বের হতে পারে জিয়া হত্যার ভূরাজনীতির নেপথ্য সূত্র

মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদে উন্মুক্ত হবে দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত অধ্যায়!

সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্তৃক মামলার ৬ নম্বর পলাতক আসামি এবং তৎকালীন মেজর (অব:) মোজাফফর হোসেনের গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেফাজতে থাকা এই কর্মকর্তার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) চলা জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এমন কিছু তথ্য ও উপাত্ত বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার দিকে ইঙ্গিত করছে। অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মোজাফফরকে যথাযথভাবে এবং প্রভাবমুক্ত পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের অন্তরালে থাকা আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক রহস্যের জট পরিপূর্ণভাবে উন্মোচিত হতে পারে।

বিশেষ সংবাদদাতা
Printed Edition

১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউজে সংঘটিত রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমান, বীর উত্তমের নির্মম হত্যাকাণ্ড কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির একটি টার্নিং পয়েন্ট ছিল না, বরং এটি ছিল দক্ষিণ এশীয় ভূরাজনীতির এক গভীর ও সুদূরপ্রসারী কৌশলগত সমীকরণের অংশ। দীর্ঘ সাড়ে চার দশক ধরে এই হত্যাকাণ্ডের মূল মাস্টারমাইন্ড এবং নেপথ্য কুশীলবদের পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা ও রহস্যের পাহাড় জমেছে। তবে সম্প্রতি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্তৃক মামলার ৬ নম্বর পলাতক আসামি এবং তৎকালীন মেজর (অব:) মোজাফফর হোসেনের গ্রেফতারের পর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ নতুন দিকে মোড় নিয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর বিশেষ হেফাজতে থাকা এই কর্মকর্তার জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেলে (জেআইসি) চলা জিজ্ঞাসাবাদ থেকে এমন কিছু তথ্য ও উপাত্ত বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে, যা এই হত্যাকাণ্ডে প্রতিবেশী দেশ ভারতের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততার দিকে ইঙ্গিত করছে। অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, মোজাফফরকে যথাযথভাবে এবং প্রভাবমুক্ত পরিবেশে জিজ্ঞাসাবাদ করা গেলে জিয়া হত্যাকাণ্ডের অন্তরালে থাকা আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক রহস্যের জট পরিপূর্ণভাবে উন্মোচিত হতে পারে।

মোজাফফরের দীর্ঘ পলাতক জীবন এবং ভারতের আশ্রয় : মেজর (অব:) মোজাফফরের জবানবন্দী ও তার পলাতক জীবনের রুটম্যাপ বিশ্লেষণ করলে প্রথম যে প্রশ্নটি সামনে আসে, তা হলো তার দীর্ঘ সময় ধরে ভারতে অবস্থান। ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রাম সেনা অভ্যুত্থান ব্যর্থ হওয়ার পর এবং বিদ্রোহের মূল নায়ক মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরের মৃত্যুর পর, জিয়া হত্যাকাণ্ডের সাথে সরাসরি যুক্ত কয়েকজন কর্মকর্তা সুপরিকল্পিতভাবে সীমান্ত অতিক্রম করেন।

আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা বাহিনীর বিশেষ সূত্রে জানা গেছে, মোজাফফর হোসেন হত্যাকাণ্ডের পরপরই চট্টগ্রামের গহিন জঙ্গল এবং স্থানীয় কিছু দালালের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে সীমান্ত পার হয়ে ভারতে প্রবেশ করেন। এরপর তিনি ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে দীর্ঘ সময় ধরে ছদ্মবেশে অবস্থান করেন এবং পরবর্তীকালে থাইল্যান্ডেও কিছু সময় কাটান। একজন রাষ্ট্রপতির হত্যাকারী এবং সেনাবাহিনীর তালিকাভুক্ত ফেরারি আসামি হওয়া সত্ত্বেও কিভাবে তিনি ভারতের মাটিতে দীর্ঘ সময় ধরে কোনো আইনি জটিলতা ছাড়াই অবস্থান করতে পারলেন, তা নিয়ে গভীর ভূরাজনৈতিক প্রশ্ন উঠেছে। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা বা কোনো বিশেষ মহলের প্রচ্ছন্ন সহযোগিতা ও অর্থায়ন ছাড়া একজন দাগি সামরিক আসামির পক্ষে এত বছর ধরে পরিচয় গোপন করে নিরাপদ আশ্রয় উপভোগ করা অসম্ভব। ফলে, তার এই দীর্ঘ ভারতীয় প্রবাস জীবনের পেছনের মদদদাতাদের খুঁজে বের করা গেলেই জিয়া হত্যাকাণ্ডের বৈশ্বিক চক্রান্তের সুতাগুলো বেরিয়ে আসবে।

জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি ও ভারতের কৌশলগত উদ্বেগ

জিয়া হত্যাকাণ্ডে ভারতের সম্পৃক্ততার তত্ত্বটি বুঝতে হলে তৎকালীন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মূল্যায়ন করা জরুরি। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর জিয়াউর রহমান যখন রাষ্ট্রক্ষমতায় আসেন, তখন তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আনেন।

সার্ক গঠন ও আঞ্চলিক ভারসাম্য : জিয়াউর রহমান দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) গঠনের উদ্যোগ নেন। ভারতের তৎকালীন নীতিনির্ধারকেরা একে দেখছিলেন ক্ষুদ্র প্রতিবেশী দেশগুলোকে একত্রিত করে এই অঞ্চলে ভারতীয় আধিপত্য বা ‘বিগ ব্রাদার’সুলভ প্রভাবকে চ্যালেঞ্জ করার একটি কৌশল হিসেবে।

ভারতবিরোধী শক্তির দমন ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা: জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের ভূখণ্ডকে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীগুলোর (যেমন উলফা বা মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট) জন্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করেন এবং ভারতের সীমান্তে বিডিআরের (বর্তমান বিজিবি) অবস্থান শক্ত করেন।

আন্তর্জাতিক ব্লকে পরিবর্তন : সোভিয়েত-ভারত অক্ষের বাইরে গিয়ে জিয়াউর রহমান চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং মুসলিম বিশ্বের (ওআইসি) সাথে অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও কৌশলগত সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এটি দিল্লির জন্য একটি বড় ভূরাজনৈতিক ধাক্কা ছিল, কারণ তারা বাংলাদেশকে তাদের একচ্ছত্র প্রভাব বলয়ের মধ্যে দেখতে চেয়েছিল।

বিশেষ করে, ফারাক্কা বাঁধের পানি বণ্টন সমস্যা আন্তর্জাতিকীকরণের চেষ্টা এবং দক্ষিণ তালপট্টি দ্বীপের মালিকানা নিয়ে ভারতের নৌবাহিনীর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে জিয়াউর রহমানের শক্ত সামরিক অবস্থান তৎকালীন ভারতীয় সংস্থাপনকে ক্ষুব্ধ করে তুলেছিল। বিশ্লেষকদের ধারণা, জিয়ার এই স্বাধীন ও জাতীয়তাবাদী পররাষ্ট্রনীতিকে নস্যাৎ করতেই এই হত্যাকাণ্ডের ক্ষেত্র প্রস্তুত করা হয়েছিল।

চট্টগ্রাম অভ্যুত্থানের নেপথ্যে ‘র’-এর ভূমিকা ও যোগাযোগ

মেজর মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদে যেসব স্পর্শকাতর তথ্য উঠে আসছে, তার মধ্যে অন্যতম হলো অভ্যুত্থানকারী অফিসারদের সাথে ভারতের তৎকালীন গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর কিছু কর্মকর্তার পরোক্ষ যোগাযোগ।

