আ’লীগের হেভিওয়েটদের তদন্তে আরো ৩ মাস সময়

মানবতাবিরোধী অপরাধ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরো তিন মাস সময় বাড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৬ জুলাই এই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদক
Printed Edition

  • প্রতিমন্ত্রী কামালের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমার নির্দেশ
  • হুইলচেয়ারে এসে দীপু মনির সাথে দেখা করলেন স্বামী
  • জামিন চাইলেন তৌফিক-ই-ইলাহী

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগ সরকারের হেভিওয়েট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলে আরো তিন মাস সময় বাড়িয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। আগামী ২৬ জুলাই এই প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

গতকাল রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

এদিন সকালে কড়া নিরাপত্তায় কারাগার থেকে প্রিজনভ্যানে করে ৯ আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। হাজির করা আসামিরা হলেন সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা: দীপু মনি, সাবেক বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, সাবেক শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু, সাবেক কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দীন চৌধুরী মানিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রসচিব জাহাঙ্গীর আলম, সাবেক এমপি সোলাইমান সেলিম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী।

শুনানিতে প্রসিকিউটর গাজী এম এইচ তামীম মামলার একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিল করে তদন্ত শেষ করতে আরো তিন মাস সময় চান। তিনি জানান, এ মামলায় মোট ৪৬ জন আসামি ছিলেন। এর মধ্যে ধাপে ধাপে অনেকের বিরুদ্ধে ফরমাল চার্জ দাখিল করা হয়েছে এবং কয়েকটির বিচারও চলছে। বাকিদের বিরুদ্ধে তদন্ত চলমান রয়েছে যা আগামী তিন মাসের মধ্যে শেষ করা সম্ভব হবে।

শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে আগামী ২৬ জুলাই প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী দিন ধার্য করেন। এর আগে গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলাগুলো দায়ের করা হয়।

প্রতিমন্ত্রী কামালের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন জমার নির্দেশ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালীন সংঘটিত হত্যাযজ্ঞের ঘটনায় হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় সাবেক শিল্প প্রতিমন্ত্রী কামাল আহমেদ মজুমদারের স্বাস্থ্য প্রতিবেদন ও তদন্তের অগ্রগতি প্রতিবেদন চাওয়া হয়েছে। আগামী ২৬ জুলাই এ দু’টি প্রতিবেদন জমার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল।

কামাল মজুমদারের জামিন আবেদনের ওপর শুনানি করেন আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, বর্তমানে পিজি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন কামাল মজুমদার। বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হওয়ায় তার ওজন কমতে কমতে নাজুক অবস্থা। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের সময় আমার ক্লায়েন্ট নিজেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনেক সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধিতা করেছিলেন। এজন্য তাকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢুকতে দেয়া হয়নি। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের মামলায় তিনি দেড় বছর ধরে কারাবন্দী। অথচ এ সময়ে তার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগই দেখাতে পারেনি প্রসিকিউশন। এই আইনজীবী বলেন, কামাল মজুমদারের বর্তমান অবস্থা সঙ্কটাপন্ন। যেকোনো মুহূর্তে কিছু ঘটে যেতে পারে। তাকে একটু বাঁচতে দিন। মানবিক দিক বিবেচনায় হলেও তিনি জামিন পাওয়ার যোগ্য।

এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, এ মুহূর্তে জামিন দিলেও তাকে হাসপাতালে থাকতে হবে। জবাবে আইনজীবী মিজানুর রহমান বলেন, ‘মাননীয় আদালত, সেটা ভিন্ন জিনিস। আমরা এ মুহূর্তে তার জামিন চাই।’

হুইলচেয়ারে এসে দীপু মনির সাথে দেখা করলেন স্বামী

মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলার আসামি সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা: দীপু মনির সাথে সাক্ষাৎ করতে ট্রাইব্যুনালে এসেছেন তার স্বামী তৌফিক নেওয়াজ। রোববার দুপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের হাজতখানায় এ সাক্ষাৎ হয়।

এদিন স্ত্রীর সাথে দেখা করতে আইনজীবী সিফাত মাহমুদের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কাছে অনুমতি চান তৌফিক নেওয়াজ। অনুমতি পাওয়ার পর ট্রাইব্যুনালের প্রধান ফটক দিয়ে হুইলচেয়ারে করে তৌফিক নেওয়াজকে হাজতখানায় নেয়া হয়। সেখানে তিনি স্বল্প সময়ের জন্য স্ত্রী দীপু মনির সাথে সাক্ষাৎ ও আলাপ করেন। এরপর আবারো তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।

জামিন চাইলেন তৌফিক-ই-ইলাহী

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামিন চেয়েছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা তৌফিক-ই-ইলাহী চৌধুরী। রোববার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো: গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ নিয়ে শুনানি হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য হলেন, বিচারপতি মো: শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো: মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

তৌফিক-ই-ইলাহীর জামিন চেয়ে শুনানি করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী শেখ আলী আহমেদ খোকন। প্রসিকিউশনের পক্ষে শুনানি করেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম।

ট্রাইব্যুনালে আইনজীবী খোকন বলেন, আমার ক্লায়েন্ট তৌফিক-ই-ইলাহী শুধুমাত্র একজন উপদেষ্টা ছিলেন। তিনি ১৪ দলের কেউ নন। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন দমনে আওয়ামী লীগ সরকারের কোনো বৈঠকে তিনি উপস্থিত ছিলেন না। এরপরও তিনি এক বছর সাত মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের কোনো মামলায় আসামি গ্রেফতারের এক বছরের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা না দিলে জামিন পেতে পারেন। তাই তাকে জামিন দেয়া উচিত।

এ সময় চিফ প্রসিকিউটরকে শুনতে চান ট্রাইব্যুনাল। তিনি আরো সময় চান। এর মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হবে বলে জানান তিনি। উভয়পক্ষের শুনানি শেষে আগামী ২৬ জুলাই এ মামলার পরবর্তী শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।