সংসদ প্রতিবেদক
সীমান্তে ভারতের অবৈধ পুশইন ও বিএসএফের হাতে সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা নিয়ে জাতীয় সংসদে নির্ধারিত বিশেষ আলোচনা স্থগিত করায় তীব্র ক্ষোভ ও সমালোচনা করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের জামায়াত দলীয় এমপি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান।
গতকাল সংসদের অধিবেশন শুরু হলে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে এই ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
বাজেট অধিবেশনের ব্যস্ততা ও সময়ের সীমাবদ্ধতার কারণে নির্ধারিত আলোচনাটি সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে জানিয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, দ্রুতই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে এর ওপর আলোচনা হবে।
এ সময় মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান ডেপুটি স্পিকারের উদ্দেশে জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব, নাগরিক নিরাপত্তা ও মানবাধিকার রক্ষার স্বার্থে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) অবৈধ পুশইন ও সীমান্ত হত্যা এবং পশ্চিমবঙ্গ সরকারের প্রকাশ্যে ঘোষিত পুশইন তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ ও কূটনৈতিক ব্যবস্থা নেয়ার দাবিতে কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারা অনুযায়ী তিনি একটি সাধারণ প্রস্তাবের নোটিশ দিয়েছিলেন। সংসদের মুলতবি শাখা থেকে চিঠি দিয়ে তাকে জানানো হয়েছিল আজ (রোববার) বিষয়টি আলোচনার জন্য গৃহীত হয়েছে এবং এর অনুলিপি স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, গত বৃহস্পতিবারের অধিবেশন মুলতবি হওয়ার পর রোববারের মূল কার্যসূচিতেও বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত ছিল। কিন্তু আজ সকালে দেয়া নতুন কার্যসূচি থেকে রহস্যজনকভাবে বিষয়টি বাদ দেয়া হয় এবং মুলতবি শাখা থেকে তাকে জানানো হয়, অনিবার্য কারণবশত প্রস্তাবটি স্থগিত করা হয়েছে।
এ সময় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন জনগণের রক্তের চেয়ে আর কী গুরুত্ব থাকতে পারে যে, এত বড় একটি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা কোনো দলীয় এজেন্ডা নয়, তাকে অনিবার্য কারণবশত স্থগিত করতে হলো? একই সাথে এটি পরে কবে আলোচনার জন্য নির্ধারিত হবে, সেই সুনির্দিষ্ট তারিখও জানতে চাই।
এ সময় ডেপুটি স্পিকার পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করেন। নোটিশটি তার সামনেই আছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি বাতিল করা হয়নি, এটি একটি সাময়িক পদক্ষেপ মাত্র। বর্তমানে সংসদে বাজেট অধিবেশন চলছে এবং তাদের সময়ের কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সীমান্ত হত্যা ও পুশইন অত্যন্ত মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় বা ফান্ডামেন্টাল পার্ট হিসেবে স্বীকার করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, শিগগিরই এই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করে নোটিশের ওপর বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠানের ব্যবস্থা করা হবে।



