শিক্ষা খাত নিয়ে জামায়াতের প্রাক বাজেট সংলাপ

বরাদ্দ বৃদ্ধির পাশাপাশি শিক্ষায় সুশাসন নিশ্চিত করতে হবে

Printed Edition
জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন নিয়ে প্রাক-বাজেট সংলাপে অতিথিরা : পিআইডি
জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন নিয়ে প্রাক-বাজেট সংলাপে অতিথিরা : পিআইডি

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি শিক্ষায় সুশাসন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত শিক্ষা খাতে বরাদ্দ ও জাতীয় উন্নয়ন শীর্ষক প্রাক বাজেট সংলাপে অংশ নিয়ে দেশের শিক্ষাবিদ, জাতীয় সংসদের সদস্য এবং পেশাজীবীরা এই দাবি জানিয়েছেন।

জাতীয় সংসদের সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিভাগের আহ্বায়ক অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে সংলাপে বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য ইলিয়াস মোল্লা, মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুর রব, আদর্শ শিক্ষক ফেডারেশনের সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক এ বি এম ফজলুল করিম, কারিগরি শিক্ষাবিষয়ক গবেষক অধ্যাপক সৈয়দ আবদুল আজিজ, সংসদ সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ, এনসিপির শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, এ বি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, মেজর (অব:) আখতারুজ্জামান প্রমুখ। সংলাপে মূল বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নর্থসাউথ বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক এ কে এম ওয়ারেসুল করিম।

সংলাপে অংশ নিয়ে বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ মানারাত ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ভিসি অধ্যাপক ড. আবদুর রব বলেন, শিক্ষা কাঠামোতে যদি পরিবর্তন না আসে তাহলে দেশেরও কোনো উন্নতি হবে না। শিক্ষাকে উন্নয়নের মূল ভিত্তি হিসেবে ধরে নিয়ে সেভাবেই আমাদের শিক্ষানীতি শিক্ষা আইন তৈরি করতে হবে। দেশের অনেক শিক্ষাবিদ বিদেশে গিয়ে তার মেধা ও যোগ্যতার ভিত্তিতে অবদান রাখতে পারলেও দেশে আমরা তাদের জন্য কোনো কর্মক্ষেত্র তৈরি করতে পারছি না। তিনি অভিযোগ করে বলেন, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে যেভাবে দলীয় বিবেচনা করে ভিসি নিয়োগ দেয়া হয়েছে তা জাতি হিসেবে আমাদের জন্য লজ্জার। শুধু আগের অন্তবর্তীকালীন সরকার নিয়োগ দিয়েছিল এমন অভিযোগেই যোগ্য ব্যক্তিদের বাদ দিয়ে দলীয় এবং লেজুরভিক্তিক ব্যক্তিদের ভিসি নিয়োগ দেয়ার মাধ্যমে শিক্ষাক্ষেত্রে আমাদের দেউলিয়াত্বই প্রকাশ পেয়েছে। সংলাপে জাতীয় বাজেটে জিডিপির ৪ থেকে ৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখার বিষয়েও জোর দাবি জানানো হয়।

মুক্তিযোদ্ধা মেজর অব আক্তারুজ্জামান বলেন, বিভিন্ন কার্ডের নামে রাষ্ট্রের অর্থ লুটপাট হচ্ছে। শিক্ষা নিয়ে কেউই ভাবছে না। অথচ এই অর্থ জোগাড় করতে প্রকারান্তরে জনগণের পকেট কাটার আয়োজন চলছে। তিনি বলেন, যাদের বাজেট তৈরি করার কথা তারা সত্যিকার অর্থে কিছুই জানেন না। সরকারের ইচ্ছা বা অনিচ্ছার ওপরেই বাজেটের বরাদ্দ নির্ভর করে। এখানে জনগণের চাহিদা বা ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয় না।

ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ বলেন, শিক্ষার সাথে ভোকেশনাল শিক্ষাকেও সমন্বয় করা জরুরি। তিনি বলেন, মিড ডে মিল প্রকল্পে সপ্তাহে ১৭ কোটি টাকা লুট হচ্ছে। এখন আবার শিক্ষকদের ট্যাপ দেয়ার প্রকল্প নিয়ে আবারো লুটপাটের আয়োজনের প্রস্তুতি চলছে। তিনি শিক্ষকদের ট্যাপ না দিয়ে বরং শিক্ষা উপকরণে বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি জানান। একই সাথে উচ্চ শিক্ষায় আরো বিস্তৃতভাবে গবেষণা কাজে সরকারের দৃষ্টি দেয়া দরকার বলে মনে করেন নতুন এই সংসদ সদস্য।

ব্যরিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, শিক্ষাকে মৌলিক অধিকার বলা হলেও শিক্ষাকে সঠিকভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়নি। ফলে শিক্ষা বাজেট নিয়ে আলোচনা করার আগে শিক্ষাকাঠামো এবং শিক্ষার সুশাসন নিয়ে আলোচনা করা জরুরি। তবেই আমাদের সবার মধ্যেই শিক্ষার সঠিক বাজেট নিয়ে শুভবুদ্ধির উদয় হবে।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন, অতীতেও অনেক বাজেট দেখেছি। বাজেটের পর অনেক বক্তব্য হয় বিবৃতি আসে। কিন্তু কোনো কাজ হয় না। এর জন্য আমাদের আয় এবং ইনকামকে হালাল হতে হবে। বাজেটের পর দাম বাড়বে এমন আশঙ্কায় থাকে। বাজেট আসার আগে থেকেই জনগণ দাম বৃদ্ধির ভয়ে থাকেন। তিনি বলেন, কোনো ধ্বংস নয় বরং কোয়ালিটি বাড়ানোর ওপর গুরুত্বরোপ করেন তিনি।

সংলাপে অন্যান্যের মধ্যে আরো বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও ডাকসুর কোষাধ্যক্ষ ড. মোশাররফ হোসেন জাহাঙ্গীর নগর বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ দিদার আলম মুহসিন, জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের অধ্যাপক তারেক মুহাম্মদ শামসুল আরেফীন, ইসলামী ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিগবাতুল্লাহ, বিশ^বিদ্যালয় শিক্ষক প্রতিনিধি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসেন, মানারাতের অধ্যাপক ড. মোহসিনা আক্তার, সাভার মডেল কলেজের অধ্যক্ষ তৌহিদ হোসেন, বাংলাদেশ কলেজ শিক্ষক পরিষদের সেক্রেটারি রবিউল ইসলাম, মাদরাসা শিক্ষক প্রতিনিধি ও তা’মীরুল মিল্লাত মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, কারিগরি শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ড. মোহাম্মদ শাহ আলম মজুমদার, মাধ্যমিক শিক্ষক প্রতিনিধি আবদুর রহিম, প্রাইমারি শিক্ষক প্রতিনিধি ড. সাখাওয়াত হোসেন প্রমুখ।