পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা বেড়েছে

পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করা হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

Printed Edition
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের পাথর/বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন : নয়া দিগন্ত
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে সিলেট বিভাগের পাথর/বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে সভায় সভাপতির বক্তৃতা করেন : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ফিরেছে, তাই আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে মাঠপর্যায়ে থাকা সেনাবাহিনীর সদস্যদের পর্যায়ক্রমে তুলে নেয়া হবে। গতকাল বৃহস্পতিবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সভা শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর পুলিশ বাহিনীকে একটি সুশৃঙ্খল অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সেনাবাহিনীকে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাঠে রাখা হবে না। পুলিশ, সেনাবাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে সেনাবাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

চাঁদাবাজ ও গডফাদারদের বিরুদ্ধে চলমান বিশেষ অভিযান প্রসঙ্গে মন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। সুনির্দিষ্ট তালিকা প্রণয়ন করে যৌথ ও একক অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। মাদক, সন্ত্রাসী ও অস্ত্রধারীদের গ্রেফতার করে সংক্ষিপ্ত আদালতের মাধ্যমে সাজা নিশ্চিত করা হচ্ছে। তিনি আশ্বস্ত করেন যে, এই অভিযানের দৃশ্যমান অগ্রগতি রয়েছে এবং অচিরেই এর পূর্ণ প্রভাব দেশবাসী অনুভব করবে।

সিলেট বিভাগের পাথর/বালুমিশ্রিত পাথর কোয়ারির সর্বশেষ অবস্থা ও করণীয় বিষয়ে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, পরিবেশ রক্ষা এবং প্রচলিত সব আইন ও বিধিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার পাথর কোয়ারিগুলো সীমিত আকারে আবার ইজারা প্রদানের লক্ষ্যে একটি উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারকে আহবায়ক করে গঠিত এই কমিটিতে সিলেট ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক, পরিবেশ অধিদফতর, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব বাংলাদেশর প্রতিনিধি, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপক এবং খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন পরিচালক সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ ছাড়া আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় উভয় জেলার পুলিশ সুপারদেরও কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিটির কার্যপরিধি বর্ণনা করে মন্ত্রী বলেন, সরেজমিন স্পটগুলো পরিদর্শন করে সীমান্ত নদীগুলোর পলি জমার কারণে সৃষ্ট ওয়াটার ব্যারিকেড পরীক্ষা করা, নদীভাঙনের ফলে সীমান্ত পরিবর্তনের ঝুঁকি পর্যালোচনা করা, পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে কত গভীরতায় এবং কোন পদ্ধতিতে পাথর উত্তোলন করা সম্ভব, সে বিষয়ে কারিগরি পরামর্শ প্রদান, বিছানাকান্দি, সাদা পাথর বা ভোলাগঞ্জের মতো পর্যটন স্পটগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত করা।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন, জাফলংয়ের মতো ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া ঘোষিত স্থানগুলো ইজারার আওতামুক্ত থাকবে। কমিটির রিপোর্ট চলতি মাসের শেষে পাওয়ার পর জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এ ছাড়া এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে ঝুলে থাকা মামলাগুলো আইন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে জার্মান রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশিক্ষণ ও কারিগরিসহায়তা প্রদানের বিষয়ে জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

গতকাল বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত জার্মানির রাষ্ট্রদূত ড. রুডিগার লোটজ সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ সময় মন্ত্রী তাকে এই আহ্বান জানান।

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো জোরদারকরণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা করা হয়।

মন্ত্রী বলেন, জার্মানি বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। দেশটি বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, টেক্সটাইল বা তৈরি পোশাক শিল্প এবং কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। তিনি বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, আধুনিকায়ন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রশিক্ষণ ও কারিগরি সহায়তা প্রদানের বিষয়ে জার্মানির সহযোগিতা কামনা করেন।

রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাথে বিভিন্ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা বৃদ্ধির আশ্বাস দিয়ে বলেন, অদূর ভবিষ্যতে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক আরো উচ্চমাত্রায় উন্নীত হবে।

বৈঠকের শুরুতে মন্ত্রী রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানান। রাষ্ট্রদূত নতুন পোর্টফলিওতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মন্ত্রীকে আন্তরিক অভিনন্দন জ্ঞাপন করেন।

বৈঠকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী, রাজনৈতিক-১ শাখার উপসচিব বেগম মিনারা নাজমীন, বহিরাগমন-৩ শাখার উপসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।