চব্বিশের এই দিনে রংপুরে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন চারজন

আজও হয়নি চার্জশিট, খোঁজ রাখে না কেউ

Printed Edition

রংপুর ব্যুরো

আজ ১৯ জুলাই, ২০২৪ সালের এই দিনে রংপুর সিটি বাজারের সামনে পুলিশের গুলিতে শহীদ হয়েছিলেন চারজন। এরপর দুই বছর পার হেয়ে গেলেও আজও হয়নি চার্জশিট।

জানা গেছে, এ ঘটনার পর প্রথম এক বছর সরকার ও বিভিন্ন তরফ থেকে নিহতদের পরিবারগুলোর খোঁজ নেয়া হলেও এখন ওদিকে পা মাড়ায় না কেউ। ফলে সন্তানদের নিয়ে হতাশা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। এ অবস্থায় খুনিদের বিচার নিশ্চিতের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও আর্থিক নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তারা।

১৬ জুলাই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ শহীদ হওয়ার পর ১৮ জুলাই মডার্ন মোড়ে আন্দোলনকারীদের দমাতে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন অটোচালক মানিক মিয়া। এরপর ১৯ জুলাই জুমার নামাজের পর ছাত্র-জনতা মিছিল নিয়ে কাচারীবাজারের দিকে যেতে থাকে। তারা সিটিবাজারের সামনে পৌঁছালে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা তাদের বাধা দেয়। শুরু হয় বৃষ্টির মতো গুলি। এ সময় তৎকালীন পুলিশ সুপার শাহাজাহানকেও দেখা যায় এপিসি থেকে গুলি করতে।

গুলিতে সিটি বাজারের কলাব্যবসায়ী নগরীর জুম্মাপাড়ার মেরাজুল ইসলাম ও বৌরানী জুয়েলার্সের ম্যানেজার গনেশপুর এলাকার মুসলিম উদ্দিন মিলন ঘটনাস্থলেই মারা যান। আরো মারা যান শালবন এলাকার সবজিব্যবসায়ী সাজ্জাদ হোসেন, বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব গ্লাস অ্যান্ড সিরামিকের শিক্ষার্থী আবদুল্লাহ আল তাহির। সে সময় পোস্ট মোর্টেম ছাড়াই হাসপাতাল থেকে লাশ হস্তান্তর করে পরিবারকে চাপ দিয়ে দ্রুত দাফন করানো হয়। ৫ আগস্টের পর স্বজনরা মামলা করলে পরে আদালতের আদেশে লাশ উঠিয়ে ময়নাতদন্ত করা হয়।

শহীদ তাহিরের মা শরিফা বেগম, শহীদ সাজ্জাদের মা ময়না শহীদ মিলনের স্ত্রী দিলরুবা বেগম, শহীদ মানিকের স্ত্রী মুন্নী বেগম, শহীদ মেরাজুলের স্ত্রী নাজমীন ইসলাম এই প্রতিবেদককে জানিয়েছেন, প্রথম এক বছর জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও সংগঠন থেকে সাহায্য করলেও এখন আর কেউ খোঁজও নেয় না। রাজনৈতিক দলগুলোও না। সরকারের তরফ থেকে যে টাকা অনুদান দেয়া হয়, তাতে সংসার চলে না। ফলে তারা এখন অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় দিন পার করছেন।

তারা আরো জানান, মামলা হলেও এখনো গ্রেফতারে ন্যূনতম অগ্রগতি নেই। দেয়া হয়নি চার্জশিট, শুরু হয়নি বিচার কার্যক্রম। এতে উদ্বিগ্ন তারা।

রংপুর সিআইডির পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) সুমিত চৌধুরী জানান, আমরা পাঁচটি হত্যা এবং দু’টি হত্যা চেষ্টা মামলা তদন্ত করছি। এরমধ্যে চারটি হত্যা মামলা ও একটি হত্যাচেষ্টা মামলার তদন্ত শেষ। চার্জশিট দাখিলের জন্য অনুমোদন চেয়েছি, আংশিক পাওয়া গেছে, বাকি অংশের অনুমতি পেলে এক মাসের মধ্যেই চার্জশিট দিবো। মোট ১৯২ আসামির মধ্যে ৩৪ জন গ্রেফতার হয়েছে।

জেলা প্রশাসক রুহুল আমিন জানান, শহীদ পরিবারগুলো সরকারি ভাতা নিয়মিত পাচ্ছে। হোয়াটসআ্যপ গ্রুপে তাদের সাথে যোগাযোগ হয়। তারা যখন যে অসুবিধা জানায়- সেটার সমাধান করা হয়।