আমতলী (বরগুনা) সংবাদদাতা
বরগুনা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের (এলজিইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান, সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী শ্যামল চন্দ্র গাইন ও সহকারী প্রকৌশলী রাজিব শাহর বিরুদ্ধে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়ায় অনিয়ম, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি ও আত্মীয়স্বজনের মালিকানাধীন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে অনৈতিকভাবে কাজ পাইয়ে দেয়া হয়েছে। এ ঘটনায় এলজিইডির প্রধান প্রকৌশলী তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
গত সোমবার বিএনপির মরহুম মহাসচিব খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের সাবেক এপিএস ওমর আব্দুল্লাহ শাহীন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগ পাওয়ার পর প্রধান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বরিশাল বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা: নুরুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত মার্চ মাসে আমতলী-তালতলী উপজেলার গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকার দরপত্র আহ্বান করা হয়। এতে ৭৭টি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়। কিন্তু গত ২০ এপ্রিল অনিয়ম ও অনৈতিকতার মাধ্যমে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ ওঠে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে এমএস লুৎফুল কবির ট্রেডার্স, এসএম নুর কনস্ট্রাকশন, লেলিন-দীপ (জয়েন্ট ভেঞ্চার), এসএম লেলিন ট্রেডার্স ও নিশিত বসু ট্রেডার্স।
অভিযোগকারীর দাবি, কাজ পাওয়া পাঁচ প্রতিষ্ঠানের মালিকরা সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের আত্মীয়স্বজন কিংবা আওয়ামী লীগঘনিষ্ঠ। একই সাথে বিভিন্ন মসজিদ, মন্দির ও গ্রামীণ সড়ক সংস্কারকাজেও দায়সারাভাবে কাজ করিয়ে কমিশনের বিনিময়ে বিল ছাড়ের অভিযোগ আনা হয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দাও নিম্নমানের কাজের অভিযোগ তুলেছেন। গুলিশাখালী গ্রামের প্রকৌশলী আবদুল মান্নান বলেন, একটি মসজিদ সংস্কারের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ হলেও ঠিকাদার মাত্র অর্ধেক টাকা ব্যয় করেছেন। খুরিয়ার খেয়াঘাট সবুর গাজী চৌকিদার বাড়ি জামে মসজিদের ইমাম রফিকুল ইসলামও একই ধরনের অভিযোগ করেন। কড়াইবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রেদওয়ান সরদার বলেন, ঢালাইয়ের পরপরই সড়কের পিচ উঠে গেলেও ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
অভিযোগকারী ওমর আবদুল্লাহ শাহীন বলেন, টেন্ডারে অংশ নেয়া ৭৭ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বাছাই করে মাত্র পাঁচটি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয়া হয়েছে, যাদের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তদন্তে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।
তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান খান। তিনি বলেন, ‘টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম হয়নি। আত্মীয়স্বজন বা রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাজ পাইয়ে দেয়ার অভিযোগও সঠিক নয়।’
এ দিকে তদন্ত কর্মকর্তা ও এলজিইডির বরিশাল বিভাগীয় অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী শেখ মোহা. নুরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জরুরি সভায় থাকার কথা জানিয়ে পরে কথা বলবেন বলে ফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেন। তদন্তের ফলাফলের দিকেই এখন তাকিয়ে সংশ্লিষ্ট মহল।



