খুলনা ব্যুরো
খুলনার দাকোপে মিঠুন আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। শোকাহত পরিবারে গিয়ে ন্যায়বিচার পেতে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন গত নির্বাচনে জামায়াতের এমপি প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী।
খুলনার দাকোপে প্রেমিকা পরিবারেরর হাতে মারপিট ও লাঞ্ছনার শিকার হয়ে অভিমানে মিঠুন গাইন (২৭) আত্মহত্যা করেন। এ ঘটনায় খুলনা বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেড আদালতে সিআর ৮৬/২৬ মামলা দায়ের করা হয়েছে। মিঠুনের মা তরুলতা গাইন বাদি হয়ে তিনজনকে আসামি করে মামলাটি করেছেন। আদালত মামলা আমলে নিয়ে দাকোপ থানার ওসিকে তদন্তের আদেশ দিয়েছেন।
মামলায় অভিযোগ করা হয় দাকোপ সাহেবের আবাদ গ্রামের প্রসাদ রায়ের কন্যা সীমান্তি রায়ের সাথে মিঠুনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যে কারণে প্রসাদ এবং তার স্ত্রী শংকরী রায় প্রতিনিয়ত মিঠুনকে অপমান অপদস্ত করতেন। তারই ধারাবাহিকতায় গত ১৫ এপ্রিল শংকরী, প্রসাদ এবং সীমান্তি রায় মিলে মিঠুনকে প্রকাশ্যে বেধড়ক মারধর ও জুতা পিটা করে। এমনকি এই ঘটনার বিচার না চাইতে মিঠুনকে প্রভাবশালীদের দিয়ে হুমকিধমকি অব্যাহত রাখে। যে কারণে ক্ষোভে অপমানে ২১ এপ্রিল দুপুরে মিঠুন গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে। এ ব্যাপারে তার পরিবার দাকোপ থানায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করতে গেলে থানা সেটি না নিয়ে অপমৃত্যু মামলা করে। এমনকি প্রসাদ রায় মিঠুনের পরিবারের বিরুদ্ধে উল্টো দোকান ভাঙচুরের মিথ্যে অভিযোগ দেয় থানায়। মিঠুন আত্মহত্যার ঘটনায় প্রসাদ রায়ের পরিবারের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে সঠিক বিচার দাবি করে।
অপর দিকে গত মঙ্গলবার রাতে গত সংসদ নির্বাচনে খুলনা-১ আসনের জামায়াত ইসলামীর এমপি প্রার্থী কৃষ্ণ নন্দী মিঠুনের শোকাহত পরিবারকে সান্ত্বনা দিতে তার বাড়িতে যান। এ সময় মিঠুনের মা অভিযোগ করে বলেন, তাদের সাথে প্রভাবশালীদের সম্পর্ক থাকায় ন্যায়বিচার নিয়ে সংশয় আছে। এ সময় কৃষ্ণ নন্দী তাদের আশ্বাস দিয়ে বলেন মিঠুন আত্মহত্যায় প্ররোচনাকারীদের আইনের আওতায় আনতে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা করবেন। এ সময় জামায়াত নেতা হফেজ নজরুল ইসলাম, জি এম ইমদাদুল হক, কামরুল হোসেন শেখ, বাবু হাওলাদার, বিপ্লব বর্মনসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, মিঠুনের বাবা ১০ বছর আগে ভারতে চলে যাওয়ার পর মাকে নিয়েই সে থাকত।



