জাল সনদে সরকারি কলেজে চাকরি নিয়মিত তুলছেন বেতন

Printed Edition

কালীগঞ্জ (ঝিনাইদহ) সংবাদদাতা

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগর সরকারি ডিগ্রি কলেজে জাল শিক নিবন্ধন সনদ ব্যবহার করে এক প্রভাষকের চাকরি করার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত দর্শন বিভাগের প্রভাষক মোছা. নাসরিন নাহারের সনদকে জাল ও ভুয়া বলে চিহ্নিত করেছে বেসরকারি শিক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপ (এনটিআরসিএ)। অভিযোগ রয়েছে, এ অবস্থায়ও তিনি সরকারি বেতনভাতা তুলছেন।

কলেজ সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালের ১৫ নভেম্বর নাসরিন নাহার দর্শন বিষয়ের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন। পরে কলেজটি সরকারি হলে শিকদের আত্তীকরণ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ২০২১ সালের ১ সেপ্টেম্বর এনটিআরসিএ’র কাছে শিক নিবন্ধন সনদ যাচাইয়ের জন্য আবেদন করা হয়।

একই বছরের ২১ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত যাচাই প্রতিবেদনে এনটিআরসিএ জানায়, নাসরিন নাহারের নিবন্ধন সনদটি জাল। প্রতিবেদনে কলেজ কর্তৃপকে তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা করে বিষয়টি এনটিআরসিএকে অবহিত করার নির্দেশও দেয়া হয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নাসরিন নাহার ২০০৯ সালের পঞ্চম শিক নিবন্ধন পরীার একটি সনদ ব্যবহার করেন। সনদে তিনি উত্তীর্ণ হওয়ার দাবি করলেও এনটিআরসিএ’র যাচাইয়ে দেখা যায়, ওই রোল নম্বরের প্রার্থী অনুত্তীর্ণ ছিলেন। ফলে সনদটি ভুয়া বলে প্রতীয়মান হয়। এদিকে ২০২২ সালে মাধ্যমিক ও উচ্চশিা অধিদফতরের (মাউশি) একটি প্রতিবেদনে তার নিয়োগ যথাযথ নয় উল্লেখ করে পদ সৃজনে অসুপারিশ করা হয়। তবে পরবর্তী সময়ে তার পদ সৃজন ও সরকারি নিয়োগের আদেশ জারি হয়। তবে কলেজের অধ্য সফিকুল ইসলাম বলেন, নাসরিন নাহারের নিবন্ধন সনদ জাল কি না, তা তার জানা নেই। তিনি বলেন, শিক নিবন্ধন সনদ ছাড়াই পদ সৃজন হয়েছে এবং আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সত্য নয়। মামলা না করার বিষয়টি স্বীকার করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে কোনো পদপে নেওয়া হয়নি।

অভিযুক্ত নাসরিন নাহারের বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করা হলেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজওয়ানা নাহিদ বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখে তদন্তসাপেে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।