চট্টগ্রাম ব্যুরো
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের বর্তমান পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ২০০টি অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও সহকারী অধ্যাপকের পদ শূন্য রয়েছে। অথচ প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজার রোগী এখানে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন, যেখানে হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা দুই হাজার ২০০। এ ছাড়া দেশের বিভিন্ন মেডিক্যাল কলেজে বেসিক সায়েন্স বিষয়ের শিক্ষকেরও তীব্র সঙ্কট রয়েছে।
শনিবার চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা এখনো অপর্যাপ্ত। তাই স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরো কার্যকর করতে দ্রুত চিকিৎসক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের পাশাপাশি বিদ্যমান অবকাঠামো ও চিকিৎসা সরঞ্জামের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
ড. মুহিত বলেন, শুধু নতুন ভবন নির্মাণ বা মেডিক্যাল কলেজ প্রতিষ্ঠা করলেই স্বাস্থ্যখাতের সমস্যার সমাধান হবে না। কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা, দক্ষ জনবল এবং সমন্বিত ব্যবস্থাপনা। চিকিৎসক, নার্স ও মেডিক্যাল টেকনোলজিস্টের সমন্বিত দল গড়ে তুলতে না পারলে আধুনিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা কঠিন।
স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, গত ১৫ বছরে স্বাস্থ্যখাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করা হলেও পরিকল্পনার ঘাটতি ও অনিয়মের কারণে সেই বিনিয়োগের কাক্সিক্ষত সুফল পাওয়া যায়নি। অনেক হাসপাতালেই ব্যয়বহুল চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনা হলেও সেগুলো বছরের পর বছর অব্যবহৃত রয়েছে। তিনি জানান, কোথাও ১০ বছর আগে কেনা যন্ত্রপাতির মোড়ক পর্যন্ত খোলা হয়নি। আবার কোথাও প্রয়োজনীয় যন্ত্র থাকলেও তা পরিচালনার জন্য প্রশিক্ষিত মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট নেই। অনেক প্রতিষ্ঠানে রিএজেন্ট বা এক্স-রে প্লেটের মতো প্রয়োজনীয় উপকরণের অভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না। অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা: শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন এবং চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজের অধ্যক্ষ জসীম উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।



