১০০ মিটার দূরেও বোমা পড়তে দেখেছি

Printed Edition

ক্রীড়া ডেস্ক

হাইতির ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ডাকেন্স নাজনের জীবনে সাম্প্রতিক সময়টা যেন নাটকীয়তার এক অনন্য মিশ্রণ। এক দিকে তিনি তার দেশকে দীর্ঘ ৫২ বছর পর ফিফা বিশ্বকাপে ফেরাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, অন্য দিকে ইরানে চলমান সঙ্ঘাত থেকে প্রাণ বাঁচিয়ে পালানোর অভিজ্ঞতা তাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। সূত্র বিবিসি।

৩২ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার বর্তমানে ইরানের ক্লাব এস্তেগলালের হয়ে খেলেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলা শুরুর সময় তিনি দেশ ছাড়তে গিয়ে চরম ঝুঁকির মুখে পড়েন।

নাজনের ভাষায়, ‘আমি মাত্র ১০০ মিটার দূরে বোমা পড়তে দেখেছি।’ শুরুতে তিনি তুরস্ক বা প্যারিসে যাওয়ার জন্য বিমানে উঠতে চাইলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে নামিয়ে দেয়া হয়।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে ইরান-আজারবাইজান সীমান্তে, যেখানে প্রায় ৪৮ ঘণ্টা আটকে থাকতে হয় তাকে। তবে একটি ই-সিম কার্ড শেষ পর্যন্ত তার জীবন রক্ষা করে। ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকার মধ্যেও সীমান্তে পৌঁছে সংযোগ পেয়ে তিনি ফরাসি দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন এবং তাদের সহায়তায় অবশেষে দেশ ছাড়তে পারেন।

এ সময় তার স্ত্রী ও চার সন্তান ফ্রান্সে নিরাপদে ছিলেন, যা তাকে কিছুটা মানসিক স্বস্তি দিয়েছে। ‘পরিবার পাশে থাকলে সিদ্ধান্ত নেয়া আরো কঠিন হয়ে যেত’ জানান, নাজন।

এত কিছুর পরও ফুটবলে মনোযোগ ধরে রেখেছেন হাইতির এই রেকর্ড গোলদাতা। জাতীয় দলের হয়ে ৭৬ ম্যাচে ৪৪ গোল করা নাজন এখন বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে চমকে দেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছেন। এই ম্যাচটি তার জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ ২০১৯ সালে তিনি স্কটিশ ক্লাব সেন্ট মিরেনে সংক্ষিপ্ত সময় খেলেছিলেন।

তিনি জানান, স্কটল্যান্ডে তার অভিজ্ঞতা ছিল চ্যালেঞ্জিং। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘এক ম্যাচে একই সাথে রোদ, বৃষ্টি আর তুষার দেখেছি’। কঠিন আবহাওয়া ও শারীরিক ফুটবলের সাথে খাপ খাওয়াতে না পারায় সেই অধ্যায় দীর্ঘ হয়নি।

বিশ্বকাপে হাইতির গ্রুপে রয়েছে স্কটল্যান্ড, মরক্কো ও ব্রাজিল। নাজন মনে করেন, দলটি এখন দেশের জন্য এক ধরনের দূত। আমরা দেশের প্রতিনিধিত্ব করি এবং তরুণরা আমাদের দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে অতিরিক্ত চাপ না নিয়ে ভালোবাসা ও আবেগ নিয়ে খেলতে চাই।

তবে আসন্ন টুর্নামেন্টে টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাজন। তার মতে, এতে দর্শক উপস্থিতি কমে যেতে পারে, যা মাঠের পরিবেশে প্রভাব ফেলবে।

সব মিলিয়ে, জীবন-মৃত্যুর ঝুঁকি পেরিয়ে বিশ্বকাপের মঞ্চে দাঁড়ানোর প্রস্তুতি ডাকেন্স নাজনের গল্প এখন অনুপ্রেরণার এক শক্তিশালী উদাহরণ।