বড়াইগ্রাম (নাটোর) সংবাদদাতা
নাটোরের বড়াইগ্রামে কিশোরদের প্রেমঘটিত বিরোধকে কেন্দ্র করে মাইকে ঘোষণা দিয়ে লোক জড়ো করে কয়েক দফা ত্রিমুখী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে গতকাল রোববার দুপুর পর্যন্ত উপজেলার শিবপুর বাজার ও আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন আহত হন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও যানবাহন ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
রোববার সকালে পরিস্থিতি নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। গোপালপুর, শিবপুর ও পাশের নারায়ণপুর গ্রামের লোকজন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শিবপুর বাজার এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় গড়মাটি গ্রামের ভ্যানচালক নিশাত আহমেদকে মারধর করে আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে গড়মাটি কলোনির লোকজনও সশস্ত্র অবস্থায় নাটোর-পাবনা মহাসড়কে অবস্থান নিলে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস এবং বড়াইগ্রাম সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শোভন চন্দ্র হোড় অতিরিক্ত পুলিশসহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং আহত নিশাতকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।
জানা যায়, গত ২৯ মে গোপালপুর গ্রামের এক কিশোর ও শিবপুর গ্রামের কয়েকজন কিশোরের মধ্যে প্রেমসংক্রান্ত বিরোধের জেরে বাগি¦তণ্ডা ও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার এক কিশোরকে মারধরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিভিন্ন এলাকার লোকজন জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে ওঠে।
আহতদের মধ্যে শিবপুর গ্রামের ওয়াজ প্রামাণিককে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। অন্য আহতদের বড়াইগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি ও প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
বড়াইগ্রাম থানার ওসি আব্দুস ছালাম বলেন, এ ঘটনায় পৃথক লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।



