারিক অশান্তি ও মাদকাসক্তির মতো কয়েকটি বিষয়ের অবতারণা করেছেন। আপিল করার ক্ষেত্রে অনেকেই এই কৌশল নিয়ে থাকেন। তবে নিম্ন আদালত যথাযথ সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দিয়েছেন কি না, চূড়ান্ত বিচারে উচ্চ আদালত সেটিই বিবেচনা করবেন।’ সব মামলাকে রাষ্ট্র সমান গুরুত্ব দেয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘যারা দীর্ঘদিন ধরে কনডেম সেলে রয়েছেন, তাদেরও দ্রুত বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। যত তাড়াতাড়ি নিষ্পত্তি হবে, তত তাড়াতাড়ি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসবে; হয় শাস্তি বহাল থাকবে, নাহলে খালাস পাবেন।’

এর আগে গত ৭ জুন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল চাঞ্চল্যকর এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। ঘটনার মাত্র ১৯ দিনের মাথায় ঘোষিত ওই রায়ে প্রধান আসামি সোহেল রানাকে মৃত্যুদণ্ড এবং তাকে অপরাধ সংঘটনে সহায়তা করার দায়ে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়।