আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশ বেআইনি : শিশির মনির

Printed Edition
রাজধানীর একটি হোটেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যু নিয়ে পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আ্যাডভোকেট শিশির মনির : নয়া দিগন্ত
রাজধানীর একটি হোটেলে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে শিশু মৃত্যু নিয়ে পরিবার এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন আ্যাডভোকেট শিশির মনির : নয়া দিগন্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

শিশু মৃত্যুর ঘটনায় আদ্-দ্বীনের লাইসেন্স বাতিলের নোটিশকে আনল’ফুল (বেআইনি) আখ্যা দিয়ে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শিশির মনির বলেছেন, সরকারের এই নোটিশের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। যে কারণে হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল করা যায়, তা এই ঘটনায় অনুপস্থিত। তিনি নিজেকে আইনি মেডিয়েটর হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বাস্থ্য অধিদফতরের তদন্ত রিপোর্টের লিখিত জবাব দেবে এবং পরে তারা পার্সোনাল হেয়ারিংও চাইবেন, এটা আইনেই আছে। তিনি বলেন, এখানে কিছু নেগলিজেন্স (অবহেলা) আছে, এই নেগলিজেন্সের বিরুদ্ধে কমপেনসেশন (ক্ষতিপূরণ) হতে পারে। তবে শিশু মৃত্যুর ঘটনাকে অত্যন্ত দুঃখজনক অভিহিত করে তিনি বলেন, কিছু দিয়েই এর ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া সম্ভব নয়। তিনি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘তার এই ভূমিকা কারোর বিরুদ্ধে না এবং কারো পক্ষেও না, বরং সত্যের পক্ষে।’

এ ছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের তদন্তে শিশুদের রুমে অক্সিজেনের অনুপস্থিতি এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়ে গেছে বলেছে। কিন্তু এটা তারা কিভাবে বলেছে সেই ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। শিশুদের রুমে কতটুকু অক্সিজেন কমেছে এবং কতটুকু কার্বন ডাই-অক্সাইড বেড়েছে তাও বলেনি।

গতকাল শনিবার দুপুর ১২টায় রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী শিশির মনিরের সাথে আদ্-দ্বীন হাসপাতালে মৃত ছয় শিশুর পরিবারের লোকজন এবং আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজগুলোর গভর্নিং বডির চেয়ারম্যানসহ কয়েকজন চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন।

শিশির মনির বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরাও আদ্-দ্বীন হাসপাতাল বন্ধ চান না। শিশুদের মৃত্যুর ব্যাপারে যারা দায়ী তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ চান তারা। অতীতেও এই হাসপাতাল থেকেও তারা সেবা নিয়েছেন। এক মৃত শিশুর পিতা হাবিবুর রহমান বলেন, আমি চাই শিশুদের মৃত্যুর জন্য যারা দায়ী তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি হোক। এই হাসপাতালে আমার আরো দু’টি বেবি হয়েছে নর্মাল ডেলিভারিতে। এটা ছিল আমার ৩ নম্বর বেবি। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় একটি বড় হাসপাতাল বন্ধ হয়ে যাক, তা আমি চাই না।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অতীত অবদান : আইনজীবী শিশির মনির বলেন, ১৯৯৭ সাল থেকে এই হাসপাতালে ৩ লাখ ৩ হাজার ৮২৯ শিশুর জন্ম হয়েছে, এর মধ্যে ৯৫ হাজার ২৬৭ শিশু নর্মাল ডেলিভারিতে হয়েছে, ২ লাখ ৮৫৬ শিশু সিজারে জন্ম হয়েছে। ১৯৯৭ সালের পর থেকে এ ধরনের ঘটনা আর ঘটেনি। এ ছাড়া এই হাসপাতালে অন্যদের তুলনায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কম মূল্যে চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। এ পর্যন্ত প্রায় ১০ লাখ মানুষকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে। তিনি ২০২৪ ও ২৫ সালে ভারতের আইসিইউতে শিশু মৃত্যুর দু’টি ঘটনা তুলে ধরেন।

দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা : হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে অবহেলার প্রমাণ পাওয়ায় সিনিয়র নার্স রেখা খাতুন ও পরিবেশ কর্মী নাসিমা আক্তারকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। দায়ীদের আত্মপক্ষ সমর্থনের বিষয়টি রয়েছে বলে, তাদের চূড়ান্ত বরখাস্ত করা যায়নি, সাময়িকভাবে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

ভুক্তভোগী পরিবারের পাশে থাকার ঘোষণা : আইনজীবী শিশির মনির বলেন, আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এ ঘটনায় গভীর দুঃখপ্রকাশ করেছেন। মৃত্যু একটি অপূরণীয় ক্ষতি, কোনো ভাষায় এর শোক প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে শিশুদের পরিবারের ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা (বাবা-মা, ভাই-বোন) যতদিন বেঁচে থাকবেন তারা আদ্-দ্বীন হাসপাতাল থেকে ওষুধসহ বিনামূল্যে চিকিৎসা পাবেন; সক্ষম ব্যক্তিরা চাকরি পাবেন; পরিবারের ছেলে-মেয়েরা যোগ্য হলে বৃত্তি নিয়ে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পড়াশোনা করতে পারবেন।

এ ছাড়া আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মৃত শিশুর পরিবারগুলোকে সম্মানজনক আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান করবে।

সংবাদ সম্মেলনে ক্ষমা প্রার্থনা : এ ঘটনায় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার যে ঘটনা ঘটেছে, এর জন্য তিনি আদ্-দ্বীন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুঃখ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সাথে যে আচরণ করা হয়েছে তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সিসি ক্যামেরা ফুটেজ দেখে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে আদ্-দ্বীন মেডিক্যাল কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আব্দুস সবুর খান বলেন, ইতোমধ্যে দু’জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে তবে নাম প্রকাশ করা হয়নি।