নিজস্ব প্রতিবেদক
বরিশালে ২০১৫ সালে ছাত্রদল ও জাসাসের দুই নেতাকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শেখ হাসিনার ফুফাতো ভাই ও সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ, বরিশালের সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি) এ কে এম এহসানউল্লাহসহ চারজনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
গতকাল বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। একই সাথে আগামী ১৭ জুন থেকে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। মামলায় মোট সাক্ষী ২৮ জন। চার আসামির মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহ পলাতক রয়েছেন। অন্যদিকে গ্রেফতার হয়ে কারাগারে আছেন উজিরপুর থানার সাবেক দুই সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো: মাহাবুল ইসলাম ও মো: জসিম উদ্দিন। গতকাল বুধবার তাদের ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
এদিন বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আদেশ পড়ে শোনান। পরে উপস্থিত দুই আসামির কাছে জানতে চাওয়া হয়, তারা দোষ স্বীকার করেন কি না। জবাবে মাহাবুল ইসলাম ও জসিম উদ্দিন নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
মামলায় বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার দুই ব্যক্তি হলেন আগৈলঝাড়া উপজেলা ছাত্রদলের তৎকালীন যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক টিপু হাওলাদার এবং একই উপজেলার জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা জাসাসের সাংগঠনিক সম্পাদক কবির মোল্লা।
আনুষ্ঠানিক অভিযোগে বলা হয়েছে, টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লা ছিলেন আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করতে ব্যর্থ হয়ে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্র করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ ও এ কে এম এহসানউল্লাহ তাদের অধস্তন পুলিশ সদস্যদের দিয়ে ২০১৫ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে গৌরনদী-গোপালগঞ্জ মহাসড়কের আগৈলঝাড়া বাইপাস সড়কের বড় ব্রিজের পশ্চিম পাশে টিপু হাওলাদার ও কবির মোল্লাকে গুলি করে হত্যা করান।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেছেন, ‘এটি একটি ভয়াবহ অভিযোগ। নিহত টিপু হাওলাদার এবং কবির মোল্লা যথাক্রমে ছাত্রদল ও জাসাসের (জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থা) রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন।
তাদের সাথে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহর রাজনৈতিক বিরোধ ছিল। এর জেরেই তিনি ওই দু’জনকে ‘ক্রসফায়ারে’ হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ বরিশালের তৎকালীন এসপি এ কে এম এহসানউল্লাহকে নির্দেশনা দেন।
এরপর একটি গাড়ি পোড়ানোর মামলায় টিপু ও কবিরকে গ্রেফতার করে প্রথমে ঢাকায় আনা হয়; সেখান থেকে ‘ক্রসফায়ারের’ উদ্দেশ্যে তাদের বরিশালে নেয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি।
আমিনুল ইসলাম বলেন, পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হলেও শুরুতে কয়েকজন সহকারী ও উপপুলিশ পরিদর্শক এই বেআইনি কাজে রাজি হননি। তবে পরবর্তীতে অন্যান্য আসামিদের নির্দেশে তারা রাজি হন। রাত ২টার দিকে আগৈলঝাড়ার ভোদাল নামক স্থানে নিয়ে তাদের নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং ক্রসফায়ারের নাটক সাজানো হয়।’
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পুলিশ নিজেরাই তখন থানায় জিডি করেছিল এবং ময়নাতদন্ত করিয়েছিল।
আর সেই নথিপত্রই এখন তাদের বিরুদ্ধে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। মজার বিষয় হলো, ক্রসফায়ারে হত্যার পর তারা নিজেরাই জিডি করে হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি ইনডাইরেক্টলি নথিপত্রে সংরক্ষণ করে গেছে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টেও গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর কথা আছে। এভিডেন্স থেকে স্পষ্ট যে, এই দু’জন পুলিশের ধৃত ছিল এবং পুলিশ হেফাজতে তাদের হত্যা করা হয়েছে ।



