রাশিয়ায় হামলায় মার্কিন স্বার্থের ক্ষতি না করতে কিয়েভকে বার্তা

Printed Edition

রয়টার্স

কৃষ্ণসাগরে অবস্থিত রুশ বন্দর নভোরোসিয়েস্কে ইউক্রেনের হামলার পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিয়েভকে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থসংশ্লিষ্ট কিছুতে হামলায় নিষেধ করেছে বলে জানিয়েছেন ওয়াশিংটনে ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলহা স্তেফানিশাইনা।

মঙ্গলবারই প্রথম তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ওই আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক বার্তা পাওয়ার কথা জানান। তবে বার্তাটি কিভাবে দেয়া হয়েছিল এবং এ জন্য মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাকে তলব করেছিল কি না সে বিষয়ে কিছু বলতে তিনি রাজি হননি। ইউক্রেন এ বার্তাটি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছে, বলেছেন স্তেফানিশাইনা। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

ইউক্রেনে রাশিয়ার ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরুর চতুর্থ বর্ষপূর্তির দিন মঙ্গলবার স্তেফানিশাইনা জানান, নভোরোসিয়েস্কে ইউক্রেনের হামলার পর মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যোগাযোগ শুরু করে কারণ সেটি ‘আমেরিকান ও কাজাখ অর্থনৈতিক স্বার্থে প্রভাব ফেলেছিল’।

কাজাখস্তানের তেলের বেশির ভাগই এই নভোরোসিয়েস্কের বন্দর দিয়ে রফতানি হয়। ইউক্রেনের ড্রোন হামলার কারণে শুক্রবার সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য বন্দরটি ওই রফতানি বন্ধ রেখেছিল। মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বার্তায় বলা হয়েছে রুশ অবকাঠামোতে হামলা বন্ধের ব্যাপারে কিছু নেই, কেবল যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন হামলার ব্যাপারে নজর দেয়া হয়েছে।

‘রাশিয়ার সামরিক বাহিনী ও জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলায় নিরুৎসাহিত করার বিষয়ে বার্তায় কিছু নেই। সেখানে মূলত মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সে বিষয়টিকেই প্রাধান্য দেয়া হয়েছিল’- বলেছেন তিনি। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর, স্বাধীনতা লাভের কয়েক দশকেও ইউক্রেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একই রকমের অর্থনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারেনি, এ ঘটনায় তা স্পষ্ট, বলছেন স্তেফানিশাইনা। এখন তিনি এ পরিস্থিতি বদলাতে চান।

রাষ্ট্রদূত হিসেবে এখন তার প্রধান মনোযোগ হচ্ছে শান্তি চুক্তি অর্জনে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কাজ করা। এর পাশাপাশি কিয়েভ যেন ইউক্রেনে টেকসই ও দীর্ঘস্থায়ী মার্কিন অর্থনৈতিক স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করতে পারে তার জন্যও তিনি কাজ করছেন। এটিই তার দেশকে সবচেয় শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দেবে বলেই তার ধারণা। জেনেভায় কয়েক দিন আগেও রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে দুই দিনের শান্তি আলোচনা হয়েছে, যদিও সেখান থেকে দৃশ্যমান কোনো ‘ব্রেক থ্রু’ আসেনি।

পরে মার্কিন কংগ্রেসে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ ভাষণে উপস্থিত থাকা স্তেফানিশাইনা বলেন, যুদ্ধ বন্ধে ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে যেসব যোগাযোগ করে যাচ্ছেন, তার জন্য তার দেশ কৃতজ্ঞ।