বাজেট থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা পেল সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক

Printed Edition

বিশেষ সংবাদদাতা

জনগণের করের টাকা দিয়ে শেষ পর্যন্ত বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের লুটপাটের কারণে ‘ফোকলা’ হয়ে যাওয়া পাঁচ বেসরকারি ব্যাংককে বাঁচিয়ে রাখার শেষ চেষ্টা করছে সরকার। এ জন্য দুই শর্তে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর অনুকূলে ২০ হাজার কোটি টাকা ছাড় করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ। বাজেট থেকে এই অর্থ সম্প্রতি অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে ছাড় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাঁচ ইসলামী ব্যাংকের মধ্যে রয়েছে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক।

যে দু’টি শর্ত রয়েছে তার মধ্যে একটি হচ্ছে-প্রদানকৃত অর্থ সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসির অনুকূলে ইক্যুইটি (সম-মূলধন) হিসেবে গণ্য হবে এবং ওই ইক্যুইটির বিপরীতে বাংলাদেশ সরকারের (অর্থ বিভাগ) অনুকূলে প্রয়োজনীয় সংখ্যক শেয়ার ইস্যু করতে হবে এবং দ্বিতীয় শর্তে রয়েছে এ অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে সরকারের সব আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে পরিপালন করতে হবে।

অর্থ বিভাগ থেকে উল্লেখ করা হয়েছে, নির্দেশিত হয়ে নবগঠিত ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর গঠনকার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে অর্থ বিভাগের অধীনে ‘শেয়ার মূলধন’ খাতে বরাদ্দকৃত অর্থ হতে ২০ হাজার কোটি পরিশোধিত মূলধন হিসেবে নির্দেশক্রমে প্রদান করা হলো। প্রদানকৃত অর্থের ভিত্তিতে মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক(সিজিএ) বাংলাদেশ ব্যাংক বরাবর ডেবিট অথরিটি জারি করবে এবং বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি হিসাব ডেবিট করে ওই অর্থ ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’-এর অনুকূলে পরিশোধ করবে।

এ বিষয়ে অর্থ বিভাগের এক কর্মকর্তা জানান, আপাতত ২০ হাজার কোটি টাকার বিপরীতে আমাদের অনুকূলে (অর্থ বিভাগে) শেয়ার ইস্যু করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। অদূরভবিষ্যতে এই শেয়ার দেশী বা বিদেশী উদ্যোক্তাদের কাছে বিক্রি করে টাকা তুলে নেয়া হবে। এই ব্যাংক লাভজনক হবে কি না, পরবর্তীতে শেয়ার কেনার জন্য দেশী-বিদেশী উদ্যোক্তা পাওয়া যাবে কি না- জিজ্ঞেস করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা নিশ্চুপ ছিলেন।

তবে সংশ্লিষ্ট এক সূত্র জানায়, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে যে অর্থ দেয়া হয়েছে তা ফেরত পাওয়ার সম্ভাবনা কতটুকু সেটি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ এই পর্যন্ত ব্যাংকিং খাতে অর্থ বিভাগ থেকে ইক্যুইটি হিসেবে যত অর্থ দেয়া হয়েছে তার কোনোটাই ফেরত পাওয়ার নজির নেই।

এদিকে, সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা যার মধ্যে সরকার দিচ্ছে ২০ হাজার কোটি এবং আমানতকারীদের শেয়ার থেকে আসবে বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা।

পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে গড়ে তোলা হয়েছে ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’। দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি মালিকানাধীন ইসলামী ব্যাংক ‘সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক পিএলসি’ ইতোমধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার চূড়ান্ত অনুমোদন ও লাইসেন্স ইস্যু করার পর গত মঙ্গলবার থেকে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংক মনে করছে, পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে গঠিত এই নতুন প্রতিষ্ঠান দেশজুড়ে ইসলামী ব্যাংকিং খাতের অস্থিরতা কাটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আগামী সপ্তাহ থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত আমানত ফেরত দেয়ার কাজ শুরু হবে এবং উচ্চ অঙ্কের আমানত ফেরতের জন্য রোডম্যাপ তৈরি করা হচ্ছে। ব্যাংকটির চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।

দায়িত্ব নিয়ে তিনি বলেন, সরকারি মালিকানায় একটি ইসলামী ব্যাংক চালু হওয়া জাতির জন্য সুসংবাদ। ব্যাংককে সঠিকভাবে প্রতিষ্ঠা করতে ইতোমধ্যে কারিগরি টিম কাজ করছে। আমাদের প্রধান লক্ষ্য হবে আমানতকারীদের আস্থা ফিরিয়ে আনা। সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক জাতির কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠবে।

মঙ্গলবার দুপুরে গভর্নরের সাথে সাক্ষাৎ শেষে তিনি জানান, ব্যাংকের ভিশন-মিশন, আইন-কানুন ও সার্বিক কার্যক্রম পর্যালোচনা করাই ছিল বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য। সামনে একটি পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং আইনসম্মতভাবে পাঁচটি ব্যাংককে একীভূত করার কাজ এগিয়ে নেয়া হবে। এর আগে গত রোববার গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুরের সভাপতিত্বে বিশেষ বোর্ড সভায় সমস্যাগ্রস্ত পাঁচটি ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সোমবার আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স হস্তান্তর করে বাংলাদেশ ব্যাংক।