শিশুর শ্রবণশক্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক, কারণ সঠিক সময়ে কথা বলা শিখতে পারা এবং মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য কানে শুনতে পাওয়া জরুরি। শিশুদের শ্রবণশক্তির সমস্যা অনেক সময়েই বোঝা কঠিন হয়। তাই এর চিকিৎসা শুরু হতেও দেরি হয়। বাবা-মায়েদের খেয়াল রাখতে হবে যে শিশু কানে কম শুনছে কি না। কথা বললে তা শুনে বুঝতে পারছে কি না।
শিশু কানে কম শুনছে কি না তা বোঝার কিছু উপায় নবজাতক থেকে ৩ মাস : কোনো উচ্চ শব্দে চমকে না ওঠা বা ঘুমের মধ্যে শব্দ হলে জেগে না যাওয়া।
৪ থেকে ৯ মাস : ডাকলে বা কোনো শব্দ হলে সে দিকে দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে না তাকানো।
১০ থেকে ১৫ মাস : কথা বলতে দেরি করা, মা বাবার গলা চিনতে না পারা। সাধারণত ১৫ মাসের পর থেকে শিশু ধীরে ধীরে নানা শব্দ উচ্চারণ করতে শিখে যায়। না বলতে পারলে বুঝতে হবে, সমস্যা আছে। এ ক্ষেত্রে যত দ্রুত সম্ভব পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।
সমস্যার কারণ কী কী?
শিশুর শ্রবণশক্তির সমস্যা হওয়ার কারণ অনেক। জন্মের সময় শ্রবণশক্তি স্বাভাবিক থাকলেও পরবর্তী সময়ে মাথায় আঘাত পাওয়া, টাইফয়েড বা এনসেফেলাইটিসের সমস্যা হলে শ্রবণ ক্ষমতা কমে যাওয়ার ঝুঁঁকি থাকে। আবার হারপিস, রুবেলার মতো ভাইরাসঘটিত কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। কানের গঠনগত কিছু ত্রুটির কারণেও শিশু বধির হয়ে জন্মায় আবার ছোট বয়স থেকেই নানা জটিল অসুখবিসুখের কারণে শোনার ক্ষমতা লোপ পেতে পারে। যেসব শিশু নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই ভূমিষ্ঠ হয় ও স্বাভাবিকের থেকে অনেক কম ওজন নিয়ে জন্মায়, তাদের ক্ষেত্রে শোনার জন্য নির্দিষ্ট অডিটরি স্নায়ুর গঠনে ত্রুটি থাকে। ফলে পরবর্তী সময়ে গিয়ে শ্রবণশক্তি কমে যেতে পারে।
বাবা-মায়েরা কী করবেন?
শিশুর কানে ইয়ারবাড বা ওই জাতীয় জিনিস দিয়ে খোঁচাখুঁচি করবেন না।
শিশুকে খুব বেশি শব্দ হয় এমন জায়গায় বা জোরে লাউডস্পিকারের সামনে দীর্ঘ ক্ষণ রাখবেন না।
ছোট থেকেই যদি সর্দি-কাশির সমস্যা বেশি হয় ও ঠাণ্ডা লাগলে কানে ব্যথা, কান থেকে পুঁজ বেরোনোর সমস্যা দেখা দেয়, তা হলে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। কথা বলার বয়স পেরিয়ে যাওয়ার পরেও যদি শিশু কথা বলতে না পারে, তা হলে দেরি করা ঠিক হবে না।
ছোট থেকে হিয়ারিং এইড ব্যবহার করা নিয়ে অনেক বাবা-মায়েরই চিন্তা থাকে। তবে ‘ডিজিটাল হিয়ারিং এইড’ ছোট থেকে ব্যবহার করলে কানের সমস্যা দূর হতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো সে ব্যবস্থা আগে থেকেই করতে হবে। ইন্টারনেট।



