রাজবাড়ীতে পেঁয়াজহাটে আড়তদারের ধর্মঘট, ক্ষতির মুখে কৃষক

‘থলতা’ প্রথা বাতিলের জের

Printed Edition
বাজারে পেঁয়াজ এনে অসহায় বসে আছেন কৃষকরা। পেছনে আড়তগুলো বন্ধ  : নয়া দিগন্ত
বাজারে পেঁয়াজ এনে অসহায় বসে আছেন কৃষকরা। পেছনে আড়তগুলো বন্ধ : নয়া দিগন্ত

এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দি উপজেলার বহরপুর ও সোনাপুর হাটে পেঁয়াজ আড়তদারদের আকস্মিক ধর্মঘটে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা। গত মঙ্গলবার সাপ্তাহিক হাটের দিন কোনো আড়ত না খোলায় শত শত কৃষক তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারেননি। ফলে তারা পণ্য নিয়ে বাড়ি ফিরতে বাধ্য হয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কৃষকরা বাজারে পেঁয়াজ বিক্রির সময় ক্রেতা ব্যবসায়ী বা আড়তদারকে পেঁয়াজ ওজন করার সময় অতিরিক্ত ২-৩ কেজি পেঁয়াজ বেশি দিতে হতো। এতে কৃষকরা কিছুটা ক্ষতির সম্মুখীন হতেন। একে ‘ঢলন বা থলতা’ বলা হতো। গত সোমবার উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যবসায়ী ও সংশ্লিষ্টদের সাথে এক বৈঠকে পেঁয়াজ বিক্রির সময় এই ‘ঢলন’ বা ‘থলতা’ নেয়ার প্রথা বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়। দীর্ঘদিনের এই প্রথা বন্ধে অসন্তোষ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, হঠাৎ এ সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তারা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।

এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার ধর্মঘটের ডাক দেন কাঁচামাল ব্যবসায়ীরা। ফলে বহরপুর ও সোনাপুর- এই দু’টি হাটেই কোনো আড়ত খোলা হয়নি। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। ভোর থেকে হাটে আসা কৃষকরা তাদের পেঁয়াজ বিক্রি করতে না পেরে হতাশ হয়ে পড়েন।

বহরপুর হাটে আসা কৃষক ছেকেন মণ্ডল বলেন, আমরা কষ্ট করে ফসল উৎপাদন করি। হাটে এনে বিক্রি করতে না পারলে বড় ধরনের লোকসান হয়। তা ছাড়া, এ কেমন প্রথা যে তাদেরকে ঢলন দিতে হবে?

অনেক কৃষক পরিবহন খরচ বহন করে পণ্য নিয়ে এলেও বিক্রি না হওয়ায় সেগুলো আবার বাড়িতে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।

এ বিষয়ে বালিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী মাহফুলউল্লা বলেন, উপজেলার বিভিন্ন হাটের সভাপতি-সম্পাদক, ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক নেতাদের সাথে পরামর্শ করেই ‘থলতা’ প্রথা বাতিল করা হয়েছে। তিনি বলেন, কৃষকদের জিম্মি করে ওজনে বেশি নেয়ার এ প্রথা বন্ধে প্রশাসন কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং এটি অবশ্যই বাস্তবায়ন করা হবে।

এদিকে বাজারে পেঁয়াজ বিক্রি করতে আসা কয়েকজন কৃষক অভিযোগের সুরে বলেন, ‘বিভিন্ন বাজারে বণিক সমিতির কিছু নেতার প্রভাবেই ‘থলতা’সহ নানা অনিয়ম দীর্ঘদিন ধরে চালানো হচ্ছে। এটা আমাদের ওপর এক ধরনের জুলুম। আমাদের দাবি, কোনো ধরনের প্রভাব বা চাপের কাছে নতি স্বীকার না করে প্রশাসন যেন আমাদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে।’

কৃষকদের ভাষ্য, উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য নিশ্চিত করতে হলে বাজার ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনা জরুরি। একই সাথে চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ারও দাবি জানান তারা।