লাইফস্টাইল

গরম না ঠাণ্ডা, কোন দুধ খাবেন

Printed Edition
গরম না ঠাণ্ডা, কোন দুধ খাবেন
গরম না ঠাণ্ডা, কোন দুধ খাবেন

লিনা আকতার

দুধ একটি পুষ্টিকর খাবার, যা সুষম খাদ্যের একটি অংশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মানুষকে নিয়মিত দুধ পান করার পরামর্শ দিয়েছেন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রতিদিন ১ গ্লাস দুধ খাওয়া উচিত। দুধ নিয়ে অনেকে নানা প্রশ্ন ও দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন ঠাণ্ডা দুধ খাবো না, গরম দুধ খাবো আসুন জেনে নেই :

গরম এবং ঠাণ্ডা দুধ উভয়টি শরীরের জন্য উপকারী। তবে আপনি কোন ধরনের দুধ খাবেন তা নির্ভর করবে আপনার স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর। উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, যদি আপনার অ্যাসিটিক বা হজমজনিত সমস্যা থাকে, ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকে এবং ওজন কমাতে চান তাহলে ঠাণ্ডা দুধ খাবেন। ঠাণ্ডা দুধে ইলেকট্রোলাইট থাকে যা ডিহাইড্রেশন দূর করে ক্লান্তি দূর করে। ঠাণ্ডা দুধের মধ্যে ক্যালসিয়াম বিপাকীয়তা বাড়িয়ে তোলে, ফলে ক্যালরি বেশি পোড়ে। তাই ওজন কমাতে সাহায্য করে।

গরম দুধ : যাদের ঘুম ভালো হয় না, হজমের সমস্যা নেই তারা উষ্ণ গরম দুধ খেতে পারেন। আবার গরম দুধে ল্যাকটোজের পরিমাণ কম থাকে। তাই এই দুধ সহজেই হজম হয়। আবহাওয়া পরিবর্তনে বিশেষ করে ঠাণ্ডায় সর্দি, কাশি থাকলে হালকা গরম দুধের সাথে মধু মিশিয়ে খেলে ঠাণ্ডা দূর হয়। যারা কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য গরম দুধ উপকারী। শিশুদের জন্য সবসময় হালকা গরম দুধ পান করা ভালো। মেয়েদের পিরিয়ডের সমস্যা গরম দুধ খেলে প্রশান্তি দেয়। হালকা গরম দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খেলে পিরিয়ডের ব্যথা দূর করে।

অনেকে দুধের ফ্যাট কমাতে পানি মিশিয়ে দুধ পান করেন। কিন্তু পানি মেশালে দুধের ফ্যাট কমে না বরং কমে যায় দুধের উপকারিতা। তবে গরুর দুধে ফ্যাট গ্লোবিউলিন একটু বড় যার কারণে শিশুদের পানি মিশিয়ে খেতে বলা হয়। এতে শিশুদের হজম প্রক্রিয়া ভালো হয়। তবে এ ক্ষেত্রে দুধের সর আগে সরিয়ে পানি মিশিয়ে খাওয়াতে হবে। খুব বেশি গরম দুধ পান করবেন না। কারণ খুব বেশি গরম দুধ পান করলে পেটের হজমজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর পরিবর্তে হালকা গরম দুধ পান করবেন। আবার অনেকে দুধ অনেক বেশি জ্বাল দিয়ে গাঢ় করে খান। দুধের ঘনত্ব বা গাঢ়ত্ব তার পুষ্টিগুণ ও হজমের ওপর প্রভাব ফেলে। সাধারণত গাঢ় দুধ বেশি পুষ্টিকর হতে পারে তবে এটি হজম করা কিছু মানুষের জন্য কষ্টকর হতে পারে। তাই দুধ অনেক্ষণ জ্বাল দিয়ে বেশি গাঢ় করে খাওয়া ঠিক নয়। এতে চর্বির ঘনত্বও বেশি হয়। যাদের ল্যাকটোজ ইনটলারেন্স ও হজমের সমস্যা আছে তাদের জন্য ভালো নয়।

কখন খাবেন দুধ : ১. যারা ওজন কমাতে চান তারা রাতে খাবারের পর দুধ খাবেন না। কারণ রাতে তেমন ক্যালরি খরচ হয় না। আবার যারা রাতের খাবার দেরিতে খাওয়ার অভ্যাস আছে তারা রাতে খাবারের পর না খেয়ে বিকেলে দুধ পান করবেন। ২. থাইরয়েড রোগীরা সকালে থাইরয়েড মেডিসিন নেন তাই সকালে দুধ না খেয়ে বিকেলে খাওয়া ভালো।

৩. রাতে ঠাণ্ডা দুধ পান করলে হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই হালকা কুসুম গরম দুধ খাবেন। খাবারের ৩০ মিনিট পর।

৪. ডায়াবেটিক রোগীরা ফ্যাটমুক্ত করে অর্থাৎ সর সরিয়ে দুধ পান করবেন। খাওয়ার পর না খেয়ে বিকেলে বা মিডমর্নিং এ খাবেন। ৫. শারীরিক ব্যায়াম করার পর দুধ খেলে শরীরে ডিহাইড্রেশন দূর করবে এবং শরীরে পানির মাত্রা ঠিক রাখবে।

৬. আবহাওয়া পরিবর্তনে সর্দি, কাশি সমস্যা এড়াতে হালকা গরম দুধ পান করলে ফ্লু সংক্রমণ হতে রক্ষা পাওয়া যাবে। এ জন্য হালকা দুধের সাথে হলুদ মিশিয়ে খেতে পারেন সকালে কিংবা বিকেলে।

হালকা গরম দুধ কেন ভালো : সর্দি, কাশি, ভালো ঘুম হতে আরাম দিবে। হজম শক্তি ভালো হবে। এজন্য হালকা গরম পাতলা দুধ খাওয়া ভালো।

ঘুমানোর আগে দুধ : রাতে ঘুমানোর আগে আমরা অনেকেই গরম দুধ পান করি। দুধে ট্রিপটোফ্যান ও মেলাটোনিন আছে। ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন নিরসনে সাহায্য করে এবং সেরোটোনিন স্নায়ুকে শান্ত করে, দুশচিন্তা দূর করে। যার ফলে দ্রুত ঘুম আসে। আর মেলাটোনিন জৈবিক ঘড়ি নামে পরিচিত যা ঘুমের চক্রকে নিয়ন্ত্রণ করে। এজন্য ঘুমানোর আগে দুধ পান করলে ভালো ঘুম হতে সাহায্য করবে। তবে এজন্য রাতের খাবার দুধ খাওয়ার ১ থেকে ২ ঘণ্টা আগে শেষ করতে হবে। অতিরিক্ত গরম দুধ না খেয়ে হালকা গরম দুধ পান করবেন।

লেখিকা : কর্মী, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর