গণভোটের রায় বাস্তবায়নে আন্দোলন জোরদারের ঘোষণা খেলাফত মজলিসের

Printed Edition
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক আইইবিতে দলের মজলিসে শূরার অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন :  নয়া দিগন্ত
বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক আইইবিতে দলের মজলিসে শূরার অধিবেশনে বক্তব্য রাখেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মুহাম্মাদ মামুনুল হক বলেছেন, গণভোটের রায়ের ভিত্তিতে জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন ও সংবিধান সংস্কারের দাবিতে চলমান আন্দোলন আরো সুসংগঠিত ও জোরদার করা হবে। একই সাথে রাজনৈতিক বক্তব্য, সিদ্ধান্ত বা কর্মসূচির মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট কিংবা চলমান আন্দোলনকে দুর্বল করা হবে না।

গতকাল রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (আইইবি) মিলনায়তনে দলের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার বৈঠকে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশন পরিচালনা করেন দলের মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, সার্বিক বাস্তবতা এবং জনগণের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই খেলাফত মজলিস ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে। ইসলাম, দেশ ও জনগণের বৃহত্তর কল্যাণকে সামনে রেখেই দলীয় কর্মসূচি নির্ধারণ করা হবে।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ৯ দফা প্রস্তাব গৃহীত হয়। সেগুলো হলো- সংবিধানে ‘আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস’ পুনঃস্থাপন, কুরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন ও নীতিমালা অকার্যকর ঘোষণার সাংবিধানিক বিধান অন্তর্ভুক্ত, আল্লাহ, রাসূল সা: ও ইসলামের অবমাননার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধানসংবলিত আইন প্রণয়ন, জুলাই সনদ ও গণভোটের রায়ের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং এ লক্ষ্যে চলমান আন্দোলন আরো জোরদারের আহ্বান জানানো হয়। এ ছাড়া গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান হামলা বন্ধে কার্যকর আন্তর্জাতিক উদ্যোগ গ্রহণ, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রদান, ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতন বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যকর ভূমিকা, কাদিয়ানি সম্প্রদায়কে রাষ্ট্রীয়ভাবে অমুসলিম ঘোষণা, সীমান্তে বিএসএফের অবৈধ পুশইন বন্ধে কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি দমন এবং ইসলামী খেলাফত প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বিশ্ব মুসলিম উম্মাহর ঐক্য সুদৃঢ় করার আহ্বান জানানো হয়। অধিবেশনে বক্তব্য দেন অভিভাবক পরিষদের সদস্য মাওলানা আকরাম আলী, নায়েবে আমির মাওলানা রেজাউল করীম জালালী, মাওলানা আলী উসমান, মুফতি সাঈদ নূর ও মাওলানা কোরবান আলী কাসেমী।