ঐতিহাসিক ও সামরিক নথি পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, জিয়া হত্যাকাণ্ডের মাত্র কয়েক দিন আগে ভারতের কিছু কূটনৈতিক ও গোয়েন্দা তৎপরতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছিল। মেজর জেনারেল মঞ্জুর একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা এবং তুখোড় সামরিক অফিসার হওয়া সত্ত্বেও, সেনাবাহিনীর ভেতরকার মুক্তিযোদ্ধা বনাম অমুক্তিযোদ্ধা দ্বন্দ্বকে উসকে দেয়ার পেছনে বাইরের একটি শক্তির প্ররোচনা ছিল। মোজাফফর তার প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে, জিয়াকে হত্যার পর তাদের পরিকল্পনা ছিল চট্টগ্রামকে কেন্দ্র করে একটি পৃথক বিপ্লবী সরকার গঠন করা এবং প্রয়োজনে সীমান্ত পার থেকে লজিস্টিক ও সামরিক সহায়তা নিশ্চিত করা। এই লজিস্টিক সহায়তার নিশ্চয়তা কারা দিয়েছিল? জিয়াকে হত্যার পর পরই কেন ঘাতকদের একটি বড় অংশ ভারতে পালিয়ে যাওয়ার নিরাপদ রুট পেল? এই প্রশ্নগুলোর উত্তর মোজাফফরের কাছে থাকা ডায়েরি, ছদ্মনাম এবং ভারতের যোগাযোগের সূত্রগুলো থেকে উন্মোচিত হতে পারে।

১৯৯৬ সালের রাজনৈতিক সমীকরণ ও মোজাফফরের রহস্যময় প্রত্যাবর্তন

এ সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ যখন দীর্ঘ ২১ বছর পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে, ঠিক তখনই মেজর মোজাফফর অত্যন্ত গোপনে ভারত থেকে বাংলাদেশে ফিরে আসেন। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি ঢাকার বুকে ঘরের চার দেয়ালের মাঝে নিজেকে ‘হাইড আউট’ বা বন্দী করে রেখেছিলেন।

এখানে একটি গভীর রাজনৈতিক ও গোয়েন্দা সমীকরণ দৃশ্যমান: ১. নিরাপত্তার নিশ্চয়তা: ১৯৯৬ সালে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর মোজাফফর কেন নিজেকে নিরাপদ মনে করলেন যে তিনি দেশে ফিরে এলেন? তবে কি তৎকালীন সরকারের কোনো বিশেষ অংশ বা বিদেশী কোনো সংস্থার কাছ থেকে তাকে অভয় দেয়া হয়েছিল?

২. তথ্য ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা: জিয়া হত্যাকাণ্ডের মূল মাঠপর্যায়ের সাক্ষী ও পরিকল্পনাকারীদের দেশে এনে নিষ্ক্রিয় করে রাখা কি কোনো দীর্ঘমেয়াদি চক্রান্তের অংশ ছিল, যাতে জিয়া হত্যার আসল সত্য এবং এর পেছনে ভারতের ভূমিকা কখনো প্রকাশ না পায়?

বর্তমান সরকারের আমলে ডিবি পুলিশের জালে তার এই ধরা পড়া প্রমাণ করে যে, সত্যকে যত বছরই চেপে রাখা হোক না কেন, তা একসময় বেরিয়ে আসেই। মোজাফফরের এই ঘরবন্দী জীবনের অর্থায়ন এবং তার নীরবতার পেছনে কার হাত ছিল, তা বের করা এখন সময়ের দাবি।

বিচারিক প্রক্রিয়ার অস্পষ্টতা ও জেনারেল মঞ্জুর হত্যাকাণ্ড : সত্য আড়ালের চেষ্টা

১৯৮১ সালের ৩১ মে এবং ১ জুনের ঘটনাপ্রবাহের দিকে তাকালে দেখা যায়, জিয়া হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল এরশাদের নির্দেশে অত্যন্ত তড়িঘড়ি করে একটি সামরিক ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। মাত্র কয়েক দিনের বিচারে ১৩ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা অফিসারকে ফাঁসি দেয়া হয় এবং বহু অফিসারকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

সবচেয়ে রহস্যজনক ঘটনা ছিল বিদ্রোহের প্রধান অভিযুক্ত মেজর জেনারেল এম এ মঞ্জুরের হত্যাকাণ্ড। পুলিশ হেফাজতে থাকা অবস্থায় সেনানিবাসের ভেতরে তাকে গুলি করে হত্যা করা হয়। অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, জেনারেল মঞ্জুরকে জীবিত রাখলে তিনি আদালতে বা জেরার মুখে জিয়া হত্যাকাণ্ডের আসল মাস্টারমাইন্ডদের নাম এবং আন্তর্জাতিক যোগাযোগের বিশদ বিবরণ ফাঁস করে দিতেন। মঞ্জুরকে হত্যার মাধ্যমে মূলত এই হত্যাকাণ্ডের মূল রাজনৈতিক ও বৈদেশিক চক্রান্তের সূত্রটিকে চিরতরে কেটে দেয়া হয়েছিল। এখন মোজাফফরই হলেন সেই চেইনের একমাত্র জীবিত লিঙ্ক, যিনি সেই সময় জেনারেল মঞ্জুর এবং কর্নেল মতিউরের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ থেকে পুরো ষড়যন্ত্রটি বাস্তবায়ন করেছিলেন।

