খাদেমুল বাবুল জামালপুর
জামালপুর জেলার অন্যতম প্রাচীন জনপদ দেওয়ানগঞ্জ। ১৮৬০ সালে বগুড়া জেলার অধীনে এটি থানা হিসেবে গঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালের ৩ নভেম্বর উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। মোঘল আমলে সুফি সাধক দেওয়ান শাহ জালাল ও দেওয়ান শাহ জামালের আস্তানা স্থাপনের কারণে এলাকাটির নামকরণ করা হয় দেওয়ানগঞ্জ।
বর্তমানে এই উপজেলায় সরকারের ১৭টি দফতর রয়েছে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা প্রায় পাঁচ শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী এই দফতরগুলোতে কর্মরত আছেন। তারা উপজেলার দুই লাখ ৫৮ হাজার ১৩৩ জনকে প্রতিনিয়ত নানা সরকারি সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন। কিন্তু দুঃখের বিষয়, উপজেলা গঠনের দীর্ঘ ৪৩ বছর পার হলেও আজ পর্যন্ত এখানে কর্মরতদের জন্য কোনো মানসম্মত আবাসন ব্যবস্থা গড়ে ওঠেনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এই উপজেলায় সরকারি কর্মকর্তাদের বসবাসের জন্য উপযুক্ত কোনো ব্যবস্থা নেই। শুধুমাত্র উপজেলা পল্লী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের (ইউসিসিএ) দু’টি দ্বিতল ভবন থাকলেও, তার একটিকে বহু আগেই পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছে। অন্যটিতে কোনো রকমে ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে চার দফতরের কর্মকর্তার পরিবার। উপজেলার ১৬টি দফতরের প্রধান এবং অন্য কর্মকর্তারা জরাজীর্ণ, স্যাঁতসেঁতে আধা-পাকা ঘরে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছেন। এমনকি খোদ ইউএনওর বাসভবনের অবস্থাও অত্যন্ত নাজুক। সামান্য বৃষ্টিতেই তার বাসভবনের চত্বরে হাঁটু পানি জমে যায়।
তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের আবাসন সঙ্কট আরো প্রকট। তাদের জন্য বরাদ্দকৃত এক চালা কোয়ার্টারগুলোর অবস্থা এতটাই জরাজীর্ণ যে, সামান্য বৃষ্টিতেই ঘরের ভেতর পানি পড়ে। আঙিনাগুলোতে বৃষ্টির পানি আটকে থাকায় ইটের ওপর দিয়ে যাতায়াত করতে হয় তাদের। সরেজমিন দেখা গেছে, বৃষ্টির সময় একচালা একটি ভাঙা ঘরের সামনে অসহায়ভাবে দাঁড়িয়ে আছেন পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশনের এক কর্মচারী। তার বসবাসের এই অনুপযোগী ব্যবস্থা দেখলে যে কারও মনে কষ্ট লাগবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কর্মচারী আক্ষেপ করে বলেন, আমাদের আর কি অবস্থা হবে! যেখানে বড় স্যারদেরই বসবাসের কোনো ব্যবস্থা নেই, সেখানে আমাদের কথা তো বলাই বাহুল্য। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা জানান, উপজেলা পরিষদে সরকারি কোয়ার্টার না থাকায় তারা পরিবার নিয়ে থাকতে পারছেন না। বাধ্য হয়ে অনেককে দূরবর্তী এলাকায় কিংবা ভাঙাচোরা টিনশেড ঘরে থাকতে হচ্ছে। এতে তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার চরম ক্ষতি হচ্ছে।
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আবাসন সঙ্কটের দ্রুত সমাধান না হলে আবাসনজনিত মানসিক চাপের কারণে ব্যাহত হতে পারে সাধারণ মানুষের নাগরিক সেবা প্রাপ্তি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এ বিষয়ে দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। এক কর্মকর্তা বলেন, শুষ্ক মৌসুমে কোনো রকমে ব্যাচেলর জীবন কাটানো গেলেও, বর্ষা এলে কষ্টের সীমা থাকে না। উপজেলা পরিষদে সুন্দর প্রশাসনিক ভবন, মডেল মসজিদ ও অডিটোরিয়াম নির্মাণ হলেও আমাদের থাকার জায়গার কোনো সুরাহা হয়নি।



