দিনাজপুর ও হাবিপ্রবি সংবাদদাতা
হাবিপ্রবিতে ছাত্র সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মো: আবু হাসান স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয় শুক্রবার ২২ মে বিকেল ৪ ঘটিকার মধ্যে শিক্ষার্থীদেরকে (বিদেশী শিক্ষার্থী ব্যতিত) হল ত্যাগ করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।
উল্লেখ্য, হাবিপ্রবির দু’ হলের ছাত্রদের মধ্যে সংঘর্ষে শিক্ষকসহ তিনজন গুরুতর আহত হয়েছে। আহত হয় অনেকে।
গত বৃহস্পতিবার ২১ মে দুপুর আড়াইটায় শহীদ আবরার ফাহাদ হল ও নূর হোসেন হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে এ সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একে অপরের ওপর হামলা চালায়। এ সময় শিক্ষকরা সংঘর্ষ থামানোর জন্য ঘটনাস্থলে গেলে শিক্ষকরাও লাঞ্ছিত হয় ও একজন শিক্ষক আহত হন। আহত শিক্ষকের নাম অধ্যাপক মবিনুল ইসলাম। ছাত্রদের মধ্যে আহত দু’জন হচ্ছে হাবিপ্রবি শাখার ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আহসান কবির ও অর্ণব। আবরার ফাহাদ হল থেকে আসা হামলাকারীরা নূর হোসেন হলের বিভিন্ন কক্ষ ভাঙচুর করে। হলের সামনে থাকা একটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে। এ সময় হাবিপ্রবির দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি রাফিউল হুদা কর্তব্য পালনের সময় তার মোবাইল ফোনটিও ছিনিয়ে নেয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদে প্রতিপক্ষরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১ নং গেটের সামনে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়ক অবরোধ করে। ফলে দু’ পাশের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
জানা গেছে, সংঘর্ষের সূত্রপাত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলমাঠের দুই আবাসিক হলের শিক্ষার্থীদের কথা কাটাকাটির জেরে। এক পর্যায়ে দুই হলের শিক্ষার্থীরা টিএসসির সামনে জড়ো হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. এস এম এমদাদুল হাসান বলেন, দুই পক্ষের সংঘর্ষ আপাতত থামানো হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক করতে চেষ্টা চলছে। ছাত্রদলের নেতারা অভিযোগ করেন এ ঘটনায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের প্রেতাত্মারা জড়িত।
ছাত্র সংঘর্ষ ঘটনার প্রতিবাদে হাবিপ্রবি শাখার শিবির সভাপতি রেজওয়ানুল হক এক বিবৃতিতে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি ক্যাম্পাসকে প্রতিনিয়ত চরম সহিংসতার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। ঠুনকো বিষয়কে কেন্দ্র করে বারবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে, ক্যাম্পাসে প্রতিনিয়ত চলছে অস্ত্রের ঝনঝনানি, রক্তাক্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন অতি দ্রুত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা না করলে, ক্যাম্পাসে এই সন্ত্রাসী কার্যক্রম কখনোই বন্ধ হবে না। অবিলম্বে ক্যাম্পাসে শান্তি ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা দাবি করছি।
৩১ শিক্ষার্থী সাময়িক বহিষ্কার
হাবিপ্রবি দুই হলের সংঘর্ষের ঘটনায় ৩১ শিক্ষার্থীকে সাময়িক বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শুক্রবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো: আবু হাসান এর (২১ মে) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভিডিও ফুটেজ এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ৩১ জন শিক্ষার্থীকে দোষী শনাক্ত করা হয়েছে।
সাময়িক বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা হলেন কৃষি ও যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের ২২ ব্যাচের মো: নাইমুর রহমান, অর্থনীতি বিভাগের একই ব্যাচের মো: তৌহিদুল ইসলাম তুরাগ, শাকির মাহমুদ, দুর্জয় চন্দ্র বর্মণ, মো: সজিব হোসাইন, একই ব্যাচের মার্কেটিং বিভাগের আসাদুজ্জামান নুর, মো: রিফাত হোসাইন, রসায়ন বিভাগের ২১ ব্যাচের সারোয়ার হোসাইন শাওন, মো: ইমরান হাসান, ফুড অ্যঠন্ড প্রসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো: আওয়াল মিয়া, ইলেকট্রনিক্স অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২৩ ব্যাচের মো: সৌরভ আহমেদ, কম্পিউটার অ্যান্ড সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই ব্যাচের মো: শাওন প্রধান, ফুড প্রসেস অ্যঠন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের একই ব্যাচের মো: আসাদুজ্জামান, গণিত বিভাগের একই ব্যাচের মোরতাজিম বিল্লাহ মাধুর্য ও ২১ ব্যাচের সোহেল রানা, ডিভিএম অনুষদের ২১ ব্যাচের মো: তামিম ইকবাল, কৃষি অনুষদের ২২ ব্যাচের মো: মঈন রোমান তুলন, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২৪ ব্যাচের মো: আরাফাত হোসাইন, একই ব্যাচের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো: এমদাদুল ফেরদৌস জীম, ইংরেজি বিভাগের ২৩ ব্যাচের মো: আসিফ হোসেন, একাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেম বিভাগের ২২ ব্যাচের তাসরিফ ইসলাম প্রান্তিক, ফিসারিজ অনুষদের একই ব্যাচের এম.এইচ.কে মারুফ, পরিসংখ্যান বিভাগের ২৩ ব্যাচের মো: শিহাব শাহরিয়ার ও জাফর সিদ্দিক জিসাদ, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২২ ব্যাচের অংকুর পাল ও ২১ ব্যাচের শরিফুল ইসলাম সোহান, ফুড প্রসেস অ্যঠন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ ব্যাচের মো: শরিফুল ইসলাম সোহান ও মো: ফয়সাল আহমেদ, কৃষি ও যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের ২৪ ব্যাচের মো: সাজেদুর রহমান, ডিভিএম অনুষদের ২৪ ব্যাচের মোহাম্মদ আসিফ ও ২০ ব্যাচের এম.এইচ জামান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো: নওশের ওয়ান জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা রক্ষার্থে তাদের সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।



