এনডিটিভি
নিজেদের আকাশসীমা সুরক্ষার পাশাপাশি এবার বিশ্ববাজারে দাপট দেখাতে নতুন প্রজন্মের শক্তিশালী স্টিলথ যুদ্ধবিমান ‘জে-৩৫এই’ সামনে এনেছে চীন। যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি আধুনিক এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের সরাসরি বিকল্প এবং শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে এই বিমানটিকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরছে বেইজিং।
সম্প্রতি চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে এই যুদ্ধবিমানের পূর্ণাঙ্গ মডেল হাঙ্গার থেকে বেরিয়ে আসার দৃশ্য প্রচার করা হয়েছে। এতে কোনো বিমানবাহিনীর চিহ্ন না থাকলেও প্রস্তুতকারক সংস্থা এভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি করপোরেশন অব চায়নার ব্র্যান্ডিং দেখা গেছে, যা মূলত বিমানটির রফতানি সংস্করণের চূড়ান্ত প্রস্তুতির বড় একটি সঙ্কেত। সেনিয়াং এয়ারক্রাফট করপোরেশনের তৈরি এই পঞ্চম প্রজন্মের বহুমুখী স্টিলথ ফাইটারটি চীনের জে-২০-এর পর দ্বিতীয় বড় সাফল্য। জল্পনা রয়েছে, এই অত্যাধুনিক প্রযুক্তির বিমানের প্রথম আন্তর্জাতিক ক্রেতা হতে যাচ্ছে পাকিস্তান। বিশেষ করে গত বছরের ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরবর্তী পরিস্থিতিতে ভারতের সাথে আকাশপথে শক্তির ভারসাম্য বজায় রাখতে ইসলামাবাদ এই যুদ্ধবিমান পেতে মরিয়া।
যদিও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই ক্রয় সংক্রান্ত খবরকে গণমাধ্যমের আলোচনা বলে কিছুটা হালকা করার চেষ্টা করেছেন, তবে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে যে পাকিস্তানি পাইলটরা ইতোমধ্যেই চীনে এই বিমান পরিচালনার প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রযুক্তিগত দিক থেকে জে-৩৫এই অত্যন্ত আধুনিক। এটি শব্দের চেয়ে ১.৮ গুণ দ্রুতগতিতে উড়তে সক্ষম। এর শক্তিশালী রাডার একসাথে একাধিক লক্ষ্যবস্তু শনাক্ত ও ধ্বংস করতে পারে। শত্রুর রাডারকে ফাঁকি দেয়ার জন্য এর অস্ত্রভাণ্ডার বিমানের পেটের ভেতরে লুকানো থাকে, যেখানে পিএল-১৫-এর মতো বিধ্বংসী আকাশ থেকে আকাশে নিক্ষেপণযোগ্য মিসাইল রাখা যায়। চীনের দাবি অনুযায়ী, তারা প্রতি ৭২ ঘণ্টায় একটি করে নতুন বিমান তৈরি করার সক্ষমতা অর্জন করেছে। মূলত এফ-৩৫-এর তুলনায় অনেক কম মূল্যে এবং সহজলভ্য বিকল্প হিসেবে চীন এই জে-৩৫এই বিমানটিকে বাজারজাত করছে। একটি ইউনিটের দাম ৩৫ থেকে ৮০ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদি পাকিস্তানের সাথে এই চুক্তিটি চূড়ান্ত হয়, তবে ২০২৬ সালের শেষভাগ বা ২০২৭ সালের শুরুর দিকে তারা এই আধুনিক যুদ্ধবিমানগুলোর ডেলিভারি পেতে শুরু করবে।



