দর্শনা সীমান্তে স্বর্ণ ও মাদক সিন্ডিকেটের অদৃশ্য সাম্রাজ্য

Printed Edition

দামুড়হুদা (চুয়াডাঙ্গা) সংবাদদাতা

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা সীমান্ত এখন স্বর্ণ ও মাদক পাচারের নিরাপদ করিডোর। এই সীমান্তকে ঘিরে গড়ে ওঠা একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের অডিও-ভিডিও ও চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস হওয়ায় এলাকায় তোলপাড় শুরু হয়েছে। পাচারকারী থেকে শুরু করে রাঘববোয়ালদের সম্পৃক্ততায় সীমান্তে এক অদৃশ্য সাম্রাজ্য গড়ে তোলার অভিযোগ উঠেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পারকৃষ্ণপুর-মদনা ইউনিয়নের কামারপাড়া এলাকাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণ পাচার, হুন্ডি ও মাদক কারবার চলছে। স্থানীয়দের দাবি, এই চক্রের নেতৃত্বে রয়েছেন সামাদ (৩৫) ও আলীহিম (৪৮)। সম্প্রতি সামাদের একটি অডিও রেকর্ড ফাঁস হয়েছে, যেখানে তিনি সীমান্তে আটক হওয়া স্বর্ণের চালান নিজের বলে দাবি করেছেন। অডিওতে তাকে পিস্তলসহ আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের কথা স্বীকার করতে শোনা যায়। অন্য একটি ভিডিওতে তাকে ভারতীয় সীমান্তে কাটাতারের ওপারে গিয়ে রাতের আঁধারে ভিডিও ধারণ করতে দেখা গেছে, যা সীমান্ত নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে।

চক্রটির সঙ্গে দর্শনার সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম ওরফে মিয়া রফিকুলের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ উঠেছে। রফিকুলের একটি বিতর্কিত ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়। স্থানীয়দের জানায়, সাধারণ অবস্থান থেকে রফিকুল কীভাবে অল্প সময়ে বিপুল পরিমাণ ট্রাক, গোডাউন ও একাধিক বাড়ির মালিক হলেন? তবে রফিকুল এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ছবিগুলোকে পুরানো ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

চুয়াডাঙ্গা ৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, গত এক বছরে সীমান্ত থেকে কোটি কোটি টাকার স্বর্ণ ও মাদক উদ্ধার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত প্রায় ১৯ কোটি টাকার স্বর্ণ এবং ১০ কোটি টাকার মাদক জব্দ করা হয়েছে। গত বুধবারও ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকার মাদক ধ্বংস করেছে বিজিবি।

বিজিবি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে কেবল বাহক আটক হলেও মূল হোতারা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাচ্ছে। ফাঁস হওয়া অডিও-ভিডিও অনুসন্ধান করে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।