উচ্চপর্যায়ের ‘জাতীয় সত্য ও ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার কমিশন’ গঠনের যৌক্তিকতা

মেজর মোজাফফর হোসেনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যগুলো অত্যন্ত স্পর্শকাতর এবং জাতীয় নিরাপত্তার সাথে জড়িত। রাষ্ট্রীয় ও ভূরাজনৈতিক চাপের কারণে এই তথ্যগুলো হয়তো সাধারণ বিচারিক প্রক্রিয়ায় বা মিডিয়ার সামনে পুরোপুরি নাও আসতে পারে। এই কারণে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক কাজী মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমানসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা একটি স্বায়ত্তশাসিত, উচ্চপর্যায়ের ‘জাতীয় সত্য ও ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার কমিশন’ গঠনের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই কমিশন কিভাবে কাজ করবে- এমন প্রশ্নের জবাবে বলা হয়েছে এ বিষয়ে কিছু পদক্ষেপ নিতে হবে:

নিরপেক্ষ নেতৃত্ব: সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি এবং সামরিক ও বেসামরিক গোয়েন্দা সংস্থার (ডিজিএফআই, সিআইডি) সৎ ও অভিজ্ঞ কর্মকর্তাদের নিয়ে এই কমিশন গঠিত হবে।

আন্তর্জাতিক মানের তদন্ত : মোজাফফরের দেয়া জবানবন্দীর সাথে ১৯৮১ সালের ভারতীয় গোয়েন্দা বার্তা, তৎকালীন সীমান্ত পরিস্থিতি এবং ভারতের পররাষ্ট্র দফতরের নথিপত্র (যদি সম্ভব হয়) ক্রস-ভেরিফিকেশন করা।

শ্বেতপত্র প্রকাশ : তদন্তের ওপর ভিত্তি করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র তৈরি করা, যা জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হবে এবং এর মাধ্যমে জিয়া হত্যাকাণ্ডে ভারতের কাক্সিক্ষত স্বার্থ ও সম্পৃক্ততার বিষয়টি দালিলিক প্রমাণের ভিত্তিতে জনগণের সামনে আনা সম্ভব হবে।

অমীমাংসিত ও বিকৃত ইতিহাস জাতিকে দুর্বল করে রাখে

অমীমাংসিত ও বিকৃত ইতিহাস একটি জাতিকে চিরকাল বিভক্ত ও দুর্বল করে রাখে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ড কেবল বিএনপির জন্য একটি ক্ষত নয়, এটি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর একটি বড় আঘাত ছিল। চার দশক পর মেজর মোজাফফরের গ্রেফতার সেই কলঙ্কিত অধ্যায়ের ওপর সত্যের আলো ফেলার শেষ সুযোগ এনে দিয়েছে।

ভূরাজনৈতিক কারণে অতীতে যে সত্যকে ধামাচাপা দেয়া হয়েছিল, মোজাফফরের জিজ্ঞাসাবাদ এবং তদন্ত কমিশনের মাধ্যমে তা উন্মোচিত হলে প্রমাণিত হবে কিভাবে একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জাতীয়তাবাদী নেতাকে সরিয়ে দেয়ার জন্য আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক ষড়যন্ত্রের জাল বোনা হয়েছিল। আইনের শাসন এবং পরম সত্যের জয় নিশ্চিত করার স্বার্থে মেজর মোজাফফরের কাছ থেকে প্রতিটি তথ্য উপাত্ত নিখুঁতভাবে আদায় করা এবং তা প্রকাশ করা বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় জাতীয় দায়িত্ব।