ক্রীড়া প্রতিবেদক
সফর শেষে দেশে ফিরে ব্যর্থতার দায় এড়িয়ে যাননি ব্যাটিং কোচ মোহাম্মদ আশরাফুল। বরং সমস্যার জায়গাটি স্পষ্ট করেই তুলে ধরেছেন। ইনিংস ব্যাবধানে টেস্টে হার ও ওয়ানডেতে সিরিজ পরাজয়ের পর জিম্বাবুয়ে সফর শেষ হয়েছে স্বস্তির টি-২০ জয় দিয়ে। কিন্তু সেই জয় পুরো সফরের হতাশা ঢেকে দিতে পারেনি। তিন সংস্করণ জুড়েই ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতা বাংলাদেশের ক্রিকেটে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ব্যাটিংয়ের মান নিয়ে। বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সাথে আশরাফুলের মূল্যায়ন ছিল, জিম্বাবুয়ের উইকেটের অতিরিক্ত বাউন্সই বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
আগামী ১৩ আগস্ট ডারউইনে শুরু হবে বাংলাদেশ-অস্ট্রেলিয়া দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ। দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে ২২ আগস্ট ম্যাকাইয়ে। অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে আশাবাদী আশরাফুল। তার মতে, এবার প্রস্তুতির জন্য পর্যাপ্ত সময় থাকবে। বাংলাদেশ দল প্রায় ১০ দিন আগে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছাবে এবং তিন দিনের একটি প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে। ফলে স্থানীয় কন্ডিশনের সাথে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ মিলবে, যা জিম্বাবুয়ে সফরের মতো সমস্যার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সহায়ক হতে পারে।
২০০৩ সালের পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটিই হবে বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট সিরিজ। জিম্বাবুয়ের হতাশাজনক সফর থেকে শিক্ষা নিয়ে এবার কঠিন চ্যালেঞ্জে কতটা প্রস্তুত হয়ে নামতে পারে টাইগাররা, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন!
জিম্বাবুয়ে ব্যার্থতার পর সামেন অপেক্ষা রকছে আরো কঠিন পরীক্ষা। আগস্টে ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাবে বাংলাদেশ। সেখানে জিম্বাবুয়ের চেয়েও বেশি গতি ও বাউন্সের মুখোমুখি হতে হবে ব্যাটসম্যানদের। তবে আশরাফুলের বিশ্বাস, জিম্বাবুয়ের অভিজ্ঞতা এবার কাজে লাগবে। এই সফরটা আমাদের অস্ট্রেলিয়া সিরিজেও কাজে দেবে। যে অতিরিক্ত বাউন্স, গত সাত মাস ধরে আমরা আমাদের হোম কন্ডিশনে ভালো করছিলাম, কিন্তু আলাদা একটা কন্ডিশনে আমাদের একটু সময় লেগে গিয়েছে।’
জিম্বাবুয়ে সিরিজ নিয়ে আশরাফুলের বক্তব্য, ‘অতিরিক্ত বাউন্স ছিল, ওই বাউন্সে মানিয়ে নিতে আমাদের একটু সময় লেগেছে। টেস্ট ম্যাচটা আমরা ভালো করতে পারিনি। পরে তৃতীয় ওয়ানডেতে গিয়ে আমরা মানিয়ে নিতে পেরেছি। সামনে ২০২৭ বিশ্বকাপে ওভাবে আমরা হয়তো প্রস্তুতি নিতে পারব।’
এই সফরে বাংলাদেশের ব্যাটিং ছিল সবচেয়ে বড় হতাশার জায়গা। তিন সংস্করণ মিলিয়ে কোনো ব্যাটসম্যানই সেঞ্চুরির দেখা পাননি। জিম্বাবুয়ের পেসারদের বাড়তি বাউন্স ও গতি সামলাতে বারবার হোঁচট খেয়েছেন ব্যাটাররা। এমন বাস্তবতায় আশরাফুল মনে করেন, সফরের আগে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ থাকলে পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেয়া অনেক সহজ হতো। প্রস্তুতি ম্যাচের অভাবকে বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের একটি বড় সীমাবদ্ধতা বলেও মনে করেন বাংলাদেশের ব্যাটিং কোচ।
এ প্রসঙ্গে আশরাফুল বলেন, ‘এখন ফ্র্যাঞ্চাইজি টুর্নামেন্ট হওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক ম্যাচগুলোর আগে প্রস্তুতি ম্যাচ হয় না। আগে একটা তিন দিনের ম্যাচ বা একটা ওয়ানডে ম্যাচ হলে মানিয়ে নেয়া সহজ হতো। ওই অপশনটা এখন নেই, এখন গিয়েই খেলতে হয়।’



