মাদকে সয়লাব পীরগঞ্জ হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন

Printed Edition

পীরগঞ্জ (ঠাকুরগাঁও) সংবাদদাতা

ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জে পুলিশ, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ধারাবাহিক অভিযানের পরও থামছে না মাদককারবারি। দিন ও রাতের আঁধারে পৌর শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চলের অলিগলি, বাসাবাড়ি, রেললাইন এলাকা, বাস টার্মিনাল, বাঁশঝাড়, কবরস্থান এলাকা, পরিত্যক্ত ভবন, এমনকি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশেও বিক্রি হচ্ছে মাদকদ্রব্য।

এক মাদক সেবনকারীর দেয়া তথ্য মতে, পীরগঞ্জে বর্তমানে প্রতি বোতল ফেনসিডিল এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার টাকায়, প্রতিটি ইয়াবা ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায়, টাপেন্টাডল ট্যাবলেট ১১০ থেকে ১২০ টাকায়, গাঁজার পুরিয়া ৫০ টাকায় এবং চোলাই মদ প্রতি গ্লাস ৩০ টাকায় নিয়মিত বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরে মাদকের বেচাকেনা কয়েকগুণ বেড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে কিশোরদের মধ্যে মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। এলাকায় বাড়ছে ছিনতাই, চুরিসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড।

সীমান্তের পরিস্থিতি নিয়ে সেনগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান বলেন, আমার ইউনিয়নে ভারত সীমান্ত ঘেঁষা দু’টি বিজিবি ক্যাম্প রয়েছে। ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সহায়তায় প্রায় সময় সীমান্ত এলাকা দিয়ে মাদকদ্রব্য আসে। বিজিবি শক্ত অবস্থানে থাকলেও মাদক ব্যবসায়ীদের নিত্যনতুন কৌশলের সাথে পেরে উঠছে না। জাবরহাট ইউপি চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, মাদক ব্যবসায়ীরা ভারতীয় সিম ব্যবহার করে বিভিন্ন কৌশলে মাদক এ উপজেলায় নিয়ে আসছে।

পীরগঞ্জ পৌর শহর ও গ্রামাঞ্চলে মাদক এখন সহজলভ্য হয়ে উঠেছে। ফলে যুবক, কিশোর, নারী এমনকি বয়স্কদের একটি অংশও মাদককরবার ও সেবনের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তদের কারণে বাড়ছে পারিবারিক অশান্তি, সামাজিক অবক্ষয় এবং অপরাধপ্রবণতা। পৌর বিএনপি ও পূর্ব চৌরাস্তা দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রাজা বলেন, শহরে মাদক এমনভাবে ছড়িয়ে পড়েছে যে, অলিতে-গলিতে অবাধে বিক্রি হচ্ছে। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান জিয়াউল ইসলাম জিয়া বলেন, আমাদের দলের পক্ষ থেকে মাদকের বিরুদ্ধে কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

সূত্রে জানা যায়, মাদক কারবারিরা এখন সরাসরি বিক্রির পরিবর্তে মোবাইলফোন ভিত্তিক নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে। অভিযান পরিচালনাকারী দলগুলোর সূত্রে জানা যায়, সোর্সের মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করেই মূলত অভিযান চালাতে হয়। কিন্তু সোর্স পরিচালনার জন্য সরকারি কোনো বরাদ্দ না থাকায় কার্যক্রম পরিচালনায় নানা সীমাবদ্ধতার মুখে পড়তে হয়। এছাড়া মাদক ব্যবসায়ীদের ধরতে গিয়ে অনেক সময় ঝুঁকির মধ্যেও কাজ করতে হয়। ঠাকুরগাঁও জেলা মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক হারুনর রশিদ বলেন, জেলা শহর থেকে পীরগঞ্জ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৩০ কিলোমিটার। সরকারি গাড়ির সঙ্কট থাকায় কোনো সংবাদ পেলেও তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছানো সম্ভব হয় না।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম রব্বানী সরদার বলেন, মাদকের বিষয়ে আমার কাছে কোনো ছাড় নেই। ঠাকুরগাঁও পুলিশ সুপার বেলাল হোসেন বলেন, মাদকবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং মাদক ব্যবসায়ীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। নবনিযুক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক বলেছেন, মাদক এখন ক্যান্সারের থার্ড স্টেজে চলে গেছে। তাই পীরগঞ্জের মাদক ব্যবসায়ীদের এখন ‘কেমোথেরাপি’ দিতে হবে।