রাজবাড়ীর সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স আছে, চালক নেই

Printed Edition

এম মনিরুজ্জামান রাজবাড়ী

রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালসহ বেশ কয়েকটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক নেই। সেকারণে কার্যত স্থবির হয়ে আছে হাসপাতালগুলোর অ্যাম্বুলেন্স সেবা। জরুরি সময়ে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে রোগী ও স্বজনদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তিনগুণ পর্যন্ত বেশি ভাড়া গুনতে হচ্ছে, যা অনেক রোগীর পক্ষে বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

জেলার সবচেয়ে বড় স্বাস্থ্যকেন্দ্র ২৫০ শয্যার রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চারটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও চালক আছেন মাত্র একজন। অনুমোদিত পদ দু’টি হলেও দুই বছর আগে একজন চালক অবসরে যাওয়ার পর আর নতুন নিয়োগ হয়নি। ফলে একাই পুরো জেলার রোগী পরিবহনের চাপ সামলাতে হচ্ছে এই একজন চালককেই।

সরেজমিন দেখা যায়, হাসপাতালের নতুন ভবনের গ্যারেজে থাকা কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্স অচল অবস্থায় পড়ে আছে। কোনোটায় ধুলা জমেছে, কোনোটার টায়ারে বাতাস নেই। কেবল একটি অ্যাম্বুলেন্সই সচল এবং ওই একটি দিয়েই জরুরি রোগী পরিবহন করা হচ্ছে।

সদর হাসপাতালের চালক মাসুদ বলেন, ঢাকায় রোগী নিয়ে গেলে আসা-যাওয়া মিলিয়ে অন্তত আট ঘণ্টা সময় লাগে। ফিরে এসে সাথে সাথে আবার রোগী নেয়া সম্ভব হয় না। এতে অনেক রোগী সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। কিন্তু আমি একা, কী করতে পারি।

জেলার অন্যান্য স্বাস্থ্যকেন্দ্রেও একই চিত্র। রাজবাড়ী শহরের বেড়াডাঙ্গা এলাকার ২০ শয্যার মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্রে একটি অ্যাম্বুলেন্স থাকলেও ২০২৩ সালে চালক অবসরে যাওয়ার পর থেকে সেটি গ্যারেজেই পড়ে আছে। দীর্ঘ দিন ব্যবহার না হওয়ায় গাড়ির যন্ত্রাংশ নষ্ট হয়ে গেছে।

পাংশা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও একটি অ্যাম্বুলেন্স আছে। তবে তিন বছর থেকে সেখানেও চালক নেই। ফলে অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এ উপজেলার রোগীদের সম্পূর্ণভাবে নির্ভর করতে হয় বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি সেবা নিতে হচ্ছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের মানুষদের জন্য এভাবে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ব্যয় বহন করা সম্ভব হয়ে ওঠে না।

এ বিষয়ে রাজবাড়ী ড্যাবের সভাপতি ডা: নিয়ামত উল্লাহ বলেন, প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া। সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা: শেখ মোহাম্মদ আব্দুল হান্নান জানান, চালক সঙ্কটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। একজন চালকের পক্ষে পুরো চাহিদা পূরণ করা কখনোই সম্ভব নয়।

রাজবাড়ীর সিভিল সার্জন ডা: এস এম মাসুদ বলেন, শুধু চালক নয়, স্বাস্থ্য খাতে নানা ধরনের জনবল সঙ্কট রয়েছে। এসব বিষয়ে লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।

দ্রুত নতুন চালক নিয়োগ দিয়ে অ্যাম্বুলেন্স সেবা সচল করার দাবি জানিয়েছেন হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা। তারা বলেন, এ অবস্থা চলতে থাকলে জরুরি চিকিৎসাসেবা আরো ব্যাহত হবে।