সাদাকাত আলী খান, দিনাজপুর
‘মাদকের বিরুদ্ধে এসো দৌড়াই ‘- এ সেøাগানকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা থেকে দিনাজপুর পর্যন্ত দৌড়ের মাইল ফলক স্পর্শ করলেন দিনজপুরের কৃতী সন্তান মো: সাখাওয়াত হোসেন সাকিব। ছয় দিনে প্রায় সাড়ে ৩০০ কিলোমিটার পথ পাড়ি দেয়ার নতুন ইতিহাস ও এক অনন্য রেকর্ড স্থাপন করেছেন তরুণ এই ক্রীড়া প্রতিভা। গত ২ এপ্রিল সকালে ঢাকা জিরো পয়েন্ট থেকে শুরু হওয়া তার এই বিরতিহীন দৌড় গতকাল বুধবার (৮ এপ্রিল) বিকেল ৪টায় নির্ধারিত সময়ে দিনাজপুরের জিরো পয়েন্টে এসে শেষ হয়।
দৌড় শেষে সাকিব দিনাজপুর জিরো পয়েন্টে পৌঁছলে তাকে জেলা প্রশাসন ও জেলা ক্রীড়া অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ স্থানীয় ক্রীড়াপ্রেমীরা উপস্থিত থেকে এই তরুণ অ্যাথলেটকে বরণ করে নেয়। সাকিবকে বরণ করে নেয়ার জন্য দিনাজপুর জিরো পয়েন্টে মঞ্চ তৈরি করে সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়। সেখানে তাকে বিরল বিরোচিত সংবর্ধনা দেয়া হয়।
দিনাজপুর পর্যন্ত দীর্ঘ পথ দৌড়ে পাড়ি দিতে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর মুহূর্তটি ছিল যমুনা নদী পার হওয়া।
গত শনিবার ৪ এপ্রিল সকালে সাঁতরে যমুনা নদী পার হয়েছেন। যমুনা সেতু পার না হয়ে বেছে নিয়েছেন নদীপথ। যমুনা পার হতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগে। দিনাজপুরের প্রবেশমুখে মোহনপুর ব্রিজের কাছে গতকাল সকালে আত্রাই নদীও সাঁতরে পার হয়েছেন।
সাকিবের এই বিশাল এবং চ্যালেঞ্জিং যাত্রার সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন ‘পাটোয়ারী বিজনেস হাউজ’। প্রতিষ্ঠানটির স্বত্বাধিকারী সহিদুর রহমান পাটোয়ারী মোহন বলেন, সাকিব দিনাজপুরের গর্ব। ইতঃপূর্বে সে টেকনাফ থেকে সেন্টমার্টিন সাঁতার কেটেছে, পদ্মা ও যমুনাসহ বিভিন্ন বড় বড় নদী পাড়ি দিয়েছে। এমনকি সাইকেলে করে টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া ভ্রমণের রেকর্ডও তার আছে। সাকিবের মতো মেধাবী ও সাহসী তরুণদের পাশে দাঁড়ালে তাদের মনোবল বৃদ্ধি পায়। দেশের বিত্তবান ও সমাজসেবীদের উচিত এসব প্রতিভাকে উৎসাহিত করা। সাকিব দিনাজপুর শহরের রামনগর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা একজন ফল ব্যবসায়ী। সাকিব দিনাজপুরের সেন্ট যোসেফস স্কুল থেকে ২০২২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।



