হাওরে বিলুপ্তির পথে ৬৪ প্রজাতির মাছ

Printed Edition

অষ্টগ্রাম (কিশোরগঞ্জ) থেকে সংবাদদাতা

একসময় কিশোরগঞ্জের হাওরাঞ্চল ছিল দেশীয় নানা প্রজাতির মাছের সমৃদ্ধ ভাণ্ডার। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে এসব মাছ ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও রফতানি হতো। কিন্তু পরিবেশগত পরিবর্তন, জলবায়ুর প্রভাব এবং মানবসৃষ্ট পরিবেশ বিপর্যয়ের নানা কারণে সেই ঐতিহ্য এখন সঙ্কটের মুখে। দ্রুত কমে যাচ্ছে দেশীয় মাছের সংখ্যা, হুমকির মুখে পড়েছে হাওরের জীববৈচিত্র্য।

উপজেলা মৎস্য দফতর সূত্রে জানা গেছে, জীববৈচিত্র্যের অবনতি ও পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে হাওরের অন্তত ৬৪টি দেশীয় প্রজাতির মাছ এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে মহাবিপন্ন প্রজাতির তালিকায় রয়েছে মহাশোল, চিতল, ঘাউড়া, পাবদা, বাঁশপাতা, রিঠা, বাঘাইর, বামোশ, নাফতানী, পাঙ্গাশ, একথুটি ও ফালি। এ ছাড়া আইড়, দেশী সরপুঁটি, বাতাসি, টেংরা, মায়া, গুলশা, ভেদা, বাচা, গজার, নাপতে কই, বড় বাইম, তারা বাইম, তিতপুঁটি, শালবাইম, খলিশা, মেনি, তিলা শোল, নান্দিনা, কালিবাউস, কুঁচে ও এলংসহ আরো বহু প্রজাতির মাছ বিলুপ্তির পথে।

অষ্টগ্রাম উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: আশরাফুল ইসলাম বলেন, অষ্টগ্রামসহ পুরো হাওরাঞ্চল দেশীয় মাছের অন্যতম প্রধান উৎস। কিন্তু কারেন্ট জাল ও নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জালের অবাধ ব্যবহার, প্রজনন মৌসুমে মা মাছি ও পোনা মাছ নিধন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব এবং কৃষিজমিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে।

তিনি আরো জানান, দেশীয় মাছ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, অবৈধ জালবিরোধী অভিযান, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, জেলেদের প্রশিক্ষণ এবং অভয়াশ্রম স্থাপনের মতো কর্মসূচি চলমান রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগ কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের পাশাপাশি অষ্টগ্রাম উপজেলা মৎস্য দফতরে দ্রুত স্থায়ী কর্মকর্তা নিয়োগ এবং আইন প্রয়োগ জোরদার করা জরুরি বলে মনে করেন তিনি।