৩০০০ কেজি ওজনের কামান চুরি

Printed Edition

নয়া দিগন্ত ডেস্ক

যেনতেন চুরি নয়, এ যেন ডাকাতিরও বেশি। তিন হাজার কেজি ওজনের একটি ঐতিহাসিক কামান চুরি হয়েছে ভারতের মধ্য প্রদেশের এক দুর্গ থেকে। কামানটি সিন্ধিয়া আমলের। ভাবুন একবার কতটুকু সাহস হলে এমন পরিকল্পিত এক চুরি সম্ভব। নারওয়ার দুর্গ থেকে কামানটি চুরি করতে এসেছিল ৩০ জনের সশস্ত্র দল। তাদের সাথে ছিল একটি ক্রেন ও একটি ট্রাক।

চুরি হওয়া কামানটি নারওয়ার দুর্গের কাছারি চত্বরে প্রদর্শিত ১৪টি ঐতিহাসিক অস্ত্রের মধ্যে ছিল। এই চাঞ্চল্যকর চুরি ভারতের বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থাপনার নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।

স্মৃতিস্তম্ভের দেয়াল বিকৃত করা থেকে শুরু করে মূর্তি এবং প্রাচীন প্রতœবস্তু চুরি পর্যন্ত, ভারতের ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো বারবার অবহেলা এবং অবৈধ কার্যকলাপের শিকার হয়েছে। এখন, ঐতিহ্য হারানোর এই ক্রমবর্ধমান তালিকায় নতুন যুক্ত হলো মধ্যপ্রদেশের ঐতিহাসিক নারওয়ার দুর্গে শতাব্দী ধরে সংরক্ষিত তিন হাজার কেজি ওজনের একটি সিন্ধিয়া আমলের কামান।

জানা গেছে, সশস্ত্র ডাকাত দলটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে এসেছিল। তারা নিরাপত্তা কর্মীদের হুমকি দিয়ে নিষ্ক্রীয় করে রাখে। এরপর শতাব্দী প্রাচীন কামানটি নিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

প্রতিবেদন অনুসারে, প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সশস্ত্র লোকের একটি দল ১৫-১৬ জুলাই রাতে ওই দুর্গে প্রবেশ করে এবং দুর্গের খোলা কাছারি (আদালত) চত্বরে রাখা ১৪টি ঐতিহাসিক কামানের মধ্যে একটি চুরি করে নিয়ে যায়। এখনও ১৩টি সেই স্থানে অবশিষ্ট রয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে যে, দলটি ভারী কামানটি সরানোর জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়ে এসেছিল। যেহেতু অস্ত্রটির ওজন প্রায় তিন হাজার কেজি ছিল, তাই সেটি পরিবহনের জন্য তারা একটি ক্রেন ও একটি ট্রাক নিয়ে এসেছিল। অভিযুক্তরা দুর্গের পেছনের একটি পথ দিয়ে প্রবেশ করেছিল।

নিরাপত্তারক্ষীর অসহায় পরিস্থিতির বর্ণনা

সেই সময় কর্তব্যরত নিরাপত্তারক্ষী বালকিষান বলেন, সশস্ত্র লোকের একটি বড় দল হঠাৎ দুর্গে এসে হাজির হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীদের কাছে আধুনিক অস্ত্র ছিল, অথচ নিরাপত্তাকর্মীদের কাছে ছিল কেবল একটি কাঠের লাঠি।

তিনি আরো অভিযোগ করেন যে, ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা ছিল না এবং টর্চের মতো সাধারণ সরঞ্জামও পাওয়া যাচ্ছিল না। রক্ষীটি বলেন, লোকগুলো তাকে হত্যার হুমকি দেয়, ফলে তিনি নিজের জীবন বাঁচাতে সরে যেতে বাধ্য হন।

ষোড়শ শতাব্দীর কামানটি কেন গুরুত্বপূর্ণ

চুরি হওয়া কামানটি কেবল একটি পুরনো ধাতব কাঠামো নয়। ঐতিহাসিকরা এটিকে ভারতের সামরিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বলে মনে করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, কামানটি ষোড়শ শতাব্দীর বলে মনে করা হয় এবং এটি সেই সময়ের ধাতুশিল্পের দক্ষতা ও যুদ্ধ প্রযুক্তির প্রতিফলন ঘটায়।

এর জটিল খোদাই এবং ঐতিহাসিক চিহ্নগুলো এর দুর্লভতা ও গুরুত্বকে আরো বাড়িয়ে তুলেছে।

একটি ঐতিহাসিক সম্পদের মূল্য কেবল আর্থিক পরিমাপে মাপা যায় না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন- দুর্লভ, শতবর্ষ পুরনো প্রতœবস্তুগুলো অবৈধ আন্তর্জাতিক বাজারে অত্যন্ত চড়া দামে বিক্রি হতে পারে।

ঐতিহাসিক প্রতœবস্তু চোরাচালানে জড়িত কোনো চক্রের সাথে এই চুরির কোনো যোগসূত্র আছে কি না, পুলিশ তাও তদন্ত করছে। অবৈধ প্রতœবস্তু ব্যবসার চক্রের সাথে এর সম্ভাব্য যোগসূত্র তদন্ত করছে। আন্তর্জাতিক চোরাচালানের যোগসূত্র উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।