- বস্তাবন্দী অবস্থায় পড়ে আছে লাখ লাখ খাতা
- শিক্ষামন্ত্রীর কড়া বক্তব্যে ক্ষুব্ধ অনেক শিক্ষক
- সম্মানী না বাড়ায় আগ্রহও নেই পরীক্ষকদের
বারবার তাগিদ দেয়ার পরেও এসএসসির বাংলা প্রথমপত্রের খাতা মূল্যায়নে সাড়া মিলছে না। অনেক শিক্ষক এখনো খাতা নিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডেও আসেননি; এমনকি যোগাযোগও করেননি। গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত একশর বেশি শিক্ষক উত্তরপত্র নিতে আসেননি। অনেক খাতা বস্তাবন্দী অবস্থায় অরক্ষিতভাবে পড়ে রয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড অফিসের বারান্দায়। তবে এসব খাতা (বাংলা প্রথমপত্র) আজ বুধবারের মধ্যে শিক্ষকরা না নিলে সঠিক সময়ে খাতা মূল্যায়ন, জমা এবং ফলাফল প্রস্তুতেও বিলম্ব হওয়ার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানায়, এবারের এসএসসি পরীক্ষার বাংলা প্রথমপত্রের উত্তরপত্র গত ৪ মে সোমবারের মধ্যে পরীক্ষকদের সংগ্রহ করার কথা ছিল; কিন্তু একদিন পরেও অনেক পরীক্ষক খাতা সংগ্রহ করতে শিক্ষা বোর্ডে আসেননি; এমনকি অনেকে যোগাযোগও করেননি।
ফলে বাধ্য হয়ে গতকাল মঙ্গলবার আবারো জরুরি নির্দেশনা দিয়ে শিক্ষকদের আজ বুধবারের মধ্যে খাতা সংগ্রহ করতে বলা হয়েছে। অন্যথায় যারা উত্তরপত্র মূল্যায়ন কাজে গাফিলতি করবেন; কিংবা কোনো প্রকার শৈথিল্য দেখাবেন তাদের বিরুদ্ধে শিক্ষা বোর্ড কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন মর্মেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
এ দিকে গতকাল বিকেলে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, এবারের এসএসসি পরীক্ষার খাতা মূল্যায়নের জন্য বেশি পরীক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। গত বছর যেখানে পরীক্ষকদের সংখ্যা ছিল মাত্র ছয়শ থেকে সাতশ জন সেখানে এবার পরীক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে ৮৪০ জন। এ ছাড়া উত্তরপত্র যাতে সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হয় সেজন্য পর্যাপ্ত সময়ও দেয়া হয়েছে; কিন্তু পরীক্ষকগণ যদি উত্তরপত্রই নিতে না আসেন তাহলে মূল্যায়ন এবং ফল প্রস্তুতেও বিলম্ব হবে। শিক্ষকদের অনেকে নয়া দিগন্তের এ প্রতিবেদককে জানান, আগে একটি উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য সম্মানী ছিল ৪৫ টাকা। এবারো সম্মানী সে একই ৪৫ টাকাই রাখা হয়েছে। ফলে শিক্ষকদের অনেকেই উত্তরপত্র মূল্যায়নে আগ্রহী হচ্ছেন না। আবার শুরু থেকেই শিক্ষামন্ত্রী যেখানে শিক্ষকদের উদ্দেশে আক্রমণাত্মকভাবে কথা বলেছেন, নির্দেশনা দিয়েছেন এবং খাতায় নম্বর কম বা বেশি দেয়া হলে কঠিন ভাষায় ব্যবস্থার হুমকি দিয়েছেন; তাতেও অনেকে খাতা মূল্যায়নের দায়িত্ব থেকে নিজেদের এড়িয়ে রাখার কথা ভাবছেন। শিক্ষামন্ত্রীর এমন হুঙ্কার শিক্ষকদের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে বলেও জানান অনেক শিক্ষক।
সূত্র জানায়, চলমান এসএসসি পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে নিয়োগ পাওয়া ৮৪০ পরীক্ষকের মধ্যে গত সোমবার রাত পর্যন্ত ২৩৫ জন খাতা সংগ্রহ করেননি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সংশ্লিষ্টদের গতকাল মঙ্গলবারের মধ্যে খাতা সংগ্রহের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল; কিন্তু গতকালও সবাই খাতা সংগ্রহ করতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে আসেননি।
তবে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক এস এম কামাল উদ্দিন হায়দার জানান, আজ (মঙ্গলবার) অনেক পরীক্ষক আমাদের সাথে যোগাযোগ করেছেন। তারা এক-দু’দিনের মধ্যেই সব খাতা নিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন। একই সাথে তারা উত্তরপত্র সংগ্রহ করতে বিলম্বের একটি কারণ বা ব্যাখ্যাও দিয়েছেন। অনেকে জানিয়েছেন তারা অসুস্থ ছিলেন। এ কারণে উত্তরপত্র নিতে একটি দেরি হয়েছে। তবে এ কারণে খাতা মূল্যায়ন কিংবা ফল প্রকাশের কোনো ব্যাঘাত তৈরি হবে না বলেও তিনি জানান। কেননা এবার গত বছরের তুলনায় সংখ্যায় অনেক বেশি পরীক্ষক নিয়োগ করা হয়েছে। সবাই সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলেও আশা করা হচ্ছে আগের নিয়মেই পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের আগেই ফলাফলও প্রকাশ সম্ভব হবে।
ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র আরো জানায়, এর পরেও যদি কোনো পরীক্ষক উত্তরপত্র সংগ্রহে দেরি করবেন; কিংবা দায়িত্ব পালনে কোনো প্রকার অনীহা প্রকাশ করবেন; তাহলে তাকে আগামী দিনের জন্য পরীক্ষক হিসেবে কালো তালিকাভুক্ত করা হবে। একই সাথে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।



