সরকারের দুই মাসে ৬০ গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ

Printed Edition

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন বলেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার স্বল্প সময়ের মধ্যেই অর্থনীতি, প্রশাসন, সামাজিক সুরক্ষা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দৃশ্যমান অগ্রগতি অর্জন করেছে।

রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে গতকাল আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের গৃহীত ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ তুলে ধরা হয়।

তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়নে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালু করা হয়েছে। পাইলট পর্যায়ে ইতোমধ্যে ৩৭ হাজারের বেশি পরিবারকে এ কার্ড দেয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে মাসিক ২,৫০০ টাকা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালু করে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলায় ২২ হাজার কৃষককে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ মওকুফ করা হয়েছে।

সংসদীয় কার্যক্রমে গতি আনতে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তি করা হয়েছে, যা গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। এর মধ্যে মানবাধিকার ও গুম প্রতিরোধ সংক্রান্ত কিছু অধ্যাদেশ পুনর্বিবেচনার জন্য বিল আকারে সংসদে উত্থাপন করা হবে।

অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে, যার কাজ ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় শুরু হয়েছে। জ্বালানি খাতে আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি সত্ত্বেও সরকার তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে রুফটপ সোলার কর্মসূচির মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমদানি কার্যক্রম সচল রাখা এবং বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে, ফলে রমজান মাসসহ সাম্প্রতিক সময়ে মূল্যস্ফীতি তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত রয়েছে। ধর্মীয় খাতে ইমাম, পুরোহিত, ভিক্ষু ও যাজকদের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ, হজযাত্রার খরচ কমানো এবং মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার পুনরায় চালুর উদ্যোগও সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে তুলে ধরা হয়। একই সাথে ইউরোপের কয়েকটি দেশের সাথে শ্রমবাজার সম্প্রসারণে চুক্তির প্রক্রিয়া চলছে।

কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকারি শূন্যপদ পূরণে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এবং বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে উন্নীত হওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতে এক লাখ নতুন স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের ঘোষণা দেয়া হয়েছে, যেখানে নারীদের অগ্রাধিকার দেয়া হবে। ‘ই-হেলথ কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। শিক্ষাখাতে পুনরায় ভর্তি ফি বাতিল, শিক্ষাবৃত্তি বৃদ্ধি, বিদেশে উচ্চশিক্ষার জন্য আর্থিক সহায়তা এবং শিক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

শিশু-কিশোরদের জন্য খেলাধুলা বাধ্যতামূলক করা, ‘নতুন কুঁড়ি’ প্রতিযোগিতা পুনরায় চালু এবং স্কুলে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রসার ঘটানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে পোশাক ও উপকরণ বিতরণ কর্মসূচিও চলমান রয়েছে।

পরিবেশ ও জলবায়ু খাতে পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। একই সাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে জাতীয় পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও টিকাদান কর্মসূচি জোরদার করা হয়েছে।

প্রশাসনিক সংস্কারে প্রধানমন্ত্রী নিজ বাসভবন ব্যবহার, সরকারি ব্যয় কমানো, ভিভিআইপি প্রটোকল সীমিতকরণ এবং অফিস সময়ানুবর্তিতা নিশ্চিতের মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভূমি ব্যবস্থাপনায় ডিজিটালাইজেশন, অনলাইন কর প্রদান ও হটলাইন চালু করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় চাঁদাবাজি দমনে কঠোর ব্যবস্থা, জনবান্ধব পুলিশ গঠন এবং বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়। নদী রক্ষা আইন সংশোধনের মাধ্যমে দখল ও দূষণকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ করার প্রস্তাবও উল্লেখ করা হয়।

যোগাযোগ ও প্রযুক্তি খাতে বিমানবন্দর ও ট্রেনে ফ্রি ইন্টারনেট চালুর উদ্যোগ এবং কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায় ওয়াই-ফাই সংযোগ প্রদানের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতির অংশ হিসেবে বৈদেশিক বিনিয়োগ আকর্ষণ, প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রমবাজার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

মাহদী আমিন বলেন, সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলীসহ প্রেস উইংয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।