নিজস্ব প্রতিবেদক
টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্টের ভাইস গভর্নর মাৎসুমোতো আকিকোর সাথে বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান সাক্ষাৎ করেছেন। সাাৎকালে তিনি বাংলাদেশের নগর উন্নয়ন ও জনসেবামুখী কার্যক্রমে জাপানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ ব্যক্ত করেন এবং এ বিষয়ে টোকিও মেট্রোপলিটন গভর্নমেন্টের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনা করেন। বিশেষ করে নগর ব্যবস্থাপনা, আধুনিক অবকাঠামো উন্নয়ন, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং নাগরিক সেবার মানোন্নয়নে টোকিওর অভিজ্ঞতা ও সফলতা গুরুত্বের সাথে তুলে ধরা হয়।
এ সময় ভাইস গভর্নর মাৎসুমোতো আকিকো টোকিওর ব্যবসা ও নগর ব্যবস্থাপনা, বন্যা ও ভূমিকম্প মোকাবেলা ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব নগর পরিকল্পনা এবং বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে বিরোধীদলীয় নেতাকে বিস্তারিত অবহিত করেন। তিনি বাংলাদেশের বড় শহরগুলোতে এসব আধুনিক ও কার্যকর ব্যবস্থাপনা প্রয়োগের বিষয়ে পরামর্শ প্রদান করেন।
বৈঠকে টোকিও শহরের আধুনিক নাগরিক সুবিধা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, পরিবহন ব্যবস্থা এবং স্মার্ট সিটি কার্যক্রম নিয়ে একটি তথ্যবহুল প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করা হয়।
নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যানের সাথে বৈঠক
গতকাল জাপানের নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইওহেই সাসাকাওয়ার সাথে বৈঠকে বাংলাদেশ ও জাপানের পারস্পরিক সম্পর্ক, মানবিক সহযোগিতা, শিা ও স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়ন, যুবসমাজের সমতা বৃদ্ধি এবং টেকসই সামাজিক উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সঙ্কটের মানবিক দিক, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সম্পর্কেও মতবিনিময় করা হয়।
অন্য দিকে, নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান বাংলাদেশের উন্নয়ন, মানবসম্পদ বিকাশ এবং মানবিক কার্যক্রমে ভবিষ্যতেও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
দু’টি বৈঠকেই জামায়াত আমিরের সাথে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি।
জাপানের পার্লামেন্ট ভবন পরিদর্শন
জাপানের পার্লামেন্ট ভবন পরিদর্শন করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা: শফিকুর রহমান। গতকাল তিনি জাপানের পার্লামেন্টের উচ্চক, নিম্নক এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক ঘুরে দেখেন।
এ সময় জাপানের পার্লামেন্টের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জামায়াত আমিরকে গাইড করেন এবং পার্লামেন্টের কার্যক্রম, ইতিহাস ও আইন প্রণয়ন প্রক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন। পরিদর্শন শেষে জাপানের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানসমূহের কার্যক্রম, শৃঙ্খলা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করেন।
জাপানের পার্লামেন্ট ভবন ‘ন্যাশনাল ডায়েট বিল্ডিং’ (ঘধঃরড়হধষ উরবঃ ইঁরষফরহম) নামে পরিচিত। এটি টোকিওর নাগাতাচো (ঘধমধঃধপযষ্ঠ) এলাকায় অবস্থিত এবং জাপানের দ্বিকবিশিষ্ট জাতীয় আইনসভার (ডায়েট) কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। জাপানের পার্লামেন্টে মোট ৭১৩ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে নিম্নকে ৪৬৫ জন এবং উচ্চকে ২৪৮ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন।



